শীতকালীন অলিম্পিকের কুর্লিং ইভেন্টে কানাডার অভিজ্ঞ খেলোয়াড় মার্ক কেনেডি (৪৪) দু’বারই প্রতিপক্ষের অভিযোগে ডাবল‑টাচের সন্দেহের মুখে পড়েছেন। প্রথম অভিযোগটি সুইডেনের ওস্কার এরিকসন দলের সঙ্গে ম্যাচের শেষের দিকে উঠে আসে, যেখানে কানাডা ৮-৬ স্কোরে জয়লাভ করে।
এরিকসন দল দাবি করে যে কেনেডি তার পাথরটি হ্যান্ডেল ছেড়ে দেওয়ার পর আবার আঙুল দিয়ে সামান্য ধাক্কা দেন, ফলে পাথরের গতি পরিবর্তিত হয়। টেলিভিশন ক্যামেরা থেকে প্রাপ্ত চিত্রে কখনো কখনো পাথরের সঙ্গে তার স্পর্শ দেখা যায়, যা সুইডেনের দলের সন্দেহকে বাড়িয়ে দেয়।
এই ঘটনার পর বিশ্ব কুর্লিং সংস্থা (World Curling) অতিরিক্ত অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়, যাতে গেমের বাকি অংশে অনুরূপ লঙ্ঘন দ্রুত সনাক্ত করা যায়। এটি কুর্লিং খেলার ঐতিহ্যগত স্ব-শাসন পদ্ধতির থেকে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন, যেখানে আগে খেলোয়াড়দের নিজস্ব বিচারবোধের ওপর নির্ভর করা হতো।
কানাডা যখন পরের দিন সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হয়, তখন আবার একই ধরনের অভিযোগ উঠে। সুইস দল তাদের ৯-৫ জয়ের পর উম্পায়ারকে কেনেডির ডাবল‑টাচের জন্য রিপোর্ট করে। সুইস লিড পাব্লো লাচাট‑কুশেপিন জানান, “রেফারির পাশে থাকাকালীন আমি কেনেডি পাথরটি স্পর্শ করতে দেখেছি। যদিও এটি পাথরের গতি পরিবর্তন না করলেও রেফারির নজরে এ ধরনের কাজ থাকা উচিত।” তিনি চিফ উম্পায়ারকে ইমেইল পাঠিয়ে নিয়মের কঠোর প্রয়োগের অনুরোধ করেন।
প্রথম অভিযোগের পর কেনেডি কিছু সময়ের জন্য তীব্র ভাষা ব্যবহার করার জন্য সতর্কতা পান। তিনি প্রকাশ্যে বলেন, “২৫ বছর ট্যুর এবং চারটি অলিম্পিকের পরেও আমাকে ধোঁকা দেওয়ার অভিযোগে আঘাত লাগে।” তিনি এরিকসনের প্রতি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “আমি তাকে বলেছি যেখানে দরকার সেখানে থামতে।” এই মন্তব্যগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যে তিনি ম্যাচের ফলাফলে অসন্তোষের কারণে উত্তেজিত ছিলেন।
কুর্লিং পাথরে সংযুক্ত সেন্সর হগ লাইন (সবুজ রেখা) অতিক্রমের আগে হ্যান্ডেল ছেড়ে দিলে সবুজ আলো জ্বলে, আর না দিলে অন্য রঙের সংকেত দেয়। এই প্রযুক্তি ডাবল‑টাচের মতো লঙ্ঘন সনাক্ত করতে সহায়তা করে, তবে ক্যামেরা ও সেন্সরের সীমাবদ্ধতার কারণে কখনো কখনো সন্দেহ রয়ে যায়।
বিশ্ব কুর্লিং সংস্থার অতিরিক্ত অফিসার নিয়োগের ফলে গেমের বাকি অংশে নিয়মের প্রয়োগ আরও কঠোর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। খেলোয়াড় ও কোচরা এখন রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতি অধিক মনোযোগ দিচ্ছেন, যাতে কোনো অনিয়ম দ্রুত ধরা পড়ে এবং স্কোরের ন্যায্যতা বজায় থাকে।
কানাডার দল এখনো অলিম্পিকের বাকি ম্যাচে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তবে ডাবল‑টাচের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট সতর্কতা তাদের মনোভাব ও কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে। পরবর্তী প্রতিপক্ষের সঙ্গে ম্যাচে এই বিষয়গুলো কীভাবে পরিচালিত হবে, তা শীতকালীন কুর্লিং ভক্তদের নজরে থাকবে।



