ব্রিটিশ অভিনেতা ও গায়ক জনি ফ্লিনের নতুন চলচ্চিত্র ‘এ প্রেয়ার ফর দ্য ডাইং’ বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (বেরলিনেলা) বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপিত হবে। ছবিটি পরিচালনা করেছেন দারা ভ্যান ডুসেন, এবং সহ-অভিনেতা হিসেবে জঁন সি. রিলি উপস্থিত। দুজনের পারফরম্যান্সের পোস্টার শহরের বিভিন্ন স্থানে ইতিমধ্যে ঝলমল করছে।
ফ্লিন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টেলিভিশন ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তিনি জনপ্রিয় ব্রিটিশ সিরিজ ‘লাভসিক’‑এ প্রধান ভূমিকায় ছিলেন, এবং অটম ডি‑ওয়াইল্ডের ২০২০ সালের ‘এমা’ অভিযোজনের জর্জ নাইটলি চরিত্রে প্রশংসা অর্জন করেন। এছাড়া ২০২৪ সালের ‘রিপলি’ সিরিজে অ্যান্ড্রু স্কটের পাশে ডিকি গ্রিনলিফের ভূমিকায় দেখা গিয়েছে।
২০১৮ সালের ‘ভ্যানিটি ফেয়ার’ মিনিসিরিজে এবং কেট উইনসলেটের পরিচালিত ‘গুডবাই জুন’ ছবিতে তার উপস্থিতি দর্শকদের নজরে আসে; ‘গুডবাই জুন’ ডিসেম্বর মাসে নেটফ্লিক্সে প্রকাশিত হয়। এই ধারাবাহিক সাফল্যগুলো ফ্লিনকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিতি এনে দেয়।
অভিনয় ছাড়াও ফ্লিন একজন সক্রিয় সঙ্গীতশিল্পী। তিনি ‘জনি ফ্লিন অ্যান্ড দ্য সাসেক্স উইট’ ব্যান্ডের প্রধান গায়ক-গীতিকারের ভূমিকায় আছেন এবং এখন পর্যন্ত ছয়টি স্টুডিও অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন। তার সঙ্গীতের শৈলী ফোক ও রক উপাদানকে মিশ্রিত করে, যা ভক্তদের মধ্যে সমাদৃত।
বার্লিনেলা ইউরোপের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসব, যেখানে বিশ্বজুড়ে নতুন চলচ্চিত্রের প্রথম প্রদর্শনী হয়। ‘এ প্রেয়ার ফর দ্য ডাইং’ এই মঞ্চে উপস্থাপিত হওয়ায় ফ্লিনের ক্যারিয়ারে নতুন মাইলফলক যুক্ত হয়েছে। উৎসবের দর্শক ও সমালোচকরা এই ছবির অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
ফ্লিনের মতে, ছবিটি কোনো একক ধারার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি পশ্চিমা চলচ্চিত্র, ভয়াবহতা বা ঐতিহাসিক নাটকের সীমা অতিক্রম করে একটি স্বতন্ত্র স্বর তৈরি করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, “এটি কোনো নির্দিষ্ট শৈলীর মধ্যে ফিট করা কঠিন, তাই এটিকে আলাদা কিছু হিসেবে দেখা উচিত।” এই মন্তব্য ছবির বহুমাত্রিক প্রকৃতিকে তুলে ধরে।
‘এ প্রেয়ার ফর দ্য ডাইং’ স্টুয়ার্ট ও’ন্যানের একই নামের উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে তৈরি, এবং বাইবেলের ‘ইব্রাহিমের বই’ থেকে অনুপ্রাণিত। উপন্যাসের গভীর মানবিক দুঃখ ও ন্যায়বিচারের অনুসন্ধানকে চলচ্চিত্রে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করা হয়েছে।
কাহিনী ১৮৭০ সালের উইসকনসিনের ‘ফ্রেন্ডশিপ’ নামক ছোট শহরে স্থাপিত। গৃহযুদ্ধের সময় সৈনিক হিসেবে লড়াই করা জ্যাকব হ্যানসেন (ফ্লিন) যুদ্ধের ট্রমা থেকে মুক্তি পেতে সংগ্রাম করে। তার স্ক্যান্ডিনেভিয়ান বংশধরত্ব এবং যুদ্ধের অভিজ্ঞতা চরিত্রের গভীরতা বাড়িয়ে দেয়।
যুদ্ধের পর জ্যাকব শহরের শেরিফ, অন্ত্যেষ্টিকর্তা এবং পাস্টর হিসেবে একাধিক দায়িত্ব গ্রহণ করে। তিনি মর্তা (ক্রিস্টিন কুজাথ থর্প) নামের নারীর সঙ্গে বিবাহিত এবং তাদের একটি ছোট সন্তান রয়েছে। পরিবার গঠন করে তিনি শান্তিপূর্ণ জীবন গড়ার চেষ্টা করেন, তবে অতীতের ছায়া তাকে তাড়া করে।
শহরে একটি মারাত্মক রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে, যা স্থানীয় ডাক্তার (রিলি) নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হন। রোগের বিস্তার শহরের বাসিন্দাদের জীবনের ওপর হুমকি সৃষ্টি করে, এবং জ্যাকবকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে। তিনি রোগের মোকাবিলায় যে কোনো উপায় ব্যবহার করতে প্রস্তুত।
ফ্লিন উল্লেখ করেন, দারা ভ্যান ডুসেনের এই চলচ্চিত্রটি তৈরি করতে তাকে বহু বাধা অতিক্রম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “দর্শকের চোখে তার দৃষ্টিভঙ্গি পৌঁছাতে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে।” পরিচালককে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় যে দৃঢ়তা দেখিয়েছেন, তা ছবির শক্তিতে প্রতিফলিত হয়েছে।
বার্লিনের রাস্তায় উঁচু বিলবোর্ডে ফ্লিন ও রিলির ছবি ঝলমল করছে, যা দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল বাড়িয়ে তুলেছে। এই প্রচারাভিযান ছবির থিম ও পরিবেশকে ভিজ্যুয়ালভাবে তুলে ধরতে সহায়তা করছে।
‘এ প্রেয়ার ফর দ্য ডাইং’ ফ্লিনের ক্যারিয়ারে নতুন দিক যোগ করেছে, যেখানে তিনি ঐতিহাসিক চরিত্রের পাশাপাশি মানবিক দুঃখের গভীরতা অন্বেষণ করছেন। দর্শকরা এই অনন্য গল্পের সঙ্গে তার পারফরম্যান্সের অপেক্ষা করছেন।
চলচ্চিত্রটি বার্লিনেলা শেষে আন্তর্জাতিক বণ্টনের পথে অগ্রসর হবে, এবং নেটফ্লিক্সসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। ফ্লিনের বহুমুখী প্রতিভা এবং ভ্যান ডুসেনের দৃষ্টিভঙ্গি মিলিয়ে এই কাজটি বিশ্বব্যাপী প্রশংসা অর্জন করতে পারে।



