বেরলিনের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (বেরলিনালে) একটি ব্যস্ত শনিবারে, হ্যারি পটার সিরিজের প্রাক্তন অভিনেতা রুপার্ট গ্রিন্ট ‘নাইটবর্ন’ ছবির প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত হয়ে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে তার মতামত প্রকাশ করেন। তিনি ফ্যাসিবাদের উত্থানকে কঠোরভাবে নিন্দা করেন এবং বলছেন, তিনি সব সময় কথা বলেন না, তবে কখন কথা বলবেন তা তিনি নিজের বিবেচনায় নির্ধারণ করেন।
হ্যানা বার্গহোমের পরিচালিত ‘নাইটবর্ন’ ফিনল্যান্ডের এক দূরবর্তী বাড়িতে বসবাসরত দম্পতি সাগা (সেইদি হার্লা) ও তার ব্রিটিশ স্বামী জোন (রুপার্ট গ্রিন্ট) এর গল্প। দম্পতি সন্তান প্রত্যাশা করার পর, শিশুটি স্বাভাবিকের থেকে ভিন্ন হওয়ায় সাগা একটি অশুভ সত্যের সন্দেহে জর্জরিত হন, যা তাদের বিবাহকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
চিত্রটির মূল চরিত্রে সাগা ও জোনের পাশাপাশি সিইউডি-তে কাজ করা অন্যান্য অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও অংশ নেন, যার মধ্যে রয়েছে সিইউডি-তে কাজ করা ফিনিশ অভিনেত্রী সেইদি হার্লা, যিনি সাগা চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ছবির সহ-লেখক ইলজা রাউটসি, প্রযোজক ড্যানিয়েল কুইতুন্নেন এবং সঙ্গীত রচয়িতা ইক্কা টপিনেনও প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন।
প্রেস কনফারেন্সটি বর্লিনের একটি আধুনিক কনফারেন্স হলের বড় মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বার্গহোমের কাঁধে একটি তরমুজের পিন দেখা যায়, যা তিনি ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন প্রকাশের জন্য পরিধান করেছেন। এই সূক্ষ্ম ইশারা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক আলোচনার প্রতি চলচ্চিত্র শিল্পের সংবেদনশীলতা তুলে ধরেছে।
গ্রিন্টের মন্তব্যের সময় তিনি স্পষ্ট করে বললেন, ফ্যাসিবাদী প্রবণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিল্পী হিসেবে তার দায়িত্ব বাড়ে। তিনি উল্লেখ করেন, তিনি সব সময় রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কথা বলেন না, তবে যখন তিনি মনে করেন সময় উপযুক্ত, তখনই তার কণ্ঠস্বর শোনাতে চান।
ইলজা রাউটসি, যিনি ছবির সহ-লেখক, তিনি শিল্পের মানবিক দিককে তুলে ধরার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বে চলমান যুদ্ধ, ইউক্রেনের সংঘাত এবং ফিলিস্তিনের গণহত্যা ইত্যাদি বিষয়গুলোকে আলোচনার মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানো দরকার। তিনি বলেন, শিল্পী ও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের উচিত এই সমস্যাগুলোকে সৃজনশীলভাবে উপস্থাপন করা।
বার্গহোমের তরমুজের পিনের ব্যাখ্যা তিনি সংক্ষিপ্তভাবে দেন যে, একটি চলচ্চিত্র সব বিষয়কে একসাথে আচ্ছাদন করতে পারে না, তবে নির্দিষ্ট বিষয়ের প্রতি দৃষ্টিপাত করা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জোর দেন, চলচ্চিত্রের মূল লক্ষ্য হল মানবিক সম্পর্ক ও পারিবারিক দ্বন্দ্বকে তুলে ধরা, তবে সামাজিক সমস্যার প্রতি সংবেদনশীলতা বজায় রাখা উচিত।
প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত প্রযোজক ড্যানিয়েল কুইতুন্নেন চলচ্চিত্রের উৎপাদন প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক বাজারে তার সম্ভাবনা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেন। সঙ্গীত রচয়িতা ইক্কা টপিনেন চলচ্চিত্রের সাউন্ডট্র্যাকের রচনায় ফিনিশ ঐতিহ্যবাহী সুরের ব্যবহারকে উল্লেখ করেন, যা ছবির মেজাজকে আরও গভীর করে তুলেছে।
বেরলিনালে একই দিনে পামেলা অ্যান্ডারসন, কলাম টার্নার এবং চার্লি এক্সসিএইচ সহ বহু আন্তর্জাতিক তারকা উপস্থিত ছিলেন। কলাম টার্নার তার নতুন চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত বন্ডের গুজব নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দেন, আর পামেলা অ্যান্ডারসন তার নিজের প্রকল্পের প্রচার করেন।
চার্লি এক্সসিএইচ, যিনি ‘দ্য মোমেন্ট’ ছবিতে অভিনয় করেছেন, তিনি বর্লিনালে তার নতুন সিঙ্গেল ‘ব্র্যাট’ এর শেষের দিকে বিদায় জানান। তিনি উৎসবে রাজনৈতিক চলচ্চিত্রের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সময়ে শিল্পের দায়িত্ব হল সামাজিক সমস্যাগুলোকে উপেক্ষা না করা।
বেরলিনালের এই প্রেস কনফারেন্সটি দেখায় যে, আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলো শুধুমাত্র সিনেমা প্রদর্শনের মঞ্চ নয়, বরং শিল্পী ও স্রষ্টাদের জন্য রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার ক্ষেত্রও হয়ে উঠেছে। গ্রিন্টের মতামত ও বার্গহোমের সূক্ষ্ম ইশারা এই প্রবণতাকে আরও দৃঢ় করে তুলেছে।
চলচ্চিত্র প্রেমিক ও সাধারণ দর্শক উভয়ই এখন এই ধরনের আলোচনাকে স্বাগত জানাচ্ছেন, কারণ এটি সিনেমাকে শুধু বিনোদন নয়, বরং সমাজের প্রতিফলন হিসেবে উপস্থাপন করে। ভবিষ্যতে আরও বেশি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচিত হবে বলে আশা করা যায়।



