১৯৯১ সালের শীতকালে ‘দ্য সাইলেন্স অফ দ্য ল্যাম্বস’ চলচ্চিত্রটি থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয় এবং একই বছরই জুডি ফস্টার ও অ্যান্থনি হপকিন্সের পারফরম্যান্সে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়। চলচ্চিত্রটি জোনাথন ডেমের পরিচালনায় তৈরি হয় এবং থমাস হ্যারিসের উপন্যাসের ভিত্তিতে তৈরি।
প্রকাশের পর থেকে এই থ্রিলারটি একাধিক পুরস্কার জিতেছে, যার মধ্যে রয়েছে অস্কার ও গ্লোবের পুরস্কার। চলচ্চিত্রের গাঢ় পরিবেশ ও জটিল চরিত্র বিশ্লেষণকে বহু প্রজন্মের দর্শক প্রশংসা করেছে।
বছরের পর বছর, ‘বাফেলো বিল’ নামের সিরিয়াল কিলার চরিত্রের উপস্থাপনাকে লিঙ্গ‑অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও ট্রান্সজেন্ডার পরিচয় হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের কিছু সদস্য এই চরিত্রের চিত্রায়নকে ট্রান্সফোবিক বলে সমালোচনা করেছে।
এই সমালোচনার আলোকে, চরিত্রের মূল অভিনেতা টেড লেভিনে সম্প্রতি তার অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, চলচ্চিত্রের কিছু দিক আজকের দৃষ্টিকোণ থেকে যথাযথ নয় এবং তা পুনর্বিবেচনা করা দরকার।
লেভিনে উল্লেখ করেন, “ফিল্মের কিছু লাইন এখন দেখলে অনুপযুক্ত মনে হয়।” তিনি বলেন, “আমরা এখন বেশি জানি এবং ট্রান্সজেন্ডার বিষয় নিয়ে বেশি সচেতন।” এই মন্তব্যগুলোতে তিনি নিজের পূর্বের অবস্থান থেকে পরিবর্তনকে তুলে ধরেছেন।
চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের সময় তিনি কোনো আপত্তি প্রকাশ করেননি, তবে পরবর্তী দশকে ট্রান্স সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে তার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তিত হয়েছে। তিনি বলেন, “সময়ের সাথে সাথে ট্রান্স লোকজনের সঙ্গে কাজ করে আমি তাদের সংস্কৃতি ও বাস্তবতা সম্পর্কে আরও জানার সুযোগ পেয়েছি।”
এই অভিজ্ঞতা তাকে চলচ্চিত্রের লিঙ্গগত উপস্থাপনায় আরও সমবেদনা ও দায়িত্ববোধের দিকে নিয়ে গেছে। লেভিনে তার ক্যারিয়ারে ‘হিট’, ‘দ্য ফাস্ট অ্যান্ড দ্য ফিউরিয়াস’ এবং টিভি সিরিজ ‘মনক’ সহ বহু প্রকল্পে কাজ করেছেন।
সম্প্রতি তিনি নেটফ্লিক্সের নতুন প্রকল্প ‘সামথিং ভেরি ব্যাড ইজ গোনা হ্যাপেন’‑এ অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন। এই সিরিজটি এখনও প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে, তবে তার অংশগ্রহণে দর্শকরা আগ্রহী।
‘দ্য সাইলেন্স অফ দ্য ল্যাম্বস’ দলের এই স্বীকারোক্তি চলচ্চিত্র শিল্পে পুরনো কাজের পুনর্মূল্যায়নের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রান্সফোবিয়া নিয়ে আলোচনায় শিল্পের দায়িত্ব ও পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে।
অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, এই ধরনের স্বীকারোক্তি ভবিষ্যতে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সংবেদনশীল চিত্রায়নের দিকে ধাবিত করবে। চলচ্চিত্র নির্মাতা ও অভিনেতারা এখন সমাজের পরিবর্তনশীল মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে সচেতন হচ্ছেন।
‘দ্য সাইলেন্স অফ দ্য ল্যাম্বস’ এখনো একটি ক্লাসিক হিসেবে রয়ে গেছে, তবে তার ঐতিহ্যকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্বিবেচনা করা শিল্পের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ট্রান্স সম্প্রদায়ের উদ্বেগকে স্বীকার করে, চলচ্চিত্রের উত্তরাধিকারকে আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব হবে।



