বাংলাদেশের ক্রিকেট শাসক সংস্থা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল রবিবার কলম্বোর আর. প্রিমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়া‑পাকিস্তান টি২০ ম্যাচে উপস্থিতির আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের দল আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ে অংশ না নেওয়ায় তিনি সেখানে যাওয়া যুক্তিসঙ্গত মনে করেন না।
বুলবুলের মূল পরিকল্পনা ছিল কলম্বোতে যাত্রা করা, তবে দল না থাকলে তার উপস্থিতি কী কাজে লাগবে, এ নিয়ে দ্বিধা প্রকাশের পর তিনি আমন্ত্রণটি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দল না থাকলে আমি কীভাবে সেখানে বসে থাকব?” এই সিদ্ধান্তের পেছনে তার দলের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ইচ্ছা স্পষ্ট।
প্রতিনিধি আজ ঢাকা থেকে ফিরে এসেছেন, যেখানে তিনি কুয়েতের এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (ACC) সভায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। কুয়েতের সফরের পর তিনি তৎক্ষণাৎ ঢাকায় ফিরে এসে এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, “আজও আমাকে আগামীকাল সকালে উড়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল, তবে আমি না বলেছি।” তার এই প্রত্যাখ্যানের মূল কারণই দল না থাকা।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC) বুলবুলকে কলম্বোতে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছিল। কারণ, পূর্বে তিনি পাকিস্তানের ইন্ডিয়া‑পাকিস্তান ম্যাচে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ICC-এর এই অনুরোধের পরেও তিনি দলকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমন্ত্রণটি প্রত্যাখ্যান করেন।
ইসিটি২০ বিশ্বকাপের টুর্নামেন্টটি রাজনৈতিক উত্তেজনার মেঘে ঢাকা ছিল। বাংলাদেশ নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভারত সফর প্রত্যাখ্যান করেছিল, ফলে স্কটল্যান্ডকে পরিবর্তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই পরিবর্তনের ফলে পাকিস্তান প্রথমে ইন্ডিয়া‑পাকিস্তান ম্যাচে অংশ নিতে অস্বীকার করে, তবে ICC-এর আশ্বাসের পর তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হয়।
বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের ফলে ভারত সফর বাতিলের পর স্কটল্যান্ডকে দল পরিবর্তে যোগ করা হয়। এই পরিবর্তনই পাকিস্তানের প্রথম প্রত্যাখ্যানের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পরে ICC কর্তৃক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পর পাকিস্তান আবার ইন্ডিয়া‑পাকিস্তান ম্যাচে অংশ নিতে সম্মত হয়।
পাকিস্তান ও ইন্ডিয়ার ম্যাচ নিশ্চিত করতে লাহোরে তীব্র আলোচনা হয়। আলোচনায় ICC উপ-চেয়ারম্যান ইমরান খোয়াজা, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহসিন নকভি অংশ নেন। এই মিটিংয়ের ফলস্বরূপ পাকিস্তানকে ম্যাচে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়।
বুলবুল জানান, ICC তার উপস্থিতি নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিল, কারণ তিনি ইন্ডিয়া‑পাকিস্তান ম্যাচের আয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তবু তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমার দলই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।” তার এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয় যে, ব্যক্তিগত সম্মান বা আন্তর্জাতিক দায়িত্বের চেয়ে দেশের দলের স্বার্থকে তিনি প্রথমে রাখেন।
এই সিদ্ধান্তের পর, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরবর্তী পরিকল্পনা ও টুর্নামেন্টের সূচি এখনও নির্ধারিত হচ্ছে। বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশ না থাকায় বুলবুলের উপস্থিতি না থাকা স্বাভাবিক বলে তিনি উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতে দলকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিরিয়ে আনার জন্য নিরাপত্তা ও লজিস্টিক বিষয়গুলো সমাধান করা হবে।



