ইংল্যান্ড টি২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে পাঁচ উইকেটের পার্থক্যে পরাজিত করে ১৭ বছর পর ইউরোপীয় দলকে হারানোর জিন্স ভেঙে দিয়েছে। শিকাগোতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ইংল্যান্ড ১৫৩ রান চেয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত ১‑৫ উইকেটের পার্থক্যে জয়লাভ করে। এই জয় ইংল্যান্ডের টি২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে ইউরোপীয় দলের বিরুদ্ধে প্রথম জয় হিসেবে রেকর্ড হয়।
ইংল্যান্ডের দুইবারের (২০১০ ও ২০২১) বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নশিপের সত্ত্বেও ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের মুখে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থতা দেখা গিয়েছিল। ২০০৯ সালে লর্ডসের মাঠে নেদারল্যান্ডসের কাছে হারের পর থেকে, ২০১৪‑এ আবার নেদারল্যান্ডস, ২০২২‑এ আয়ারল্যান্ড এবং সর্বশেষে ২০২৪‑এ স্কটল্যান্ডের কাছে পরাজিত হয়। ২০১০ সালে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচ বৃষ্টির কারণে বাতিল হয়।
এই ধারাবাহিক পরাজয়কে শেষ করার মূল কারণ ছিল টম ব্যান্টনের স্থিতিশীল পারফরম্যান্স। ব্যান্টন ৪১ ball-এ ৬৩ রান না-আউট করে স্কটল্যান্ডের লক্ষ্য ১৫৩ রানের পিছনে ইংল্যান্ডকে নিয়ে গেল। তার আগে ইংল্যান্ডের শুরুর পর্যায়ে ১৩ রান-২ উইকেট এবং আট ওভারের পর ৫৪ রান-২ উইকেটের অবস্থায় চাপ ছিল।
ব্যান্টন চতুর্থ ওভার থেকে গতি বাড়িয়ে নাইনথ ওভারে মার্ক ওয়াটকে লক্ষ্য করে তিনটি উচ্চ-উচ্চ ছয়টি মারল, মোট ২২ রানের অতিরিক্ত চাপ কমিয়ে দিল। এই আক্রমণাত্মক চালনা ইংল্যান্ডের স্কোরে দ্রুত বৃদ্ধি ঘটায় এবং পরবর্তী ওভারে শীর্ষে পৌঁছাতে সাহায্য করে।
ব্যান্টনের আক্রমণে জ্যাকব বেহেল এবং স্যাম কার্রানও সংক্ষিপ্ত সময়ে গুরুত্বপূর্ণ রান যোগ করেন, যা টিমের মোট স্কোরকে স্থিতিশীল করে। উভয় খেলোয়াড়ের সংযোজন ইংল্যান্ডকে লক্ষ্য অর্জনের পথে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যায়।
ক্যাপ্টেন হ্যারি ব্রুক ব্যান্টনের পারফরম্যান্সে উচ্চ প্রশংসা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন ব্যান্টন একা একা শট চালিয়ে টিমকে জয়ের পথে নিয়ে গেছেন এবং তার খেলা সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ব্রুকের মতে ব্যান্টনের রিভার্স সুইপের দক্ষতা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত, তবে স্কটল্যান্ডের বোলাররা তা সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করলেও ব্যান্টন তার খেলা সামঞ্জস্য করে সফল হয়েছে।
ব্যান্টনের শক্তি তার লম্বা লিভার এবং বলকে যেকোনো দিক থেকে দূরে পাঠানোর ক্ষমতায় নিহিত, যা আজকের ম্যাচে স্পষ্টভাবে দেখা গিয়েছে। ক্যাপ্টেনের মতে, এখন ব্যান্টন নম্বর চার অবস্থানে স্থিতিশীল, যা তার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য আদর্শ।
এই জয় ইংল্যান্ডের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে ফেলেছিল এবং পরের ম্যাচে নেপালের বিরুদ্ধে মাত্র চার রান পার্থক্যে জয়লাভ করেছিল। স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয় তাদের আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার করেছে এবং টেবিলে অবস্থান শক্তিশালী করেছে।
ইংল্যান্ডের পরবর্তী ম্যাচে তারা গ্রুপের আরেকটি ইউরোপীয় দল, নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে, যা টুর্নামেন্টের অগ্রগতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দলটি এখন পর্যন্ত অর্জিত জয়কে ভিত্তি করে টার্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে প্রবেশের লক্ষ্য রাখছে।



