শুক্রবার ভোরে, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় বিএনপির একটি স্থানীয় কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। রূপগঞ্জ থানা প্রধান সবজেল হোসেনের মতে, ঘটনাটি শিমুলিয়া বাজারের কাছাকাছি, প্রায় পঁচিশটা টায় ঘটেছে। গৃহবস্তু ব্যবহার করে আগুন জ্বালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, গ্লাস ভেঙে জানালার মাধ্যমে কোনো দাহ্য পদার্থ, সম্ভবত পেট্রোল, ঢেলে আগুন জ্বালানো হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা আসবাবপত্র দ্রুত পুড়ে যায়। স্থানীয় যুবদল ও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকরা আগুন নেভাতে সহায়তা করেন, তবে ক্ষতি বড় পরিমাণে হয়েছে।
রূপগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মানসুর মিয়া জানান, কার্যালয়ের নির্মাণ কাজ এক সপ্তাহ আগে শেষ হয়েছে এবং শুক্রবার রাত পর্যন্ত নেতাকর্মীরা সেখানে কাজ করছিলেন। ভোরের দিকে অগ্নিকাণ্ড ঘটার পর, তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভাতে সাহায্য করেন। মিয়া উল্লেখ করেন, পেট্রোল বোমা ব্যবহার করা হয়েছে বলে তারা সন্দেহ করেন; অন্যথায় আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ত না।
বিএনপি রূপগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক বাছির উদ্দিন বাচ্চু ঘটনাটির পেছনে বিরোধী দলের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিরোধের কারণে এমন ঘটনার সম্ভাবনা বাড়তে পারে এবং তদন্তে এই দিকটি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা উচিত।
পুলিশের মতে, অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত দুইজন সন্দেহভাজন চিহ্নিত হয়েছে। তাদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে তদন্তের অংশ হিসেবে তাদের গ্রেফতার করা হবে। সবজেল হোসেন জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে, বিএনপি নেতারা লিখিত অভিযোগ দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা দাবি করেন, লিখিত অভিযোগ দাখিলের পর তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অগ্নিকাণ্ডের পর, রূপগঞ্জ থানা থেকে জানানো হয়েছে যে তদন্ত চলমান এবং প্রমাণ সংগ্রহের জন্য ফরেনসিক দলকে ডাকা হয়েছে। গ্লাসের টুকরা, দাহ্য পদার্থের অবশিষ্টাংশ এবং ক্যামেরা রেকর্ডিংসহ বিভিন্ন প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, অগ্নিসংযোগ একটি গুরুতর অপরাধ এবং দণ্ডবিধি অনুযায়ী শাস্তি নির্ধারিত। সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হলে, আদালতে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবকরা নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছেন। ভবিষ্যতে এমন ধরনের ঘটনা রোধে, স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলে সবাই সম্মত।
পুলিশের তদন্ত চলাকালীন, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে, আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।



