আগামী রবিবার সন্ধ্যা সাতটায় কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অন্যতম উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ভারত ক্রিকেট দল ও পাকিস্তান ক্রিকেট দল মুখোমুখি হবে। দুই দলের দীর্ঘস্থায়ী প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং টুর্নামেন্টের শীর্ষস্থানীয় গুরুত্বের কারণে এই ম্যাচটি শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষের তীব্র নজরে রয়েছে। এই মুখোমুখি ম্যাচটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ধাপের অংশ।
শ্রীলঙ্কা পুলিশ নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। শহরের প্রধান রাস্তাগুলোতে অতিরিক্ত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণকারী ইউনিট স্থাপন করা হবে, এবং স্টেডিয়ামের চারপাশে সশস্ত্র নিরাপত্তা দল মোতায়েন করা হবে। দর্শক ও কর্মীদের জন্য নিরাপত্তা চেকপয়েন্টে ধীর গতি বজায় রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধ করা যায়। তদুপরি, নিরাপত্তা দলগুলোকে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের মুখপাত্র এফ টি উটলার উল্লেখ করেন, বিমানবন্দর থেকে হোটেল এবং স্টেডিয়াম পর্যন্ত ভারত ক্রিকেট দল ও পাকিস্তান ক্রিকেট দলের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনন্য হবে এবং ম্যাচের সমাপ্তি পর্যন্ত তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে গাড়ি চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, হোটেল ও বিমানবন্দরে প্রবেশের সময়ও কঠোর নিরাপত্তা চেক প্রয়োগ করা হবে।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে অতীতের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিবেচনা করে সরকার এই ইভেন্টকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। নিরাপত্তা ঘাটতি কোনোভাবেই ঘটতে না দেওয়ার জন্য সকল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি পর্যায়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে।
ম্যাচের আয়োজন নিয়ে কয়েক সপ্তাহের অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও, পাকিস্তান ক্রিকেট দল প্রথমে বয়কটের ইঙ্গিত দিয়েছিল। তবে আইসিসি, বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আলোচনার পর পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। বয়কটের মূল কারণ ছিল নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা, তবে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর সমন্বয়ে উভয় পক্ষের উদ্বেগ সমাধান হয়েছে। অংশগ্রহণের চূড়ান্ত অনুমোদন শ্রীলঙ্কা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের অনুমোদন পেয়ে নেওয়া হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে ফোন করে ম্যাচে অংশগ্রহণের অনুরোধ জানান। এই কূটনৈতিক উদ্যোগের ফলে দুই দেশের ক্রীড়া সংস্থার মধ্যে যোগাযোগের সেতু শক্তিশালী হয়েছে। ফোনের মাধ্যমে সরাসরি আলোচনা হওয়ায় অংশগ্রহণের প্রক্রিয়া দ্রুততর হয়েছে।
দর্শকদের জন্য পুলিশ নির্দেশ দেয় যে, ম্যাচের শুরু সময়ের অন্তত চার ঘণ্টা আগে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হওয়া উচিত। গেটগুলো দুপুর তিনটায় থেকে খোলা থাকবে, তবে নিরাপত্তা তল্লাশির সময়ে ব্যাগ চেক এবং ধাতব বস্তু নিষিদ্ধ থাকবে, তাই ভিড় এড়াতে দ্রুত আগমন করা উচিৎ। স্টেডিয়ামের পার্কিং এলাকা সীমিত হওয়ায় পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা দলে ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে দর্শকরা নিরাপদে ম্যাচ উপভোগ করতে পারেন।
এই ম্যাচটি চলতি টুর্নামেন্টে ভারত ক্রিকেট দলের জন্য প্রথমবারের মতো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা দলটির আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। নিরপেক্ষ ময়দানে খেলায় উভয় দলই সমান শর্তে পারফরম্যান্স প্রদর্শনের সুযোগ পাবে। টুর্নামেন্টের পরবর্তী ধাপগুলোতে অন্যান্য দলও একই নিরাপত্তা মান বজায় রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দুটি দেশের ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা শীর্ষে, এবং স্টেডিয়ামের ক্ষমতা পূর্ণভাবে ব্যবহার করা হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। নিরাপত্তা দলে ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। ভক্তদের নিরাপদে ম্যাচ উপভোগের জন্য সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।



