নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা, শিমুলিয়া বাজারে আজ প্রাতঃকালীন ৩:৪৫ টার দিকে বিএনপি স্থানীয় অফিসে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনাস্থলে জানালার ভাঙ্গন ও জ্বালানী ঢালার পর দ্রুত অগ্নি ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় পুলিশ অফিসার শাবজেল হোসেনের মতে, দহনের সূত্রপাতের সময় কোনো অপ্রত্যাশিত শব্দ শোনা যায়নি।
রূপগঞ্জ থানা অফিসার‑ইন‑চার্জ শাবজেল হোসেন জানান, অপরাধীরা অফিসের এক জানালা ভেঙে তেল বা অনুরূপ কোনো পদার্থ ভেতরে ঢেলে আগুন জ্বালায়। দহনের তীব্রতা ও দ্রুত বিস্তার থেকে দেখা যায়, জ্বালানি ব্যবহার করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে দুইজন সন্দেহভাজন চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের অনুসন্ধান চালু রয়েছে। তদন্তকর্তারা উল্লেখ করেছেন, সন্দেহভাজনদের পরিচয় ও অবস্থান এখনও নিশ্চিত করা বাকি।
রূপগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মনসুর মিয়া জানান, অফিসের নির্মাণ কাজ এক মাস আগে শুরু হয় এবং এক সপ্তাহ আগে সম্পন্ন হয়। তিনি যোগ করেন, শুক্রবার রাত পর্যন্ত পার্টির নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
মোনসুর মিয়ার মতে, দহন ঘটার সময় অফিসের ভিতরে কোনো কর্মী উপস্থিত ছিল না, কারণ দহন প্রাতঃকালীন শুরুর দিকে ঘটেছে। তিনি উল্লেখ করেন, দহনের আগে অফিসের দরজা ও জানালার অবস্থা স্বাভাবিক ছিল।
অগ্নি শিখা দ্রুত বাড়ার ফলে আশেপাশের বাসিন্দারা তৎক্ষণাৎ সহায়তা করেন। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও প্রতিবেশীরা পানির বালতি ও হোসা ব্যবহার করে আগুন নিভিয়ে ফেলতে সক্ষম হন। তবে অফিসের আসবাবপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মোনসুর মিয়া বলেন, দহনের দ্রুত বিস্তার থেকে স্পষ্ট যে এটি পেট্রোল বোমা ব্যবহার করে করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, যদি তেল না ব্যবহার করা হতো তবে অগ্নি এত দ্রুত ছড়াত না।
উপজেলা বিএনপি জেনারেল সেক্রেটারি বশির উদ্দিন বাচ্চু উল্লেখ করেন, এই ঘটনার পেছনে বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, এমন ধরনের আক্রমণ পার্টির নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে প্রকাশ করে।
অফিসার‑ইন‑চার্জ শাবজেল হোসেন জানান, স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ইতিমধ্যে লিখিত অভিযোগ প্রস্তুত করছেন। তিনি যোগ করেন, অভিযোগ দাখিলের পর যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
পুলিশের মতে, বর্তমান পর্যায়ে তদন্ত চলমান এবং অতিরিক্ত প্রমাণ সংগ্রহের জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণ করা হবে। দহনের সময় ক্যামেরা রেকর্ডিং বা সাক্ষীর বিবৃতি সংগ্রহের কাজও সমান্তরালে চালু রয়েছে।
অধিক তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত, ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা বাড়াতে স্থানীয় প্রশাসন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা উন্মোচিত হয়েছে।



