পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি মঙ্গলবার মিডিয়াকে জানালেন, ইসলামাবাদের নতুন জেল নির্মাণ কাজ দুই মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে এবং তাৎক্ষণিকভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে সেখানে স্থানান্তর করা হবে। নতুন কারাগারটিতে চিকিৎসা সংক্রান্ত সুবিধা থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন, যাতে বন্দীর স্বাস্থ্যগত চাহিদা পূরণ করা যায়।
ইমরান খান, যিনি তেহরিক‑ই‑ইনসাফ (পিটিআই) দলের নেতা, দীর্ঘদিনের একাকী কারাবাসে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে। বিশেষ করে তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়ে প্রায় ৮৫ শতাংশ হারিয়ে গেছে। এই তথ্য সুপ্রিম কোর্টের নিযুক্ত অ্যামিকাস কিউরি সালমান সাফদার একটি প্রতিবেদন থেকে উঠে এসেছে, যেখানে জেল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ইমরানের পরিবার ও সহকর্মীরা জেল কর্তৃপক্ষের প্রতি অভিযোগ তুলেছেন যে, সামরিক তত্ত্বাবধানে বন্দীর প্রতি ‘সুপরিকল্পিত, অমানবিক ও অবৈধ’ আচরণ করা হচ্ছে। পূর্বে ইমরানের বোন আলিমা আদিয়ালা জেল সুপারিনটেন্ডেন্ট আব্দুল গফুর আঞ্জুমের বিরুদ্ধে আদালতে অবমাননার অভিযোগ দায়ের করেছিল। পিটিআই নেতৃবৃন্দও আঞ্জুমের বিরুদ্ধে ইমরানের প্রতি অবহেলার অভিযোগ তুলে ধরছেন।
সুপ্রিম কোর্টের একটি দুই সদস্যের বেঞ্চ ইমরানের স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে, তাকে তার সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে, আদালত ইমরানের মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করার জন্য সোমবার পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করেছে। প্রধান বিচারপতি ইয়াহিয়া আফ্রিদি জোর দিয়ে বলেছেন, “ইমরানের স্বাস্থ্যের অবস্থা এখন সবচেয়ে জরুরি, তাই দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহও ইমরানের চিকিৎসা সংক্রান্ত স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছেন, জানিয়ে যে তিনি নিজের পছন্দের কোনো ডাক্তারের কাছে চোখের পরীক্ষা করাতে পারবেন। ইমরান দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা সুবিধা চেয়েও তা উপেক্ষা করা হয়েছে বলে তার সমর্থকরা অভিযোগ তুলেছেন।
ইমরানের স্বাস্থ্য সমস্যার ওপর সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের ফলে, সরকারকে এখন নতুন জেলে স্থানান্তরের প্রস্তুতি নিতে হবে, যেখানে আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা থাকবে। এই পদক্ষেপটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল, কারণ ইমরান পাকিস্তানের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, এবং তার ভবিষ্যৎ অবস্থান দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে প্রভাব ফেলতে পারে।
অধিকন্তু, ইমরানের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত মামলায় আদালতের ত্বরিত সিদ্ধান্তের পর, সরকারকে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার সমালোচনা এড়ানো যায়। ইমরানের পরিবার এবং সমর্থকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, নতুন জেলে তার স্বাস্থ্যসেবা উন্নত হবে এবং তিনি তার সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাবেন।
এই developments এর ফলে পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দিকনির্দেশনা দেখা যাবে, বিশেষ করে সামরিক ও নাগরিক কর্তৃপক্ষের মধ্যে সম্পর্কের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। ইমরানের ভবিষ্যৎ অবস্থান এবং তার পার্টির কৌশলগত পদক্ষেপগুলো দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



