19 C
Dhaka
Sunday, February 15, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধমধ্যপ্রদেশের খান্ডওয়ায় ১৫ বছরের ক্ষোভে পুলিশ সদস্যের বাড়িতে চুরি, সন্দেহভাজন দীপেশ গ্রেপ্তার

মধ্যপ্রদেশের খান্ডওয়ায় ১৫ বছরের ক্ষোভে পুলিশ সদস্যের বাড়িতে চুরি, সন্দেহভাজন দীপেশ গ্রেপ্তার

মধ্যপ্রদেশের খান্ডওয়া জেলায় ২০ জানুয়ারি রাতে দুইজন পুলিশ কনস্টেবলের (করনপাল সিং ও সুরেশ খাট) বাসায় চুরি ঘটেছে। গয়না ও নগদসহ কয়েক লাখ টাকার সম্পদ হারিয়েছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি রেকর্ডে সন্দেহভাজনের চেহারা ধরা পড়ে, যার নাম প্রকাশে দীপেশ। আলিরাজপুর জেলায় বসবাসকারী দীপেশকে একই রাতে পুলিশ লাইনের তদন্তে ধরা পড়ে এবং তার কাছ থেকে প্রায় ত্রিশ হাজার টাকা ও কিছু গয়না জব্দ করা হয়।

চুরির পর পুলিশ দ্রুত সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনের পরিচয় নিশ্চিত করে। তদন্তকর্তারা জানায়, দীপেশ দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন জেলায় স্থানান্তরিত হয়ে পুলিশ সদস্যদের বাড়িতে চুরি করার পরিকল্পনা করছিলেন। তার এই পদ্ধতি ১৫ বছর আগে আলিরাজপুরে এক পুলিশ সদস্যের হাতে মারধরের শিকার হওয়ার পর থেকে গড়ে ওঠে বলে তিনি স্বীকার করেন।

গ্রেপ্তার কার্যক্রমে খান্ডওয়া ও আলিরাজপুর জেলায় ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। প্রযুক্তিগত নজরদারির মাধ্যমে জানা যায়, সন্দেহভাজন বুরহানপুরের দিকে রওনা হয়েছে। তাকে ধরার সময় দীপেশ একটি বাড়ির ছাদ থেকে লাফিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন, ফলে তার হাতে ও পায়ে আঘাত লেগে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে তিনি আদালতে হাজির হন এবং বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়।

খান্ডওয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহেন্দ্র তারনেকর গ্রেপ্তারকে বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে দীপেশের সঙ্গে যুক্ত রমেশ ও ভুরালিয়া নামের দুই সহকারীও অনুসন্ধানাধীন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, দীপেশ চুরির আগে ছদ্মবেশে ফেরিওয়ালা বা অন্যান্য পেশার ভান করে পুলিশ লাইনের আশপাশে ঘুরে বেড়াতেন এবং সুযোগ পেলে গভীর রাতে বাড়িতে প্রবেশ করতেন।

খান্ডওয়া কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রবীণ আর্য জানান, দীপেশের এই অপরাধের পেছনে ১৫ বছর আগে তার ওপর করা মারধরের ঘটনা মূল কারণ। তিনি বলেন, ওই ঘটনার পর থেকে দীপেশের মধ্যে পুলিশের প্রতি গভীর ক্ষোভ জন্ম নিয়েছে, যা তাকে বিশেষভাবে পুলিশ সদস্যদের বাড়িতে চুরি করার দিকে ধাবিত করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকালে জব্দ করা গয়না ও নগদ অর্থের মোট মূল্য প্রায় ত্রিশ হাজার টাকা। এছাড়া, তদন্তে আরও কয়েকটি অনুরূপ চুরির তথ্য পাওয়া গেছে, যা ভবিষ্যতে অতিরিক্ত মামলার দিকে নিয়ে যেতে পারে। পুলিশ এখন পর্যন্ত জানিয়েছে, সন্দেহভাজনের সহকর্মীদের সন্ধান অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনার পর পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা বাড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা একত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে, চুরি সংক্রান্ত অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ায় আনা হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, দীপেশের গ্রেপ্তার এবং তার স্বীকারোক্তি পুলিশ সদস্যদের বাড়িতে চুরি সংক্রান্ত একটি বিরল কেসের সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং সহকর্মী সন্দেহভাজনদের ধরা হলে এই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments