বার্টন আলবিনিতে অনুষ্ঠিত এফএ কাপের চতুর্থ রাউন্ডে ওয়েস্ট হ্যামের দ্বিতীয় দল ১০ জনের দলে অতিরিক্ত সময়ে গেম জিতেছে। ক্যাপ্টেন জাররড বাওয়েন বিশ্রাম নেওয়ার পর, সাবস্টিটিউট ক্রিসেন্সিও সামারভিলের গোল দলকে পঞ্চম রাউন্ডে নিয়ে গেছে।
ওয়েস্ট হ্যামের কোচ নুনো এস্পিরিটো সান্তো ম্যাচের শেষের দিকে সামারভিলকে মাঠে নামিয়েছিলেন, যদিও তিনি তাকে তাজা রাখতে চেয়েছিলেন। তবে সামারভিলের অতিরিক্ত সময়ের গলটি পেনাল্টি শুটআউট এড়িয়ে দলকে জয় নিশ্চিত করেছে।
অতিরিক্ত সময়ের প্রথম ১১ মিনিটে ফ্রেডি পটসের লাল কার্ডে ওয়েস্ট হ্যাম একজন খেলোয়াড় কমে যায়। তার পরিবর্তে বার্টনের জুলিয়ান লারসন মাঠে নামেন, যা শেষের মুহূর্তে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়। শেষের দিকে বার্টনের সাবস্টিটিউট কাইন আদোমের স্টপেজ সময়ের শটটি সাইডলাইনে যায়, ফলে গেমের ফলাফল পরিবর্তন হয় না।
বার্টনের প্রধান কোচ গ্যারি বাওয়ার, যিনি ড্রেসিং রুমে দলের সঙ্গে মিটিংয়ের সময় বক্সিং গ্লাভস পরেছিলেন, তার দলকে আত্মবিশ্বাস জোগাতে বিশেষ ভিডিও ক্লিপ দেখিয়েছেন। এই ক্লিপগুলোতে ২০০৬ সালে বার্টন ওল্ড ট্রাফোর্ডে তৃতীয় রাউন্ডের রি-পর্যায়ের ম্যাচ, এএফসি উইম্বলডনের ওয়েস্ট হ্যামের বিরুদ্ধে জয় এবং স্টিভেনেজের অ্যাস্টন ভিলার ওপর চমকপ্রদ জয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। ঐ ভিডিওতে টোবি সিবিক এবং টেরেন্স ভ্যানকুটেনের মতো ডিফেন্ডারদের নামও দেখা যায়, যারা তখন বার্টনের রক্ষা করছিলেন।
বার্টনের অতীতের কাপে কিছু উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত রয়েছে। সাত বছর আগে, নাইজেল ক্লফের অধীনে তারা কারাবাও কাপের সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল। সেই সময়ে গলকিপার ব্র্যাড কলিন্স, তখন চেলসির লোনে এবং এখন কোভেন্ট্রির হয়ে খেলছিলেন, ম্যানচেস্টার সিটির ৯-০ প্রথম লেগের পরাজয়ে দলকে কঠিন রাত কাটাতে হয়েছিল। একই সময়ে জন ব্রেইফোর্ড, বাওয়ারের কোচিং স্টাফের সদস্য, ডিফেন্সে ছিলেন।
ওয়েস্ট হ্যামের দ্বিতীয় দল এই জয় দিয়ে এফএ কাপের পঞ্চম রাউন্ডে প্রবেশ করেছে। দলটি এখন পরবর্তী রাউন্ডের প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে, যদিও এখনও নির্ধারিত হয়নি। কোচ নুনো এস্পিরিটো সান্তো দলের ঘনিষ্ঠতা এবং শারীরিক প্রস্তুতির ওপর জোর দিয়েছেন, যাতে তারা উচ্চতর স্তরে প্রতিযোগিতা করতে পারে।
সামারভিলের গলটি দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে, বিশেষ করে জাররড বাওয়েনের বিশ্রাম নেওয়ার পরেও দলটি ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করেছে। বার্টনের কোচ বাওয়ার তার খেলোয়াড়দেরকে ৪৭ স্থান পার্থক্য অতিক্রম করে ইতিহাসে নাম লেখার লক্ষ্য স্থাপন করেছেন। তার মতে, এই ধরনের মনোভাবই ছোট ক্লাবকে বড় ক্লাবের সঙ্গে সমানভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সক্ষম করে।
ওয়েস্ট হ্যামের এই জয়টি ক্লাবের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, কারণ এটি দলকে এফএ কাপের গভীর পর্যায়ে নিয়ে গেছে এবং খেলোয়াড়দেরকে বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দিয়েছে। পরবর্তী রাউন্ডে দলটি কীভাবে পারফর্ম করবে তা এখনই দেখা বাকি।



