কলম্বোর রি. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে আগামী রবিবার অনুষ্ঠিত হবে ভারত এ ও পাকিস্তান দলের গ্রুপ এ মুখোমুখি ম্যাচ, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্যতম বড় অনুষ্ঠান। দুই দলের মধ্যে এই টুর্নামেন্টের প্রথম মুখোমুখি হওয়ায় মিডিয়ার দৃষ্টি তীব্রভাবে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। স্টেডিয়ামের ৩৫,০০০ সিটের ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে ভরে গেছে এবং টেলিভিশন মাধ্যমে শত কোটি দর্শকের প্রত্যাশা রয়েছে।
ম্যাচটি সোমবার রাতের শেষ দিকে নিশ্চিত করা হয়, যখন ইসলামাবাদের সরকার পূর্বে ঘোষিত বয়কট আদেশ থেকে হঠাৎ ফিরে আসে। এই সিদ্ধান্তের ফলে গ্রুপ এ শোয়ারের সময়সূচি অক্ষত থাকে এবং উভয় দলই প্রস্তুতিতে অগ্রসর হতে পারে। সরকারী নীতি পরিবর্তনের পর দ্রুত স্টেডিয়াম ও টিভি নেটওয়ার্কগুলো শেষ মুহূর্তে সমন্বয় সম্পন্ন করে।
ভারত এ দলের ক্যাপ্টেন সুর্যকুমার ম্যাচের গুরুত্ব নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দেন। তিনি উল্লেখ করেন, “এটি কেবল আরেকটি খেলা নয়, বড় মঞ্চ এবং বিশাল দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত।” তিনি আরও বলেন, “যদিও চাপ আছে, তবু সুযোগও ততটাই বড়।” তার মতে, ভারত এ‑পাকিস্তান ম্যাচের মূল বিষয় হল অনুষ্ঠানিকতা ও উন্মাদনা।
সুর্যকুমার দলকে সহজ পথে নিয়ে গিয়ে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দেখানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা জটিলতা না বাড়িয়ে আমাদের সেরা খেলা উপস্থাপন করব।” এছাড়া তিনি দলীয় শৃঙ্খলা ও কৌশলগত প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি দলকে মানসিকভাবে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে।
পূর্বে দু’বছর আগে দুবাইতে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপের তিনটি সাক্ষাতে পাকিস্তান দলকে অবহেলা করার পর হাতমিলের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। সুর্যকুমার এ বিষয়ে কোনো সরাসরি উত্তর না দিয়ে আগামীকাল সিদ্ধান্ত প্রকাশের ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, “২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন, আমরা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি খেলব।” এই মন্তব্যটি উভয় দলের ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়।
ভারত এ দল সম্প্রতি দুইটি গুরুত্বপূর্ণ জয় অর্জন করেছে। এক সপ্তাহ আগে মুম্বাইতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ২৯ রানের পার্থক্যে জয়লাভ করে শিরোপা রক্ষার পথে প্রথম পদক্ষেপ নেয়। এরপর বৃহস্পতিবার দিল্লিতে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ৯৩ রানের পার্থক্যে জয় নিশ্চিত করে দলকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। এই জয়গুলো দলকে গ্রুপের শীর্ষে রাখে।
পাকিস্তান দলের স্পিনার উসমান তরিকের অনন্য স্লিং-আর্ম বোলিং স্টাইলের ওপর মিডিয়ার হাইপ বাড়লেও সুর্যকুমার তা নিয়ে হালকা মন্তব্য করেন। তিনি জানান, “আমরা অনুরূপ ধরণের বোলারদের সঙ্গে প্রশিক্ষণ নিয়েছি, তাই রাতের সেশনে যা শিখেছি তা প্রয়োগ করব।” এই প্রস্তুতি দলকে তরিকের অপ্রচলিত ডেলিভারির মোকাবেলায় আত্মবিশ্বাস দেয়। তরিকের বিরতি সহ ডেলিভারি স্ট্রাইডের বৈশিষ্ট্যকে দলীয় কৌশলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
দলীয় ওপেনার অভিষেক শর্মা সাম্প্রতিক পেটের সমস্যার থেকে সুস্থ হয়ে ফিরে এসেছে এবং ম্যাচে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। সুর্যকুমার শর্মার ফিটনেস সম্পর্কে আশাবাদী এবং তাকে শুরুর ব্যাটিংয়ে ব্যবহার করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। শর্মার উপস্থিতি ভারত এ‑এর শুরুর শক্তি বাড়াবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
গ্রুপ এ পর্যায়ে উভয় দলই দুইটি করে ম্যাচ জিতে শীর্ষে রয়েছে। এই জয়গুলো নিশ্চিত করে যে, গ্রুপের শেষ ম্যাচের ফলাফলের ওপর নির্ভর না করে দু’দলই সুপার এট স্টেজে অগ্রসর হবে। পরবর্তী ম্যাচে বিজয়ী দল সুপার এটের আটটি দলে প্রবেশের অধিকার পাবে।
সুপার এটের জন্য স্থান নিশ্চিত করতে উভয় দলের জন্য পরবর্তী ম্যাচগুলোও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়াবে। দলীয় কৌশল, খেলোয়াড়ের ফর্ম এবং মাঠের অবস্থার সমন্বয়ই নির্ধারণ করবে শেষ পর্যন্ত কে অগ্রগতি করবে। উভয় কোচিং স্টাফই এই মুহূর্তে বিশ্লেষণ ও সমন্বয় কাজে লিপ্ত।
ম্যাচের দিন আসার সঙ্গে সঙ্গে ভক্তদের উচ্ছ্বাস বাড়ছে, বিশেষ করে দুই দেশের ভিন্ন ভিন্ন সময় অঞ্চলে টেলিভিশন সম্প্রচারে লক্ষ লক্ষ দর্শক লাইভ দেখার জন্য প্রস্তুত। স্টেডিয়ামের ভিড়ের পাশাপাশি অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোও বিশাল ট্র্যাফিকের প্রত্যাশা করছে। এই ধরনের আন্তর্জাতিক ম্যাচের মাধ্যমে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
সুর্যকুমার শেষ মন্তব্যে বলেন, “আমরা আমাদের সেরা খেলা উপস্থাপন করব এবং দর্শকদের জন্য একটি স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি করব।” তিনি দলকে একত্রে কাজ করার এবং প্রতিটি মুহূর্তকে সর্বোচ্চভাবে ব্যবহার করার আহ্বান জানান। এই মনোভাবই ভারত এ‑কে গ্রুপের শীর্ষে রাখতে সহায়তা করবে।
পাকিস্তান দলের ক্যাপ্টেনও একই রকম দৃঢ়সংকল্প প্রকাশ করেছেন, যদিও তার মন্তব্যগুলো এখানে উল্লেখ করা হয়নি। উভয় দলের প্রস্তুতি ও মনোভাবই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি হবে। শেষ পর্যন্ত, ক্রিকেটের এই ঐতিহাসিক মুখোমুখি ম্যাচটি কেবল একটি খেলা নয়, বরং দুই দেশের ক্রীড়া সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।



