১৩ ফেব্রুয়ারি রাতের দিকে ২৯৭ জন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের নাম ও পদবী গেজেটের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়, যা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ গঠনের আনুষ্ঠানিক সূচনা চিহ্নিত করে। নতুন সদস্যদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা সম্পর্কে সরকারী নথিতে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, ফলে জনসাধারণের কাছে এই বিষয়ের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
গেজেটের অনুসারে, একজন সংসদ সদস্যের মৌলিক বেতন প্রতি মাসে ৫৫,০০০ টাকা নির্ধারিত। নির্বাচনী এলাকা পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত ১২,৫০০ টাকা ভাতা প্রদান করা হয়, যা এলাকার কাজকর্মের ব্যয়ভার কমাতে সহায়ক। এছাড়া, অতিথি স্বাগত ও অন্যান্য আয়োজনের জন্য মাসিক ৫,০০০ টাকা আপ্যায়ন ভাতা এবং পরিবহন খরচের জন্য ৭০,০০০ টাকা আলাদা ভাতা নির্ধারিত। এই পরিবহন ভাতায় জ্বালানি, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকের বেতন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অফিস পরিচালনার জন্য মাসিক ১৫,০০০ টাকা, লন্ড্রি ভাতা হিসেবে ১,৫০০ টাকা এবং বিভিন্ন ছোটখাটো খরচের জন্য ৬,০০০ টাকা প্রদান করা হয়। অর্থাৎ, বেতন ছাড়াও সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব পালনকালে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যয়কে কভার করার জন্য পৃথক ভাতা নির্ধারিত হয়েছে।
যানবাহনের ক্ষেত্রে, সদস্যদের শুল্ক, ভ্যাট ও অন্যান্য করমুক্তভাবে একটি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস আমদানি করার সুযোগ দেওয়া হয়। এই সুবিধা পাঁচ বছর পূর্ণ হলে পুনরায় নতুন গাড়ি আমদানি করার অধিকারও প্রদান করে, যা দীর্ঘমেয়াদে সদস্যদের চলাচল সহজ করে।
ভ্রমণ সংক্রান্ত সুবিধা ব্যাপক। বিমান, রেল বা নৌপথে যাত্রা করলে সর্বোচ্চ শ্রেণির টিকিটের দেড় গুণ পর্যন্ত ভাতা পাওয়া যায়। সড়কপথে যাত্রার ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারে নির্ধারিত ভাতা প্রদান করা হয়, এবং দেশের অভ্যন্তরে বার্ষিক ১,২০,০০০ টাকা ভ্রমণ ভাতা অথবা বিকল্পভাবে ট্রাভেল পাসের সুবিধা রয়েছে।
দায়িত্বস্থলে অবস্থানকালে সদস্যদের দৈনিক ৭৫০ টাকা ভাতা এবং ৭৫ টাকা যাতায়াত ভাতা প্রদান করা হয়। সংসদ অধিবেশন বা কমিটির বৈঠকে অংশগ্রহণের সময় এই ভাতা ৮০০ টাকা এবং যাতায়াত ভাতা ২০০ টাকায় বৃদ্ধি পায়, যা কাজের সময় অতিরিক্ত ব্যয়কে সুষম করে।
চিকিৎসা সুবিধা ক্ষেত্রেও বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। সংসদ সদস্য ও তার পরিবারের সদস্যরা সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের চিকিৎসা সেবা পায়, পাশাপাশি মাসিক ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা প্রদান করা হয়।
দায়িত্বকালে দুর্ঘটনা, মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে ১০ লক্ষ টাকার সরকারি বীমা কভারেজ নিশ্চিত করা হয়েছে। তদুপরি, সদস্যদের জন্য বছরে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত একটি ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে, যা অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান করে।
টেলিযোগাযোগ সুবিধার অংশ হিসেবে, সদস্যদের বাসভবনে সরকারি খরচে টেলিফোন সংযোগ স্থাপন করা হয়। মাসিক টেলিফোন ভাড়া ও কল খরচের জন্য ৭,৮০০ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা যোগাযোগের বাধা দূর করে।
সবশেষে উল্লেখযোগ্য যে, গেজেটের নির্দেশনা অনুযায়ী, উপরে উল্লেখিত সকল ভাতা ও সুবিধা আয়করমুক্ত হিসেবে গণ্য হবে, ফলে সদস্যদের নেট আয় বৃদ্ধি পায় এবং আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় থাকে। এই নীতিমালা বাংলাদেশ সরকারের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।



