বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলা, বাগেরহাট-২ সংসদীয় এলাকায় নির্বাচনের পর সংঘটিত হিংসাত্মক মারামারিতে ২৯ বছর বয়সী ওসমান সরদার মারা গেছেন। ঘটনাটি গতকাল সন্ধ্যায় ধোপাখালী ইউনিয়নের চিতাবাড়ি গ্রামে ঘটেছে এবং আজ সকাল ১১:৩০ টায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মৃত্যুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ওসমান সরদার পারোনোয়াপাড়া গ্রাম, বাগেরহাট সদর উপজেলার বাসিন্দা এবং “ঘোড়া” প্রতীক নিয়ে স্বাধীনভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বিরোধী প্রার্থীকে সমর্থন করতেন। তিনি নির্বাচনের পর উত্থাপিত উত্তেজনার মাঝখানে আহত হন এবং পরে মৃত্যুবরণ করেন।
চিত্রাবদ্ধ তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে চিতাবাড়ি গ্রামে “ধানের গুঁড়ি” প্রতীক (বিএনপি) সমর্থক ও “ঘোড়া” প্রতীক (বিরোধী) সমর্থকদের মধ্যে তীব্র তর্কে মারামারি হয়। এই সংঘাতে মোট নয়জন আহত হয়, যার মধ্যে ওসমান সরদারও ছিলেন।
ওসমানের বড় ভাই এনামুল কবির সরদার জানান, বিএনপি সমর্থকরা “ঘোড়া” সমর্থকদের সন্ধান করে এবং মুখে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। আঘাতের পর ওসমানকে প্রথমে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে তার অবস্থা গুরুতর ছিল।
রোগীর অবস্থা দ্রুত খারাপ হওয়ায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার পর, ডাক্তাররা সকাল ১১:৩০ টায় ওসমানকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাগেরহাট মডেল থানা অফিসার-ইন-চার্জ মো. মাসুম খান জানান, ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ পুলিশ পাঠানো হয় এবং এখন পর্যন্ত ঘটনার কারণ ও জড়িতদের সনাক্ত করার কাজ চলছে। তিনি উল্লেখ করেন, তদন্তের অংশ হিসেবে স্থানীয় সাক্ষী ও ভিডিও রেকর্ড সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এই নির্বাচনী এলাকায় পার্টি ভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র ছিল। বিএনপি-র আনুষ্ঠানিক প্রার্থী ছিলেন শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, আর পূর্বে জেলা বিএনপি সভাপতি ও প্রাক্তন সংসদ সদস্য এম.এ.এইচ. সেলিম স্বাধীনভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
জামাত-র প্রার্থী শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ শেষ পর্যন্ত বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে, বিএনপি ও বিরোধী প্রার্থীদের পরাজয় নিশ্চিত করে। এই ফলাফল নির্বাচনের পরবর্তী রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।
পুলিশের মতে, মারামারিতে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রের ধরন ও আঘাতের স্থান বিশ্লেষণ করে অপরাধীর পরিচয় বের করা হবে। সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনের আওতায় আনা এবং যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
বর্তমানে তদন্ত চলমান এবং স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের হিংসা রোধে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।



