রাশিয়ার চলচ্চিত্র নির্মাতা অ্যালেক্সান্ডার রডনিয়ানস্কি, বার্লিনের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দুইটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তিনি প্রথমবার প্যানোরামা প্রোগ্রামে আমন্ত্রিত হন, যেখানে তার ডকুমেন্টারি ম্যানফ্রেড সালজগেবার ও মরিটজ ডে হ্যাডেলনের নির্বাচনে অন্তর্ভুক্ত হয়। এই সুযোগ তার ক্যারিয়ারকে নতুন দিক দেয় এবং প্রথমবারের মতো তিনি সোভিয়েত ইউনিয়ন ছেড়ে বিদেশে পা রাখেন।
কয়েক বছর পরে রডনিয়ানস্কি আবার বার্লিনে ফিরে আসেন, এবার ফেস্টিভালের জুরি সদস্য হিসেবে। জুরির দায়িত্বে তিনি শুধু অফিসিয়াল সিলেকশনের চলচ্চিত্রই না, বরং প্রতিযোগিতার বাইরে প্রদর্শিত বহু ফিচারও পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পান। এই অভিজ্ঞতা তাকে চলচ্চিত্রের বৈচিত্র্য ও শিল্পের গতি সম্পর্কে গভীর ধারণা দেয়।
বার্লিনে তার সবচেয়ে প্রিয় সাক্ষাৎকারগুলো হল পোলিশ দিগন্তের দিগন্তে দাঁড়িয়ে থাকা দুই মহান পরিচালক—আন্দ্রেজ ওয়াজদা ও মিলোশ ফরম্যানের সঙ্গে। উভয়ই বিশ্বসিনেমার আইকন, এবং রডনিয়ানস্কি তাদের ব্যক্তিগতভাবে দেখা এবং কথোপকথনকে তার সৃজনশীল যাত্রার অমূল্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। এই সাক্ষাৎ তার চলচ্চিত্র দৃষ্টিভঙ্গিকে নতুন মাত্রা দেয়।
বার্লিনের দর্শকদের জন্য তিনি হোলোকাস্ট স্মৃতিসৌধকে অবশ্যই দেখার স্থান হিসেবে সুপারিশ করেন। বর্তমান সময়ে বিশ্বব্যাপী antisemitism বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, এই স্মৃতিসৌধের মাধ্যমে অতীতের ভয়াবহতা ও নাৎসি শাসনের ধ্বংসাত্মক প্রভাবকে স্মরণ করা জরুরি। বিশেষ করে চলচ্চিত্র পেশাজীবীরা, যাঁরা বৃহৎ দর্শকের উপর প্রভাব ফেলতে পারেন, তাদের জন্য এই স্মৃতি আরও গুরুত্বপূর্ণ।
শীতের বার্লিনে শীতলতা মোকাবিলার তার সহজ কৌশল হল সিনেমা হলের উষ্ণতা উপভোগ করা। বড় পর্দার সামনে বসে চলচ্চিত্র দেখলে শীতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়, ফলে অতিরিক্ত গরম পোশাকের প্রয়োজন কমে। এই পদ্ধতি তাকে শীতের কঠিন সময়ে আরামদায়ক রাখে।
বার্লিনের উৎসবে “ফেস্টিভাল ফ্লু” এড়াতে তিনি বিশেষ কিছু পরামর্শ দেন। লস এঞ্জেলেস থেকে আসা সহকর্মীদের জন্য তিনি জোর দিয়ে বলেন, শীতের বার্লিনে হালকা জ্যাকেটের বদলে গাঢ় কোট পরা উচিত। এছাড়া, ঠাণ্ডা বিয়ারের পরিবর্তে গরম কালো চা, মধু ও আদা মিশিয়ে পান করা স্বাস্থ্যকর ও উষ্ণ রাখে।
বার্লিনের রাত্রিকালীন জীবনের স্বাদ নিতে তিনি ‘দ্য হ্যাট’ নামের একটি বারকে পছন্দের স্থান হিসেবে উল্লেখ করেন, যা লোটে-লেন্যা-বোয়েনে অবস্থিত। এখানে আরামদায়ক ককটেল, সরাসরি জ্যাজ সঙ্গীত এবং শহরের অনন্য পরিবেশ একসাথে মিশে একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করে। রডনিয়ানস্কি এই জায়গাটিকে বার্লিনের সত্যিকারের রঙের অংশ বলে মনে করেন।
উৎসবের সময় কোন স্থান এড়িয়ে চলা উচিত কিনা তা নিয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট জায়গা উল্লেখ করেননি; বরং তিনি সব ফেস্টিভাল স্থানকে সমানভাবে উপভোগ্য বলে বিবেচনা করেন। তার মতে, প্রতিটি স্ক্রিন, প্রতিটি গ্যালারি এবং প্রতিটি ক্যাফে নিজস্ব গল্প বলে এবং সবারই আলাদা আকর্ষণ রয়েছে।
বার্লিনে নতুন দর্শকদের জন্য রডনিয়ানস্কি শেষ পর্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন: শহরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে গভীরভাবে অনুভব করুন এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করুন। তিনি বলেন, চলচ্চিত্রের বাইরে শহরের ইতিহাস, শিল্প ও খাবার সম্পর্কে জানলে পুরো অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ হয়।
সারসংক্ষেপে, রডনিয়ানস্কির বার্লিনের স্মরণীয় মুহূর্তগুলো তার পেশাগত বিকাশের মাইলফলক এবং ব্যক্তিগত জীবনের রঙিন অভিজ্ঞতা। প্যানোরামা প্রোগ্রামের প্রথম আমন্ত্রণ থেকে জুরি সদস্যের দায়িত্ব, বিখ্যাত পরিচালকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, এবং শহরের সাংস্কৃতিক দিকগুলো তার জীবনে গভীর ছাপ রেখে গেছে।
বার্লিনের শীতল বাতাসে উষ্ণ সিনেমা হল, হোলোকাস্ট স্মৃতিসৌধের গম্ভীরতা, গরম চা ও জ্যাজ সঙ্গীতের মিশ্রণ—এই সবই রডনিয়ানস্কি যে বার্লিনকে তার হৃদয়ে সংরক্ষণ করেন তার অংশ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে আরও চলচ্চিত্র নির্মাতা এই শহরের অনুপ্রেরণা থেকে উপকৃত হবেন এবং বার্লিনের শিল্পময় পরিবেশে নতুন সৃষ্টির শিখা জ্বালাবে।



