বেরলিনের বার্লিনেলা চলচ্চিত্র উৎসবে শনিবার সন্ধ্যায় ‘রোজবুশ প্রুনিং’ ছবির বিশ্বপ্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। ছবির পরিচালক কারিম আইনৌজ এবং প্রধান অভিনেতা পামেলা অ্যান্ডারসন, কলাম টার্নার, ট্রেসি লেটস, লুকাস গেজ, জেমি বেল উপস্থিত ছিলেন। তাপমাত্রা হ্রাসের পরও গ্ল্যামারপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল এবং কাস্টের আগমন উৎসবের রঙিন চিত্রে নতুন রঙ যোগ করে।
এই চলচ্চিত্রটি একটি আমেরিকান পরিবারের গল্প বলে, যারা স্পেনের এক ভিলায় বসবাসের সময় পারিবারিক কাঠামোর অযৌক্তিকতা ও পিতৃতান্ত্রিক রীতিনীতি নিয়ে তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ করে। উৎসবের বিবরণে এটিকে ‘প্রচলিত পিতৃতান্ত্রিক পরিবারের অযৌক্তিকতা’ নিয়ে নির্মিত তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিচালক আইনৌজের পূর্বের কাজের তুলনায় এই চলচ্চিত্রটি সামাজিক কাঠামোর সমালোচনায় নতুন দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করে।
প্রেস কনফারেন্সে কাস্ট এবং পরিচালক একসাথে উপস্থিত হয়ে চলচ্চিত্রের থিম ও সৃষ্টিকর্তার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করেন। ছবির প্রথম প্রদর্শনী বার্লিনেলা প্যালাস্টে শনিবার রাতের প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। উপস্থিতি ও প্রশ্নোত্তর সেশনটি শিল্পের স্বতন্ত্রতা ও সামাজিক দায়িত্বের সংযোগস্থল হিসেবে বিবেচিত হয়।
কাস্টের মধ্যে এল ফ্যানিং এবং রাইলি কিউয়ের অনুপস্থিতি বিশেষভাবে লক্ষণীয় ছিল। উভয় অভিনেত্রীর নাম প্রত্যাশিত ছিল, তবে তারা উপস্থিত না হওয়ায় কিছু দর্শকের মধ্যে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। মিডিয়া এই অনুপস্থিতিকে চলচ্চিত্রের প্রচার কৌশল বা ব্যক্তিগত সময়সূচির সঙ্গে যুক্ত করে বিশ্লেষণ করেছে।
প্রেস কনফারেন্সের শুরুর দিকে একজন সাংবাদিক জেমস বন্ডের পরবর্তী অভিনেতা নিয়ে গুজবের দিকে ইঙ্গিত করে প্রশ্ন করেন। কলাম টার্নার উত্তর দেন যে এই ধরনের প্রশ্ন এখনো খুব তাড়াতাড়ি এবং তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অক্ষম। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বিষয়টি শেষ করেন, যা গুজবের তীব্রতা কিছুটা কমিয়ে দেয়।
এরপর ট্রেসি লেটস হালকা মেজাজে মন্তব্য করে নিজেকে পরবর্তী জেমস বন্ড বলে উল্লেখ করেন, যা কক্ষের সকলকে হাসিতে ফেলে দেয়। এই মুহূর্তটি প্রেস কনফারেন্সের পরিবেশকে সামান্য হালকা করে তুলেছিল এবং উপস্থিতিদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ মেজাজ তৈরি করেছিল।
বার্লিনেলা উৎসবের এই বছর রাজনৈতিক আলোচনার ঘাটতি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা মুখে পড়েছে। জুরি প্রেসিডেন্ট উইম ওয়েন্ডারস, গোল্ডেন বেয়ার বিজয়ী মিশেল ইউ এবং নিল প্যাট্রিক হ্যারিস চলচ্চিত্রের রাজনীতি ও ফ্যাসিবাদ সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করেছেন। তাদের এই অবস্থান উৎসবের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক সক্রিয়তার সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করেছে।
ইউরোপীয় সাংবাদিকরা উল্লেখ করেন যে ঐতিহাসিকভাবে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় এই উৎসবটি এখন জরুরি বিষয়গুলোকে উপেক্ষা করছে। বিশেষ করে ফ্যাসিবাদ ও শিল্পের রাজনৈতিক দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা না হওয়ায় তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং আরও উন্মুক্ত সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন।
এই সমালোচনার প্রতিক্রিয়ায় ভারতীয় লেখিকা অরুন্ধতি রয় ফেস্ট থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করেন। তিনি উইম ওয়েন্ডারসের ‘শিল্প রাজনৈতিক হওয়া উচিত নয়’ মন্তব্যের পর এই সিদ্ধান্ত নেন, যা আন্তর্জাতিক শিল্প সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র বিতর্কের সূত্রপাত করে।
মিশেল ইউও তার প্রেস কনফারেন্সে উল্লেখ করেন যে তিনি রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে মন্তব্য করার অবস্থানে নেই। তার এই বক্তব্যের ফলে শিল্প ও রাজনীতির সীমারেখা নিয়ে বিতর্ক তীব্রতর হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কীভাবে শিল্প স্বাধীনতা বজায় রাখা যায়, তা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।
বার্লিনেলার এই ঘটনাগুলো শিল্প ও সমাজের মধ্যে সম্পর্কের পুনর্মূল্যায়নের দরজা খুলে দিয়েছে। চলচ্চিত্র নির্মাতা, অভিনেতা ও দর্শকরা এখন থেকে এই বিষয়গুলো নিয়ে আরও সক্রিয়ভাবে আলোচনা করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যাতে সৃজনশীল কাজের সঙ্গে সামাজিক দায়িত্বের সমন্বয় সম্ভব হয়।
উৎসবের পরবর্তী দিনগুলো



