সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় দিরাই ধল পূর্ব আশ্রম গ্রামে শনিবার দুপুরে বিয়ের দাওয়াত না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে ৪৫ বছর বয়সী প্রবাসী আঞ্জুর মিয়া প্রাণ হারান। আঞ্জুর মিয়া তাড়ল ইউনিয়নের ধল পূর্ব আশ্রম গ্রামবাসী এবং মৃত সাদুল্লাহর পুত্র ছিলেন।
সংঘর্ষের মূল কারণ ছিল পারিবারিক বিবাদ, যেখানে আনহার মিয়া ও আঞ্জুর মিয়ার আত্মীয়দের মধ্যে বিয়ের দাওয়াতের বিষয়টি নিয়ে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়। শুক্রবারই উভয় পক্ষের মধ্যে কথোপকথন শুরু হয়, যা দ্রুত উত্তেজনায় রূপ নেয়।
শুক্রবারের কথাবার্তা শেষ হওয়ার পর, শনিবার আনহার মিয়ার পার্শ্ববর্তী কনে পক্ষের বাড়িতে বিয়ের মালামাল নিয়ে যাওয়ার সময় আঞ্জুর মিয়া প্রতিপক্ষের আক্রমণের শিকার হন। আক্রমণটি শারীরিকভাবে আঞ্জুর মিয়ার ওপর আঘাত হানে এবং তাকে গুরুতরভাবে আহত করে।
আহত অবস্থায় থাকা আঞ্জুর মিয়াকে তৎক্ষণাৎ দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত চিকিৎসকগণ তার অবস্থা পরীক্ষা করে শেষ পর্যন্ত মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যু স্থানীয় সমাজে শোকের ছায়া ফেলেছে।
দিরাই থানার ওয়াইস-কমিশনার এনামুল হক চৌধুরী ঘটনাটির তদন্ত শুরু করার কথা জানিয়ে দেন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে গ্রামটি শৃঙ্খলায় রয়েছে এবং কোনো অতিরিক্ত সংঘর্ষের ঝুঁকি নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধল পূর্ব আশ্রম গ্রামে একই সময়ে মৃত ছাদ্দিক মিয়ার ছেলে সৌমিকের সঙ্গে আজিজুল হকের মেয়ের বিয়ের পরিকল্পনা ছিল। তবে বিয়ের জন্য আনহার মিয়ার আত্মীয়দের অমত প্রকাশের ফলে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ তীব্র হয়ে ওঠে। এই বিরোধই শেষ পর্যন্ত দাওয়াত না দেওয়ার মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
প্রতিবাদী গোষ্ঠীর মধ্যে রেশ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একপক্ষের পক্ষ থেকে দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করা হয়, যা উভয় পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাসের সীমানা ছুঁয়ে যায়। বিয়ের মালামাল পরিবহনের সময় আক্রমণটি সংঘটিত হওয়ায় ঘটনাটির তীব্রতা বাড়ে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, আক্রমণকারীকে প্রমাণভিত্তিকভাবে অপরাধী ঘোষিত করা হবে এবং হিংসাত্মক অপরাধের শাস্তি প্রযোজ্য হবে। তদন্তের সময় গৃহীত সাক্ষ্য, মেডিকেল রেকর্ড এবং স্থানীয় নিরাপত্তা ক্যামেরার রেকর্ডকে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এই ধরনের পারিবারিক বিবাদকে রোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য মধ্যস্থতা ব্যবস্থা চালু করার আহ্বান জানিয়েছে। ভবিষ্যতে এধরনের ঘটনা প্রতিরোধে গ্রাম স্তরে শান্তি রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



