ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে শনি ১৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কমনওয়েলথ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের চেয়ার ও ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আডো স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, নির্বাচনের সময় সংখ্যালঘু ভোটারদের ওপর কোনো সরাসরি আক্রমণ বা দমনমূলক ঘটনা রেকর্ড করা যায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, যদিও পর্যবেক্ষক দল কোনো নির্দিষ্ট হিংসা বা হুমকির রিপোর্ট পায়নি, তবু কিছু অঞ্চলে সংখ্যালঘু ভোটারদের উপস্থিতি হ্রাস পেয়েছে এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
কমনওয়েলথের পর্যবেক্ষক দল নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল এবং স্বচ্ছ বলে মূল্যায়ন করেছে। তারা যুক্তি দেন যে, এই শর্তগুলো নির্বাচনের ফলাফলকে গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের সময় আইনগত কাঠামো ও প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়েছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা বাড়িয়ে দিয়েছে।
দলটি উল্লেখ করেছে যে, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নেওয়া সত্ত্বেও, ভোটাধিকার, প্রার্থী নিবন্ধন এবং ফল গণনা প্রক্রিয়া প্রায় সব প্রার্থীর জন্য উন্মুক্ত ছিল। মোট প্রায় দুই হাজার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, যা নির্বাচনের প্রতিযোগিতামূলক স্বভাবকে তুলে ধরেছে। এই ব্যাপক অংশগ্রহণের ফলে ভোটারদের জন্য বিকল্পের পরিসর বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নির্বাচনের বৈধতা নিশ্চিত হয়েছে।
অবস্থানগত দৃষ্টিকোণ থেকে, পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন যে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটার উপস্থিতি কমে যাওয়া কিছু এলাকায় সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, তবে তা সরাসরি নিরাপত্তা হুমকির ফলাফল নয়। তারা আরও উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনের সময় বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতিগত গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পেয়েছেন এবং কোনো গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে কোনো হিংসাত্মক কার্যকলাপের তথ্য পাওয়া যায়নি।
কমনওয়েলথের পর্যবেক্ষক দল ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য এই ফলাফলকে একটি রেফারেন্স পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তারা সুপারিশ করেন যে, সংখ্যালঘু ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে স্থানীয় সংস্থা ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো উচিত, যাতে ভোটার উপস্থিতি সমানভাবে নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে পর্যবেক্ষক দলের উপস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
এই পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা এবং নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছে, যাতে তারা ভবিষ্যৎ নির্বাচনের পরিকল্পনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সমন্বয় করতে পারে। তদুপরি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে প্রাপ্ত ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা বাড়িয়ে দিয়েছে।
সংক্ষেপে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দল কোনো সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর ওপর আক্রমণ বা দমনমূলক ঘটনার অভাবের ভিত্তিতে স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ এবং বৈধ বলে মূল্যায়ন করেছে। যদিও কিছু এলাকায় সংখ্যালঘু ভোটার উপস্থিতি কমে যাওয়া লক্ষ্য করা গেছে, তবু সামগ্রিকভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে পরিচালিত হয়েছে। এই ফলাফল দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হবে।



