ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার কোরবানপুর রোডের মাথায় ১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাত প্রায় ৮টায় সায়েম উদ্দিন নামের এক তরুণের ওপর দলীয় আক্রমণ ঘটেছে। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, আক্রমণকারী ৪-৫ জন ব্যক্তি ছিলেন এবং তারা শারীরিক হিংসা ব্যবহার করে শিকারকে গুরুতরভাবে আহত করে সেখানে ফেলে দেন। আহত শিকারের অবস্থা স্থিতিশীল না থাকায় ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সায়েম উদ্দিন মাছিমপুর এলাকার বাসিন্দা এবং আল-জামেয়াতুল মালাহিয়া কামিল মাদ্রাসার ফাজিলের শিক্ষার্থী। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতা আন্দোলনে সক্রিয় থাকায় তিনি ৪ আগস্ট শহরের মহিপালে আওয়ামী লীগের অস্ত্রধারীদের প্রতিরোধে অংশগ্রহণের জন্য আলোচনায় উঠে আসেন। তার শিক্ষাগত ও সামাজিক পটভূমি স্থানীয় মিডিয়ায় উল্লেখিত হয়েছে।
দাগনভূঞা থানার ওয়ান সি (ওসি) মোহাম্মদ ফয়জুল আজিমের মতে, রাতের আক্রমণটি হঠাৎ ঘটেছে এবং শিকারের সঙ্গে কোনো পূর্বসচেতনতা ছিল না। শিকারের ওপর আক্রমণকারী দলটি তাকে একা পেয়ে ডেকে নিয়ে ৪-৫ জনের দল গঠন করে বেধড়ক, গুলা, ঘুষি ও লাথি দিয়ে মারধর করে। শিকারের শারীরিক ক্ষতি গুরুতর হওয়ায় দলটি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
আক্রমণকারী দলের পরিচয় সম্পর্কে সায়েমের অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন যে আক্রমণকারীরা তার পরিচিত এবং তারা বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে, ফেনী জেলার বিএনপি সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল জানান, বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা হবে এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে।
ফেনী জেলা জামায়াত-এ-ইসলামি আমির মাওলানা আব্দুল হান্নান ঘটনাটি শোনার সঙ্গে সঙ্গেই হাসপাতালে গিয়ে শিকারের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছেন। তিনি শিকারের দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট মেডিকেল স্টাফের সঙ্গে সমন্বয় করেছেন।
পুলিশের ওসি মোহাম্মদ ফয়জুল আজিম জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং প্রাথমিক তদন্তে কোনো লিখিত অভিযোগ এখনও দাখিল করা হয়নি। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে শিকারের পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে যাবে।
আইনি দিক থেকে, শিকারের পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতারা ফৌজদারি দায়ের দায়িত্বে পুলিশকে ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। শিকারের শারীরিক ক্ষতি এবং আক্রমণের স্বভাবকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালে শিকারের অবস্থা স্থিতিশীল হলেও চিকিৎসা চলমান। চিকিৎসা সংক্রান্ত আপডেট অনুযায়ী, শিকারের শারীরিক আঘাতের মধ্যে মাথা, গলা ও শারীরিক অংশে গুরত্বপূর্ণ ক্ষতি রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের প্রয়োজন হতে পারে।
স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। দাগনভূঞা থানার কর্মকর্তারা রাত্রিকালীন পেট্রোলিং বাড়িয়ে ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন।
শিকারের পরিবার এবং স্থানীয় সমাজের উদ্বেগের মধ্যে, এই ঘটনার আইনি দিক এবং রাজনৈতিক প্রভাবের বিশ্লেষণ এখনও চলমান। শিকারের ওপর আক্রমণকারী দলীয় সদস্যদের সনাক্তকরণ এবং আইনি দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য তদন্তের ফলাফল অপেক্ষা করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, ফেনী জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনগুলো একত্রে শিকারের চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য সমন্বয় সাধন করছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে।



