শুক্রবার রাত দুইটার দিকে বরিশাল জেলার গৌরনদী থানা এলাকার টরকীর বাসস্ট্যান্ডের পাশে অবস্থিত কাঁচা চামড়ার দোকানে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। দোকানের মালিক শওকত হাওলাদার জানান, আগুনের ফলে দোকানে রাখা একটি মোটরসাইকেল, কাগজপত্র এবং চামড়ার কিছু অংশ পুড়ে গিয়েছে। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী ক্ষতির পরিমাণ দুই লাখ টাকার কাছাকাছি।
দোকানটি গৌরনদীর টরকীর বাসস্ট্যান্ডের পাশের একটি পুরনো আড়তে অবস্থিত, যেখানে কাঁচা চামড়া, গৃহস্থালী সামগ্রী এবং কিছু গাড়ি পার্ক করা থাকে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা এই আড়তকে দীর্ঘদিনের বাজারের অংশ হিসেবে চেনে।
শওকত হাওলাদার দাবি করেন, শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় জামাল সরদার তার কাছ থেকে কিছু টাকা আদায়ের চেষ্টা করেন। হাওলাদার টাকা না দিলে দুইজনের মধ্যে তর্ক হয় এবং জামাল সরদার শওকতকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করেন। হেনস্থার সময় হাওলাদারকে হুমকি দেওয়া হয় যে, যদি টাকা না দেয়া হয় তবে তার দোকানে ক্ষতি করা হবে।
এই ঘটনার পর, শওকত হাওলাদার রাতের বেলা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেন। তিনি বলেন, জামাল সরদার তার আড়তে আগুন লাগিয়ে ক্ষতি করেছেন। তবে হাওলাদার জানান, স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অনুরোধে তিনি এখনও থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি।
রাত দুইটার দিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের কাছে পৌঁছায়। দু’টি ফায়ার ট্রাক দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে, প্রায় এক ঘন্টার মধ্যে অগ্নি নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ারফাইটাররা আগুনের মূল উৎস চিহ্নিত করে, তাৎক্ষণিকভাবে পানির সরবরাহ এবং ফোম ব্যবহার করে শিখা নিভিয়ে দেয়।
ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মিজানুর রহমান জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় আড়তে একটি মোটরসাইকেল, কাগজপত্র এবং কিছু চামড়া পুড়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, অগ্নি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুইটি ইউনিটের সমন্বয় প্রয়োজন হয় এবং দ্রুত কাজের ফলে বড় ধস রোধ করা সম্ভব হয়েছে।
মিজানুর রহমান আরও বলেন, শওকত হাওলাদার আড়তে আগুন লাগানোর অভিযোগ তুলেছেন, তবে তদন্তের ফলাফল না জানার আগে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তিনি জানান, ফায়ার সার্ভিসের কাজ শেষ হওয়ার পর ঘটনাস্থলে ফরেনসিক দল পাঠানো হবে, যাতে আগুনের মূল কারণ নির্ণয় করা যায়।
প্রাথমিক তদন্তে দেখা যাচ্ছে, অগ্নিকাণ্ডের ফলে মোট দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এতে শওকত হাওলাদারের ব্যবসায়িক সম্পদ ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি অন্তর্ভুক্ত। ক্ষতিগ্রস্ত মোটরসাইকেলটি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে, আর চামড়া ও কাগজপত্রের ক্ষতি পুনরুদ্ধার করা কঠিন।
আইনি দিক থেকে, শওকত হাওলাদার এখনও থানায় অভিযোগ দায়ের করেননি। তিনি জানান, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের অনুরোধে তিনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনিচ্ছুক। তবে গৌরনদী থানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোনো অভিযোগ না থাকলেও তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে এবং প্রয়োজনীয় শংসাপত্র সংগ্রহ করছে।
পুলিশের তদন্তে জামাল সরদারের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে, আর ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রতিবেশীদের বিবৃতি এবং ফায়ার সার্ভিসের ফরেনসিক রিপোর্ট একত্রিত করে মামলার ভিত্তি তৈরি করা হবে। যদি তদন্তে প্রমাণ পাওয়া যায় যে আগুন ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা হবে।
এই ঘটনার পর গৌরনদী এলাকার ব্যবসায়িক পরিবেশে উদ্বেগের স্রোত দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং পুলিশকে দ্রুত তদন্তে অগ্রাধিকার দিতে অনুরোধ করেছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে পর্যাপ্ত নজরদারি ও আইনগত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা আবারও স্পষ্ট হয়েছে।



