ম্যাট ওয়েস্টন শুক্রবার মিলান-কোর্টিনা শীতকালীন অলিম্পিকের স্কেলেটন প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জিতে ইতিহাস রচনা করেন। এভাবে তিনি ব্রিটেনের প্রথম পুরুষ স্কেলেটন অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশের মোট অলিম্পিক মেডেল সংখ্যা দশে পৌঁছাতে সহায়তা করেন।
ব্রিটিশ স্কেলেটন দল পূর্বে অ্যামি উইলিয়ামস (২০১০) এবং লিজি ইয়ারনল্ড (২০১৪, ২০১৮) সহ তিনজন নারী স্বর্ণপদকধারী ছিল। ওয়েস্টন, যিনি দুবারের ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়ন, তার জয়কে এই ধারার ধারাবাহিকতা হিসেবে তুলে ধরেছেন।
ব্রিটেনের এই সাফল্য বিশেষভাবে চমকপ্রদ, কারণ দেশে কোনো আইস ট্র্যাক নেই। ওয়েস্টন উল্লেখ করেন, অন্য দেশগুলোকে এ ধরনের সাফল্য অর্জন করা ‘কিছুটা রাগজনক’ হতে পারে।
লিজি ইয়ারনল্ডের মতে, ব্রিটেনের স্কেলেটন দলকে ‘সুপারপাওয়ার’ বলা যায়। তিনি বলেন, ব্রিটিশরা যখন কোনো ট্র্যাকে উপস্থিত হয়, তখন প্রতিযোগিতার আগে ছয়টি অনুশীলন রুন পায়, যা মোট ছয় মিনিটের সমান।
এই ছয়টি রুনে তারা লক্ষ্য, স্পষ্টতা এবং প্রতিটি রুনে পূর্ণ প্রতিশ্রুতি নিয়ে কাজ করে। অন্য দলগুলো যখন কোনো দুর্বলতা দেখায়, তখন ব্রিটিশরা তা নিজেদের শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
বাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অবস্থিত একটি ছোট কাঠের কুটিরে দলের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। এখানে যুক্তরাজ্যের একমাত্র ‘পুশ ট্র্যাক’ এবং স্কেলেটন ও ববস্লি দলের ঘরবাড়ি। গ্রীষ্মকালে খেলোয়াড়রা ১৪০ মিটার লম্বা এই ট্র্যাকে শুরুর গতি অনুশীলন করে এবং শীতের জন্য জিমে শারীরিক প্রস্তুতি নেয়।
১৯৯০-এর দশকে ক্রিস্টান ব্রোমলি নামে এক পিএইচডি শিক্ষার্থী, যাকে পরে ‘ডক্টর আইস’ নামে পরিচিতি মিলেছে, ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর জন্য একটি স্লেড তৈরি করতে বলেছিলেন। কোনো সৈনিকই তা পরীক্ষা না করায় তিনি নিজেই তা ব্যবহার করে পরীক্ষা চালান এবং পরবর্তীতে চারবারের অলিম্পিক অংশগ্রহণকারী হয়ে ওঠেন। তিনি প্রথম ব্রিটিশ স্কেলেটন মেডেলধারীদের জন্য স্লেডের নকশা করেন।
এরপর থেকে মেকলার মতো প্রযুক্তি সংস্থাগুলোও স্লেডের উন্নয়নে যুক্ত হয়েছে, যা ব্রিটিশ স্কেলেটন দলের পারফরম্যান্সকে আরও শক্তিশালী করেছে।
মিলান-কোর্টিনার বর্তমান পর্যায়ে ব্রিটিশ দল এখনও অতিরিক্ত পদক জয়ের সম্ভাবনা রাখে, ফলে তাদের মোট মেডেল সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। স্কেলেটন ক্ষেত্রে ব্রিটেনের এই অনন্য সাফল্য ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, তা সময়ই বলবে।



