রামগড় উপজেলা, খাগড়াছড়ি জেলার দক্ষিণ গর্জনতলী এলাকায় শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল দশটায় ৩৫ বছর বয়সী রাজমিস্ত্রি আবু বকর সিদ্দিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি কাজের সময় একটি মোটর চালু করার চেষ্টা করার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
আবু বকর সিদ্দিকের পরিচয় একই এলাকার প্রয়াত আব্দুল আউয়ালের পুত্র হিসেবে জানা যায়। পরিবার ও প্রতিবেশীরা তাকে স্থানীয় নির্মাণ কাজের জন্য নিয়মিত কর্মী হিসেবে চেনেন।
সেদিন তিনি গর্জনতলীর বশর মিয়ার নির্মাণাধীন ভবনের কাজ করছিলেন। পানির সরবরাহের জন্য ব্যবহার করা মোটরটি চালু করার সময় তার হাতে বিদ্যুৎ প্রবাহে আঘাত লেগে যায়।
বিদ্যুৎ শকের ফলে সিদ্দিক অবিলম্বে অচেতন হয়ে পড়েন। কাছাকাছি থাকা কিছু স্থানীয় মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে তাকে তুলে নিয়ে রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছান।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর উপস্থিত চিকিৎসকগণ জরুরি চিকিৎসা চালিয়ে যান, তবে শকের তীব্রতা এবং সময়ের দেরি কারণে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। চিকিৎসকরা মৃত্যুর কারণকে স্পষ্টভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হিসেবে জানিয়ে দেন।
ঘটনাস্থলে রামগড় থানার ওয়ানডি কমান্ডার নাজির আলম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ দল পাঠানো হয়েছে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রমাণ সংগ্রহ ও সাক্ষী সংগ্রহের কাজ বর্তমানে চলছে।
অধিক তদন্তে বিদ্যুৎ সরবরাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, কাজের সময় ব্যবহৃত সরঞ্জামের অবস্থা এবং কাজের অনুমোদনপত্রের বৈধতা যাচাই করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় রেকর্ড ও রক্ষণাবেক্ষণ নথি সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনও দুর্ঘটনা ঘটার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে। ভবনের নির্মাণকারী সংস্থা ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থাকে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে অনুরূপ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ঘটনার সংখ্যা বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে, নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালু করার প্রস্তাবও উঠে এসেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা শোক প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে কাজের নিরাপত্তা মানদণ্ডের কঠোর বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ী ব্যক্তিদের আইনি দায়িত্ব নিশ্চিত করতে আহ্বান জানিয়েছেন।
এই ঘটনার আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান। রামগড় থানার তদন্ত দল প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষী বিবৃতি এবং সংশ্লিষ্ট নথি বিশ্লেষণ করে অপরাধমূলক দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। মামলাটি শেষ পর্যন্ত আদালতে উপস্থাপিত হবে।



