শীতকালীন অলিম্পিকের কার্লিং ইভেন্টে কানাডা ও সুইডেনের পুরুষ দলগুলো শুক্রবার কোর্টিনায় মুখোমুখি হয়। শেষ এন্ডে স্কোর ৮-৬ দিয়ে কানাডা জয়লাভের সঙ্গে সঙ্গে দু’দলই তীব্র বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। সুইডেনের স্কিপ নিকলাস এদিন দাবি করেন যে কানাডার মার্ক কেনেডি তার পাথর দু’বার স্পর্শ করেছেন—হ্যান্ডল ছেড়ে হগ লাইন পার করার পর আবার আঙুলে সামান্য ধাক্কা দিয়ে দিক পরিবর্তন করার অভিযোগ।
এ অভিযোগটি দ্বিতীয় ও তৃতীয় এন্ডের মধ্যে সুইডেনের প্রতিনিধিরা অফিসিয়ালদের কাছে তুলে দেন, তবে তা তৎকালীন কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায় না। শেষ এন্ডের দিকে গিয়ে উত্তেজনা বাড়ে, যখন মার্ক কেনেডি ও সুইডেনের ওস্কার এরিকসন একে অপরের দিকে তীব্র গালি ও তর্কে লিপ্ত হন। কেনেডি বলেন, “২৫ বছর ট্যুরে এবং চারটি অলিম্পিকের পরেও চিটিংয়ের অভিযোগ পছন্দ নয়, তাই আমি তাকে ঠিক কোথায় থামতে হবে তা বলেছি।” তিনি আরও যোগ করেন যে এডিনের দল হয়তো হারে যাওয়ায় রাগে আচ্ছন্ন ছিল।
কানাডা শেষ পর্যন্ত ৮-৬ স্কোরে জয়লাভ করে, ফলে ২০২২ সালে স্বর্ণপদক জিতেছিল এমন সুইডেনের দল প্রথম তিনটি ম্যাচে কোনো জয় পায়নি। ম্যাচের সময় প্রতিটি পাথরে হগ লাইন পার করার আগে হ্যান্ডল ছেড়ে দেওয়া নিশ্চিত করতে সেন্সর বসানো থাকে। হ্যান্ডল সঠিক সময়ে ছেড়ে দিলে সবুজ আলো জ্বলে, আর না দিলে লাল আলো দেখা যায়। কেনেডির পাথরে সবুজ আলো জ্বলে, তবে সুইডেনের খেলোয়াড়রা দাবি করেন যে হ্যান্ডল ছেড়ে দেওয়ার পরেও তিনি আঙুল দিয়ে পাথরকে অতিরিক্ত ধাক্কা দিয়েছেন। ভিডিও রেকর্ডিং এই অভিযোগকে সমর্থন করে বলে মনে হয়।
বিবিএস স্পোর্টসের কার্লিং মন্তব্যকারী স্টিভ ক্রাম এই ঘটনায় জ্যাকি লকহার্টকে প্রশ্ন করেন, এটি কি চিটিং এবং এর কোনো প্রভাব আছে কিনা। লকহার্টের মতে, পাথর ছেড়ে দেওয়ার পর তা স্পর্শ করা উচিত নয়। তিনি বলেন, “যদি ঝাড়ু দিয়ে স্পর্শ করা হয়, পাথরটি বার্ন হয়ে সরিয়ে ফেলতে হয়।” তিনি আরও যোগ করেন যে কেনেডি পাথরটি ছেড়ে দিয়েছেন, তবে পরে আঙুল দিয়ে স্পর্শ করেছেন, যা নিয়মের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
কানাডার এই জয় তাদের অলিম্পিক ক্যারিয়ারে আরেকটি সাফল্য যোগ করে, আর সুইডেনের দলকে প্রথম তিনটি ম্যাচে জয় না পাওয়ার ফলে তাদের ভবিষ্যৎ ম্যাচের প্রস্তুতি কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। পরবর্তী রাউন্ডে কানাডা ও সুইডেন উভয়ই নতুন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে, যেখানে এই বিতর্কের প্রভাব তাদের পারফরম্যান্সে কীভাবে প্রকাশ পাবে তা দেখার বিষয়।
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক কার্লিং ফেডারেশন এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক শাস্তি বা তদন্তের ঘোষণা দেয়নি, তবে সেন্সর ডেটা ও ভিডিও রেকর্ডিং বিশ্লেষণ করে বিষয়টি পরিষ্কার করার সম্ভাবনা রয়েছে। খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ও অভিযোগের পরেও ম্যাচের ফলাফল স্পষ্ট, এবং অলিম্পিকের মঞ্চে প্রতিযোগিতার তীব্রতা আবারও প্রকাশ পেয়েছে।



