কোলম্বোর সিনহালেস স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত টি২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ বি ম্যাচে ইয়ারল্যান্ড ২৩৫/৫ স্কোর করে ওমানকে ৯৬ রানে পরাজিত করেছে। ইয়ারল্যান্ডের অস্থায়ী ক্যাপ্টেন লরকান টাকার ৯৪* অচল না থেকে দলের সর্বোচ্চ স্কোরে অবদান রেখেছে। ওমান ১৩৯ রান করে ১৮ ওভারে সব আউট হয়ে শেষ হয়েছে, ফলে ইয়ারল্যান্ডের প্রথম গ্রুপ জয় নিশ্চিত হয়েছে।
ইয়ারল্যান্ডের ২৩৫ রান টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ স্কোর এবং পুরুষ টি২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ টোটাল হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। টাকার অচল ৯৪ রান টিমকে নিরাপদ ভিত্তি প্রদান করে, যা দলের আক্রমণাত্মক পদ্ধতিকে সমর্থন করে। এই স্কোরের মাধ্যমে ইয়ারল্যান্ড গ্রুপ বি-তে শীর্ষে উঠে, পরবর্তী রাউন্ডে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে।
লরকান টাকার পল স্টারলিংয়ের হাঁটুর লিগামেন্টের আঘাতের পর ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ব্যাটিং রোলের পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বললেন, “পিচটি ভাল ছিল, তাই আমরা শট ঘুরিয়ে এবং খারাপ বলগুলো দূরে পাঠিয়ে স্কোর বাড়ানোর চেষ্টা করেছি।” টাকার তার নতুন ভূমিকা নিয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে বলছেন, “ব্যাটিং ইউনিটে আমার কাজ বদলেছে, আর আমি এই চ্যালেঞ্জ উপভোগ করছি।” তার এই মন্তব্যগুলো ম্যাচের পরের প্রেস কনফারেন্সে শেয়ার করা হয়।
ইয়ারল্যান্ডের শুরুর অংশে ৭.৩ ওভারে ৬৪/৪ স্কোরে দলটি বিপদের মুখে পড়ে। টাকার তখনই মাঝখানে এসে ৫১ বলের মধ্যে ৯৪ রান গড়ে তুলেন, যার মধ্যে দশটি চতুর্থ এবং চারটি ছয়টি অন্তর্ভুক্ত। তার আক্রমণাত্মক খেলা দলকে দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে এবং শীর্ষে পৌঁছাতে সহায়তা করে। টাকার শেষ ওভারে স্ট্রাইক হারিয়ে সেঞ্চুরি না পেয়ে শেষ মুহূর্তে জর্জ ডকেল তার শেষ তিনটি বলকে ফেন্সে পাঠিয়ে দলকে জয় নিশ্চিত করতে সাহায্য করেন।
লরকান টাকার এবং গ্যাথার ডেলানি ৫ম উইকেটের জন্য ১০১ রান partnership গড়ে তোলেন, যা ইয়ারল্যান্ডের মোট স্কোরের বড় অংশ গঠন করে। ডেলানি ৩০ বলে ৫৬ রান করেন, তার দ্রুত স্কোরিং ক্ষমতা টাকারকে সমর্থন করে। উভয়ের সমন্বিত আক্রমণ দলকে মাঝখানে ফিরে আসতে এবং উচ্চ লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে। এই অংশীদারিত্বের ফলে ইয়ারল্যান্ডের রেট বাড়ে এবং ওমানের জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ কঠিন হয়ে যায়।
গ্যাথার ডেলানির পরে জর্জ ডকেল দ্রুতগতিতে ৯ বলে ৩৫ রান করেন, যার মধ্যে তিনটি ছয়টি অন্তর্ভুক্ত। ডকেল শেষ ওভারে তিনটি বলকে ফেন্সে পাঠিয়ে ইয়ারল্যান্ডের স্কোরকে ২৩৫ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেন। তার এই আক্রমণাত্মক শেষ অংশ দলকে অতিরিক্ত রানের বাফার দেয়, যা ওমানের চেজকে আরও কঠিন করে তোলে। ডকেলের এই পারফরম্যান্স টিমের গভীর ব্যাটিং লাইনের প্রমাণ দেয়।
ওমানের শুরুর ব্যাটিংয়ে ওপেনার আয়মার কালীম ঠিক ৫০ রান করেন, আর হাম্মাদ মিরজা ৪৬ রান যোগ করেন, যা দলকে কিছুটা স্থিতিশীলতা দেয়। তবে শুরুর পরে ধারাবাহিক উইকেটের পর দল দ্রুত পতন দেখায় এবং শেষ পর্যন্ত ১৮ ওভারে ১৩৯ রানেই সব আউট হয়ে যায়। ওমানের ব্যাটিং লাইনে অতিরিক্ত বড় স্কোর না হওয়ায় ইয়ারল্যান্ডের উচ্চ লক্ষ্য পূরণে কোনো বাধা না থাকে। শেষ পর্যন্ত ওমানের স্কোর ইয়ারল্যান্ডের ২৩৫ রানের তুলনায় ৯৬ রানে কমে যায়, ফলে ম্যাচের ফলাফল স্পষ্ট হয়ে যায়।
ইয়ারল্যান্ডের পরবর্তী ম্যাচে তারা গ্রুপ বি-র আরেকটি দলকে মুখোমুখি হবে, যা টুর্নামেন্টের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। টাকার এবং ডেলানির ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দলকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে এবং পরবর্তী রাউন্ডে আরও বড় স্কোরের সম্ভাবনা বাড়াবে। ইয়ারল্যান্ডের কোচিং স্টাফও এই জয়কে দলীয় কৌশল ও প্রস্তুতির সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছে। টুর্নামেন্টের বাকি অংশে ইয়ারল্যান্ডের পারফরম্যান্স কিভাবে থাকবে তা ভক্তদের জন্য বড় উত্তেজনা নিয়ে আসবে।



