ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস, দেশের প্রধান উপদেষ্টা, আজ দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে ফোনে আলাপ করে নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ ও উত্সবমুখর পরিবেশ গঠনে তাদের ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতার গুরুত্ব তুলে ধরে বললেন, এই ধরনের দায়িত্বশীল আচরণই গণতন্ত্রের সুষ্ঠু চলাচল নিশ্চিত করে।
প্রথমে ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস তরিক রাহমানের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে তার পার্টির বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ জয়কে অভিনন্দন জানালেন। তরিক রাহমানের দল নির্বাচনের ফলাফলকে ‘অত্যন্ত বিস্তৃত জয়’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়, যা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দিকনির্দেশনা সূচিত করেছে। এই বিজয়কে তিনি দেশের সমগ্র নাগরিকের স্বার্থে ব্যবহার করার আহ্বান জানালেন।
এরপর ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস জামায়াতের শফিকুর রাহমানের সঙ্গে আলাপ চালিয়ে তার দলকে নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার জন্য ধন্যবাদ জানালেন। শফিকুর রাহমানের নেতৃত্বে জামায়াতের শৃঙ্খলাবদ্ধ আচরণ ও সংযমকে তিনি প্রশংসা করেন, যা নির্বাচনের সময় কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটতে সাহায্য করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের শৃঙ্খলা দেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক সাদৃশ্য বজায় রাখতে অপরিহার্য।
পরবর্তী কথোপকথনে ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস এনসিপি’র নেতা সাহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার দলের নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে গৃহীত দায়িত্বশীল পদক্ষেপের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সাহিদুল ইসলাম দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংযম ও সমঝোতার মডেল হিসেবে কাজ করছেন, যা নির্বাচনের পর শান্তি বজায় রাখতে সহায়তা করেছে। তিনি এই দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করতে আহ্বান জানান।
ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস জোর দিয়ে বললেন, সব রাজনৈতিক দলই যদি এই রকম সংযম ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখে, তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল জুড়ে উত্সবমুখর পরিবেশ গড়ে উঠবে। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটের দিন থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বেশিরভাগ শহর ও গ্রামে শান্তি ও আনন্দের ছোঁয়া দেখা গেছে, যা নাগরিকদের প্রত্যাশা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নেতাদের সঙ্গে আলাপের সময় ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতামূলক মনোভাব বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি আশাবাদী যে, সংযম ও সমঝোতার ভিত্তিতে গঠিত এই সম্পর্কটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে। এছাড়া তিনি সকল দলকে একসাথে কাজ করে জনগণের চাহিদা পূরণে মনোযোগী হতে উৎসাহিত করেন।
ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের মতে, নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বিত কাজই দেশের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হবে। তিনি উল্লেখ করেন, উন্মুক্ত সংলাপ ও পারস্পরিক সম্মানই দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথ প্রশস্ত করবে। এ ধরনের সহযোগিতা না থাকলে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জনমত বিভাজন বাড়তে পারে, যা দেশের স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
এই আলোচনার পর ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস সকল নেতাকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানান, যাতে জনগণের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা পূরণে একটি ঐক্যবদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে ওঠে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক পার্থক্য সত্ত্বেও দেশের মঙ্গলের জন্য একসাথে কাজ করা উচিত। এ ধরনের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ পরিবেশ তৈরি করবে।
নেতা-নেত্রীর সঙ্গে ফোনে আলাপের মাধ্যমে ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের এই ধন্যবাদ জ্ঞাপন দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি ইতিবাচক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের দায়িত্বশীল আচরণ নির্বাচনের পরেও অব্যাহত থাকবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে।
অবশেষে, ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের বার্তা স্পষ্ট: রাজনৈতিক দলগুলোকে সংযম, সমঝোতা এবং জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে হবে, যাতে দেশের শান্তি ও উন্নয়ন নিশ্চিত হয়। তিনি সকল রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে শেষ করেন, যা দেশের ভবিষ্যৎ গঠনকে সমৃদ্ধ করবে।



