দিল্লি – নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের শেষ তারিখ ১৭ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে, এ বিষয়ে ক্যাবিনেট সেক্রেটারি ড. শেখ আবদুর রশিদ আজ গোপনীয়তা ভাঙ্গা না করে জানিয়েছেন। তিনি সেক্রেটারিয়েটের প্রধান কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং উল্লেখ করেন, শপথ সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেওয়া সব দল তাদের পার্লামেন্টারি পার্টি লিডার নির্বাচন করবে।
বহুমতিপক্ষের নেতা পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার পর, তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে জানাবেন যে তিনি সংসদের অধিকাংশের আস্থা পেয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তখন সংবিধানিক বিধান অনুসারে তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করবেন অথবা সরকার গঠন করার জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানাবেন। নতুন প্রধানমন্ত্রী শপথের তারিখ নির্ধারণের জন্য সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।
ড. রশিদ জানান, শপথের কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তিনি আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে সব শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা করছেন। এ সময়সীমা পার্লামেন্টের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি জোর দেন। শপথের দায়িত্বে কে থাকবে, তা নিয়ে তিনি কয়েকটি সম্ভাব্য বিকল্প উল্লেখ করেন।
প্রধানত, সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার, অথবা তাদের দ্বারা মনোনীত কোনো ব্যক্তি শপথ গ্রহণের দায়িত্ব নিতে পারেন। যদি এই দুইজনই কোনো প্রার্থী নির্ধারণে অক্ষম হন, তবে সরকারী পক্ষ থেকে অন্য কোনো ব্যক্তিকে মনোনয়ন করার ব্যবস্থা করা হবে। এই ক্ষেত্রে চিফ জাস্টিস অথবা চিফ ইলেকশন কমিশনারের নামও শপথ গ্রহণের জন্য প্রস্তাবিত হতে পারে।
শপথের সময় উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সরকার প্রায় এক হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই অতিথিদের মধ্যে পার্টি নেতারা, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক মিত্র দেশগুলোর প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, শপথের দ্রুত সম্পন্ন হওয়া সরকারী পরিবর্তনের মসৃণতা নিশ্চিত করবে এবং দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমে কোনো বাধা সৃষ্টি না করে। তবে বিরোধী দলগুলো শপথের পদ্ধতি ও সময়সূচি নিয়ে কিছু প্রশ্ন তুলতে পারে, বিশেষ করে শপথ গ্রহণের জন্য চিফ জাস্টিস বা ইলেকশন কমিশনারের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ সম্পর্কে।
অধিকন্তু, শপথের পর পার্লামেন্টারী পার্টি লিডার নির্বাচন দ্রুত সম্পন্ন হবে, যা সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল যদি দ্রুত নেতা নির্ধারণ করে, তবে রাষ্ট্রপতি দ্রুত নতুন প্রধানমন্ত্রীকে শপথের জন্য আমন্ত্রণ জানাতে পারবেন, ফলে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে।
এই প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে নতুন প্রধানমন্ত্রী শপথ গ্রহণের সময়, সরকারী অনুষ্ঠানিকতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হবে। শপথের সময়সূচি ও স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে প্রকাশিত হবে।
সংক্ষেপে, নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন হবে, শপথের দায়িত্বে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার বা তাদের মনোনীত ব্যক্তি, অথবা প্রয়োজনে চিফ জাস্টিস বা চিফ ইলেকশন কমিশনার থাকতে পারেন। শপথের পর পার্লামেন্টারী পার্টি লিডার নির্বাচন এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার স্বীকৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শপথের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে, এবং শপথ অনুষ্ঠানে প্রায় এক হাজার অতিথি উপস্থিত থাকবে। এই ধারাবাহিকতা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং সরকারী কাজের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



