নতুন সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের পর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার পূর্বের পেশায় ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই ঘোষণাটি বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজের মাধ্যমে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ড. ইউনূসের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তিনি সরকারী দায়িত্ব থেকে সরে এসে তার মূল পেশাগত ক্ষেত্রের দিকে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা তার দীর্ঘকালীন কর্মজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়।
আলী রীয়াজ সম্মেলনে উল্লেখ করেন, “প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভবিষ্যতে তার আগের পেশায় ফিরে যাওয়ার অভিপ্রায় প্রকাশ করেছেন এবং এ জন্য তিনি ইতিমধ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।” এই বক্তব্যে তিনি ইউনূসের পুনরায় পেশাগত পথে ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়ার সূচনা তুলে ধরেছেন।
সম্মেলনের মূল বিষয় ছিল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফল। রীয়াজ জানান, ঐ ভোটে বিপুল সংখ্যক ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন, যা সংস্কারমুখী সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, “গণভোটের মাধ্যমে দেশের নাগরিকরা স্পষ্টভাবে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলোর অনুকূলে রায় দিয়েছেন।”
এ ধরনের ভোটের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি স্পষ্ট সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রীয়াজের মতে, বৃহৎ জনগোষ্ঠী পুরনো ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চায় না; তারা পরিবর্তন ও রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি নতুন সরকারের নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন। তিনি রীয়াজের বক্তব্যের পর প্রশ্নোত্তর সেশনে অংশগ্রহণ করে অতিরিক্ত তথ্য প্রদান করেন, যদিও কোনো নতুন ঘোষণা করা হয়নি।
ড. ইউনূসের পেশাগত পুনরায় প্রবেশের পরিকল্পনা দেশের প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর কিছু প্রভাব ফেলতে পারে। তার বিদায়ের ফলে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বে নতুন নিয়োগ বা পুনর্গঠন প্রয়োজন হতে পারে, যা সরকারী কাজের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে।
অধিকন্তু, গণভোটের ফলাফল এবং জনগণের সংস্কারপ্রবণ মনোভাব নতুন নীতি প্রণয়নে একটি ভিত্তি সরবরাহ করবে। সরকার এই সংকেতকে কাজে লাগিয়ে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবগুলোকে দ্রুত অগ্রসর করার সম্ভাবনা রয়েছে।
ড. ইউনূসের পেশাগত ফিরে আসার সময়সূচি এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে তিনি ইতিমধ্যে প্রস্তুতি গ্রহণে লিপ্ত। তার পূর্বের পেশা, যা আন্তর্জাতিক আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়ন ক্ষেত্রে, দেশের অভ্যন্তরে এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে তার অবদানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, নতুন সরকার এবং প্রধান উপদেষ্টার মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর একটি মসৃণ পরিবর্তন নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে, গণভোটের মাধ্যমে নাগরিকদের স্পষ্ট ইচ্ছা প্রকাশ পেয়েছে, যা ভবিষ্যৎ নীতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই developments এর পরবর্তী ধাপগুলোতে সরকার কীভাবে সংবিধান সংস্কারকে অগ্রসর করবে এবং ড. ইউনূসের পেশাগত পুনরায় প্রবেশ কীভাবে দেশের উন্নয়ন কৌশলে সংযুক্ত হবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।



