গুলাম আলীর গজল “চুপকে চুপকে রাত দিন” হস্রত মোহানির লিখিত গীতিকবিতা, ১৯৮২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত নিক্কাহ চলচ্চিত্রে সঙ্গীতের অংশ হিসেবে প্রথমবার শোনা যায়। গজলটি প্রেমের উষ্ণতা ও তার ক্ষতির ব্যথা একসঙ্গে তুলে ধরার জন্য শ্রোতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
এই গজলের মূল সুরটি সরল সুরের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যা গানের কথার মর্মবোধকে আরও গভীর করে তুলেছে। গুলাম আলীর স্বরস্বরূপে বর্ণময় স্বরভঙ্গি গানের অনুভূতিকে বহুমাত্রিক করে, যেখানে নরম গলা ও মধুর স্বরে দুঃখের ছাপ স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়।
হস্রত মোহানির রচনায় ব্যবহার করা রূপক ও উপমা গজলের কবিতাময় গঠনকে সমৃদ্ধ করেছে। প্রতিটি স্তবককে তিনি যেন গোপন কথোপকথনের মতো উপস্থাপন করেছেন, যেখানে অতীতের প্রেমের স্মৃতি ও বর্তমানের একাকিত্বের মিশ্রণ দেখা যায়।
গজলের প্রথম লাইনগুলোই শোনার সঙ্গে সঙ্গে শোনোয়াকে এক ধরনের নীরব আকাঙ্ক্ষার মধ্যে ডুবিয়ে দেয়। গানের কথায় রাত ও দিন একসঙ্গে মিশে যাওয়ার চিত্রটি শোনোয়াকে সময়ের অতিক্রমের অনুভূতি দেয়।
১৯৮২ সালের নিক্কাহ ছবিতে গজলটি প্রধান চরিত্রের আবেগগত মুহূর্তে ব্যবহার করা হয়েছে, যা ছবির বর্ণনায় গভীরতা যোগ করে। চলচ্চিত্রের দৃশ্যপটের সঙ্গে গজলের সুরের সমন্বয় দর্শকদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলেছে।
ব্রিটিশ উপনিবেশের পরের সময়ে গজলটি উপমহাদেশ জুড়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করে, বিশেষত ভারত ও পাকিস্তানের শহরগুলোতে। রেডিও ও টেলিভিশন চ্যানেলে নিয়মিত বাজানো হলে এটি শোনোয়াদের হৃদয়ে স্থায়ী স্থান পায়।
গজলের সুরের সরলতা সত্ত্বেও তার কথার গভীরতা শোনোয়াদের বিভিন্ন বয়সের গোষ্ঠীকে আকৃষ্ট করে। ছোট বয়সের শোনোয়ারা প্রথমবার শোনার পরই গানের মেলোডি ও কথায় মুগ্ধ হয়, আর বয়স্ক শ্রোতারা তার দুঃখভরা অনুভূতিতে আত্মসাত করে।
গুলাম আলীর গজল গাওয়ার ধরন তার স্বতন্ত্র বারে টোনে গড়ে উঠেছে, যা গানের মর্মকে আরও স্পষ্ট করে। তার গায়িকীর সময়ে গানের স্বরলিপি ও সুরের সামঞ্জস্য শোনোয়াদের মধ্যে গভীর সংবেদনশীলতা জাগিয়ে তোলে।
গজলের কথায় প্রেমের ক্ষতি ও তার পরবর্তী স্বীকারোক্তি একসঙ্গে প্রকাশ পায়, যা শোনোয়াদের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিফলিত হয়। এই গজলটি শোনোয়াদের মধ্যে প্রেমের স্মৃতি ও তার পরিণতি নিয়ে আলোচনা উত্সাহিত করে।
বহু শিল্প সমালোচক গজলটির সুর ও গীতিকবিতার সমন্বয়কে আধুনিক গজল সঙ্গীতের একটি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা বলেন, গুলাম আলীর স্বর ও হস্রত মোহানির শব্দচয়ন একত্রে গজলের মানকে উঁচুতে তুলে ধরেছে।
আজও গজলটি বিভিন্ন সঙ্গীত প্ল্যাটফর্মে স্ট্রিমিং ও রেডিওতে শোনা যায়, যা নতুন প্রজন্মের শোনোয়াদের কাছে পৌঁছাচ্ছে। এর জনপ্রিয়তা বজায় রাখার পেছনে গানের সময়হীন থিম ও সুরের সরলতা রয়েছে।
গজলটি প্রেমের উষ্ণতা, ক্ষতি ও স্মৃতির মিশ্রণকে একত্রে উপস্থাপন করে, যা শোনোয়াদের হৃদয়ে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ রেখে যায়। গুলাম আলীর গায়িকী ও হস্রত মোহানির গীতিকবিতা একসঙ্গে এই গজলকে সঙ্গীতের ইতিহাসে একটি অমলিন রত্ন করে তুলেছে।



