ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন (EU EOM) ঢাকায় একটি সংবাদ সম্মেলনে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ১৩তম সংসদীয় নির্বাচনের ফলাফলকে বিশ্বাসযোগ্য এবং দক্ষভাবে পরিচালিত বলে মূল্যায়ন করেছে। মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভার্স ইজাবস, আজকের বিবৃতি উপস্থাপন করেন এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধিদল টোমাস জডেচভস্কি নেতৃত্বে মিশনের ফলাফল সমর্থন করেছে।
ইজাবস উল্লেখ করেন যে, এই নির্বাচনে প্রকৃত প্রতিযোগিতা দেখা গেছে এবং মৌলিক স্বাধীনতাগুলো ব্যাপকভাবে রক্ষা করা হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনী আইনি কাঠামো আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন স্বতন্ত্র ও স্বচ্ছভাবে কাজ করে ভোটারদের আস্থা জোরদার করেছে।
পর্যবেক্ষক দল নাগরিক পর্যবেক্ষক, তথ্য যাচাইকারী এবং যুবক-নারী কর্মীদের অবদানের প্রশংসা করে, যারা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াতে এবং ভোটারদের সঠিক তথ্য প্রদান করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এই অংশগ্রহণের ফলে ভোটাররা আরও সচেতনভাবে তাদের পছন্দ প্রকাশ করতে পেরেছেন।
দিবসের পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ ছিল বলে মিশন জানায়। ভোটদান ও গণনা প্রক্রিয়ায় কর্মীরা দক্ষতা দেখিয়েছেন, এবং সব ধাপে দলীয় এজেন্টদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছিল। ফলাফল প্রকাশের সময় স্থানীয় রিটার্নিং অফিসার এবং মিডিয়া দ্রুত আপডেট সরবরাহ করে জনসাধারণের আস্থা বজায় রেখেছে।
তবে মিশন কিছু ঘাটতি তুলে ধরেছে। দৃষ্টিবঞ্চিত ও শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ সীমিত ছিল, এবং নারীদের জন্য রাজনৈতিক স্থান এখনও যথেষ্ট নয়। কিছু এলাকায় স্থানীয় স্তরে হিংসা দেখা গেছে, এবং ভুল তথ্যের কারণে গোষ্ঠী আক্রমণের ভয় অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া আদিবাসী ও সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কম, কারণ ইতিবাচক পদক্ষেপের অভাব রয়েছে।
ইজাবস দেশের পুরনো প্রথা থেকে সরে এসে স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার ও জবাবদিহিতা শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
টোমাস জডেচভস্কি যুক্ত করেন, বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। তিনি নতুন সংসদ ও সরকারকে, পাশাপাশি অন্যান্য রাষ্ট্র সংস্থাগুলোকে, মিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করেন।
ইইউ পর্যবেক্ষক দলের এই মূল্যায়ন দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা নির্দেশ করে, তবে উল্লেখিত ঘাটতিগুলো সমাধান না হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পূর্ণতা অর্জন কঠিন হবে। ভবিষ্যতে নির্বাচনী সংস্কার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির বাস্তবায়ন দেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে।



