কোসারা মিতিচের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘১৭’ বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পার্সপেকটিভস প্রোগ্রামে ১৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্বপ্রদর্শনী পাবে। চলচ্চিত্রটি ১৭ বছর বয়সী সারা নামের মেয়ের গল্প, যিনি একটি স্কুল ট্রিপে গোপনীয়তা লুকিয়ে রাখেন এবং হঠাৎ তার বন্ধুর লিনার ওপর যৌন আক্রমণ ঘটতে দেখেন। দুই মেয়ে এই ঘটনার পরপরই সহিংসতার চক্র ভাঙার চেষ্টা করে, যা তাদের মধ্যে অমলিন বন্ধন গড়ে তোলে।
‘১৭’ ছবিতে এভা কোস্টিক ও মার্টিনা দানিলোভস্কা প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, সঙ্গে দামে জোভেস্কি, এভা স্টয়চেভস্কা এবং পেটার মানিকও রয়েছে। ছবির চিত্রনাট্য কোসারা মিতিচ ও ওগনজেন স্বিলিচিক একসাথে রচনা করেছেন, আর নাউম ডোকসেভস্কি চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন। সম্পাদনা কাজ ভ্লাদিমির পাভলভস্কি সম্পন্ন করেছেন।
বার্লিনের পার্সপেকটিভস প্রোগ্রামটি গত বছর থেকে উদীয়মান চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কাজকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার জন্য চালু হয়েছে, এবং ‘১৭’ এই উদ্দেশ্যের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। ছবির বিশ্ববিক্রয় টোটেম ফিল্মস পরিচালনা করছে, আর প্রযোজনা কাজ ব্ল্যাক ক্যাট প্রোডাকশন, আর্ট&পপকর্ন এবং ডিসেম্বার যৌথভাবে সম্পন্ন করেছে।
কোসারা মিতিচ স্কোপজে (বর্তমান উত্তর মেসিডোনিয়া) জন্মগ্রহণ করেন এবং বার্লিনেল ট্যালেন্টস প্রোগ্রামের প্রাক্তন সদস্য। তিনি আগে ‘ড্রপ বাই সামটাইম’, ‘বার্থডে’ এবং ‘দ্য রেড রুম’ শিরোনামের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পরিচালনা করে স্বীকৃতি অর্জন করেন। এই অভিজ্ঞতাগুলো তাকে ‘১৭’ ছবির সূক্ষ্ম মানবিক দিকগুলোতে গভীরতা যোগ করতে সহায়তা করেছে।
‘১৭’ ছবির একটি এক্সক্লুসিভ ক্লিপ থিয়েটার রিভিউ (THR) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে সারা এবং ফিলিপ (দামে জোভেস্কি অভিনীত) একে অপরের সঙ্গে মধুর কথোপকথন, গ্যাসলাইটিং এবং উত্তেজনা পূর্ণ দৃশ্যের মাধ্যমে পরিচিত হয়। এই দৃশ্যটি ছবির মূল থিম—যৌন সহিংসতার পরিণতি এবং তরুণী বন্ধুত্বের শক্তি—কে সূক্ষ্মভাবে প্রকাশ করে।
চিত্রনাট্যের মূল অনুপ্রেরণা হিসেবে মিতিচ উল্লেখ করেছেন যে, তরুণী মেয়েদের মধ্যে অনকথিত সংহতি এবং একে অপরকে রক্ষা করার ইচ্ছা তাকে এই গল্প লিখতে উদ্বুদ্ধ করেছে। তিনি বলেন, সমাজে গোপনীয়তা ও নীরবতা কীভাবে ক্ষতি বাড়ায়, তা তুলে ধরতে চেয়েছেন।
‘১৭’ ছবির নির্মাণে ব্যবহৃত ভিজ্যুয়াল স্টাইলটি বাস্তববাদী এবং সূক্ষ্ম, যা নাউম ডোকসেভস্কির ক্যামেরা কাজের মাধ্যমে ফুটে ওঠে। ছবির রঙের প্যালেট এবং শ্যুটিং লোকেশনগুলো স্কুল ট্রিপের স্বাভাবিক পরিবেশকে প্রতিফলিত করে, যা দর্শকের কাছে ঘটনাগুলোর বাস্তবিকতা বাড়িয়ে দেয়।
সম্পাদনা ভ্লাদিমির পাভলভস্কি ছবির টেম্পোকে সুনির্দিষ্টভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছেন, যাতে সারা ও লিনার মধ্যে ঘটমান ট্রমা ও পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। এই পদ্ধতি দর্শকের অনুভূতিকে গভীর করে এবং গল্পের আবেগময় স্তরকে সমৃদ্ধ করে।
‘১৭’ ছবির বিশ্ববিক্রয় টোটেম ফিল্মসের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায়, আন্তর্জাতিক বাজারে ছবির প্রচার ও বিতরণ সহজতর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ছবির থিম ও গল্পের গ্লোবাল প্রাসঙ্গিকতা এটিকে বিভিন্ন দেশে চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণের যোগ্য করে তুলেছে।
বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পার্সপেকটিভস প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে ‘১৭’ ছবির প্রদর্শনী চলচ্চিত্র শিল্পের নতুন কণ্ঠস্বরকে স্বীকৃতি দেয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এই সুযোগের মাধ্যমে মিতিচের কাজ আন্তর্জাতিক সমালোচকদের নজরে আসবে এবং ভবিষ্যতে তার ক্যারিয়ারকে নতুন দিগন্তে নিয়ে যাবে।
মিতিচের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানা যায়, তিনি ‘১৭’ ছবির পরেও নারী সংহতি ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে কেন্দ্র করে নতুন প্রকল্পের দিকে নজর রাখছেন। তার পূর্ববর্তী স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রগুলোতে দেখা যায়, তিনি সামাজিক সমস্যাগুলোকে সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করতে পারদর্শী, যা ‘১৭’ ছবিতেও স্পষ্ট।
সারসংক্ষেপে, কোসারা মিতিচের ‘১৭’ চলচ্চিত্রটি একটি তরুণী মেয়ের জীবনের অন্ধকার দিক এবং বন্ধুত্বের শক্তিকে সংবেদনশীলভাবে তুলে ধরেছে। বার্লিনের পার্সপেকটিভস প্রোগ্রামে বিশ্বপ্রদর্শনী তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করবে এবং ভবিষ্যতে আরও সমৃদ্ধ চলচ্চিত্রের প্রত্যাশা জাগাবে।



