ঢাকা, ফরেন সার্ভিস একাডেমি – ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে জুলাই জাতীয় সনদ সংক্রান্ত ৪৮ ধারা বাস্তবায়নের জন্য অধিকাংশ ভোটার সম্মতি জানাতে পারার পর, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দু’টি শপথ গ্রহণ করতে হবে বলে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ স্পষ্ট করে জানান।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সংবিধান সংস্কার আদেশ ২০২৫‑এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যেই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন হবে এবং তারা দু’টি শপথ নেবে – প্রথমটি সংসদ সদস্য হিসেবে, আর দ্বিতীয়টি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে।
আলী রীয়াজ শনিবার সকালে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “সংবিধান সংস্কার পরিষদের মেয়াদ আদেশে নির্ধারিত ১৮০ দিন, এবং এই সময়সীমার মধ্যে পরিষদকে কাজ সম্পন্ন করতে হবে।”
গণভোটে ভোটাররা ৪৮ ধারা নিয়ে অধিকাংশ সমর্থন প্রদান করেছেন, ফলে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের ভিত্তি নিশ্চিত হয়েছে। এই পরিষদে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সংবিধান সংস্কার পরিষদকে নোট অব ডিসেন্টসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আলী রীয়াজ বলেন, “নোট অব ডিসেন্টের বিষয়গুলো এখন একটি জনরায় হিসেবে স্বীকৃত, এবং পরিষদকে এই দিকগুলো স্পষ্টভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।”
বহুমতিপূর্ণ দল হিসেবে নির্বাচিত হওয়া দল এবং অন্যান্য দলগুলোর প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে, তারা তাদের নির্বাচনী অঙ্গীকারের ভিত্তিতে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ অনুসারে পদক্ষেপ নেবে। রীয়াজ জোর দিয়ে বলেন, “সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল এবং অন্যান্য দলের প্রতিনিধিরা দু’টি শপথের দায়িত্বকে সমানভাবে বিবেচনা করবেন।”
একজন সাংবাদিকের প্রশ্নে উল্লেখ করা হয় যে, উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন সমানুপাতিক হলেও বিজয়ী রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে আসন অনুপাতে উচ্চকক্ষের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। রীয়াজ এ বিষয়ে ব্যাখ্যা করেন যে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মেনিফেস্টোতে আসন অনুপাতে উচ্চকক্ষের উপস্থিতি উল্লেখ করা হয়েছে এবং এটি তাদের রাজনৈতিক অবস্থান হিসেবে প্রকাশিত।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের কাজের সময়সীমা ১৮০ দিন নির্ধারিত হওয়ায়, পরবর্তী কয়েক মাসে পরিষদের গঠন, সদস্য নির্বাচন এবং প্রথম শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়া দ্রুত অগ্রসর হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই শপথ গ্রহণের পর, পরিষদকে সংশ্লিষ্ট ধারা ও নোট অব ডিসেন্টের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রস্তুত করে সরকারকে উপস্থাপন করতে হবে।
আলী রীয়াজের মতে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের কার্যক্রমে সকল রাজনৈতিক দলের সমন্বয় এবং ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে কাজ করা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি যোগ করেন, “যদি সব দলই জনরায়ের এই দুই দিক—সংসদীয় শপথ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ—মেনে চলে, তবে সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া মসৃণভাবে এগোতে পারবে।”
গণভোটের ফলাফল এবং শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দিক নির্দেশ করবে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের গঠন এবং কাজের অগ্রগতি দেশের আইনগত কাঠামোকে আধুনিকায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রতিনিধি দলগুলোকে এখন তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে। এই প্রক্রিয়ার সফলতা দেশের আইনগত সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণের পর, পরিষদকে ১৮০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবনা প্রস্তুত করে বাংলাদেশ সরকারের কাছে জমা দিতে হবে। এরপর সরকার সংশ্লিষ্ট আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
সারসংক্ষেপে, জুলাই জাতীয় সনদ সংক্রান্ত গণভোটের ফলাফল এবং নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দু’টি শপথ গ্রহণের পরিকল্পনা দেশের সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি গঠন করবে, এবং সকল রাজনৈতিক দলের সমন্বিত প্রচেষ্টা এই সংস্কারকে সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



