বেরলিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতামূলক তালিকায় বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, অস্ট্রিয়ার গায়ক আল কুকের নতুন ডকু-ফিকশন চলচ্চিত্র “দ্য লোনেলিস্ট ম্যান ইন টাউন” বিশ্বপ্রিমিয়ার দেখেছে। গায়কটি নিজের জন্মনাম অ্যালয়স কোচের ইংরেজি রূপে পরিচিত, এবং তিনি ছবিতে নিজেরই কাল্পনিক সংস্করণে অভিনয় করেছেন।
আল কুক ভিয়েনার এক পুরনো বাসায় বসবাস করেন, যেখানে তিনি ব্লুজ সঙ্গীতের গভীর অনুরাগী এবং বহু দশক ধরে গিটার ও ভোকাল দিয়ে নিজের স্বতন্ত্র শৈলী গড়ে তুলেছেন। তার সঙ্গীতের মূল স্রোত ব্লুজ, যা তাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি এনে দিয়েছে। এই চলচ্চিত্রে তিনি শুধু গায়কই নয়, নিজের জীবনের এক অংশও উপস্থাপন করছেন।
চলচ্চিত্রটি টিজা কোভি ও রেইনার ফ্রিমেল পরিচালনা করেছেন, যারা পূর্বে “ভেরা”, “নোটস ফ্রম দ্য আন্ডারওয়ার্ল্ড”, “মিস্টার ইউনিভার্সো”, “দ্য শাইন অফ ডে” এবং “বাবোস্কা” সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বীকৃত কাজের জন্য পরিচিত। তাদের এই নতুন প্রকল্পটি ডকু-ফিকশন শৈলীতে নির্মিত, যেখানে বাস্তব ঘটনা ও কাল্পনিক উপাদান মিশ্রিত হয়েছে।
বেরলিন উৎসবে ছবির বিশ্বপ্রিমিয়ারটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে এই চলচ্চিত্রটি বিশ্বব্যাপী দর্শকদের সামনে প্রথমবার উপস্থাপিত হয়েছে, যা অস্ট্রিয়ার সঙ্গীত ও সংস্কৃতির একটি নতুন দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করে।
চলচ্চিত্রের কাহিনী ভিয়েনার এক পুরনো অ্যাপার্টমেন্টে কেন্দ্রীভূত, যেখানে আলের বাসস্থান ও বেসমেন্ট স্টুডিও বই, ভিডিও টেপ এবং ভিনাইল রেকর্ডে ভরা। এই জিনিসগুলো তার অতীতের স্মৃতি ও সৃষ্টিশীলতা বহন করে, আর তার জীবনের এক সময়ের পূর্ণতা এখনো সেখানে লুকিয়ে আছে।
ব্লুজের সুরে তার হৃদয় বেঁধে থাকা সত্ত্বেও, শহরের আধুনিকতা ও পরিবর্তন তার পুরনো জীবনের ছায়া ধীরে ধীরে মুছে ফেলছে। তার জন্মভূমি আর তার জন্য আর বাড়ি নয়, এবং তার প্রিয় স্ত্রী সিলভিয়ার মৃত্যুর শোক এখনও তার হৃদয়ে গভীরভাবে বসে আছে। এই দুটো কারণই তার জীবনে একাকিত্বের অনুভূতি বাড়িয়ে তুলেছে।
চিত্রের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে যখন একটি বড় রিয়েল এস্টেট কোম্পানি তার বাড়ি ধ্বংসের পরিকল্পনা করে। এই পরিকল্পনা তার নিরাপদ আশ্রয়কে হুমকির মুখে ফেলে, এবং তাকে তার সঞ্চিত স্মৃতি ও সম্পদ একের পর এক ছেড়ে দিতে বাধ্য করে। এই পরিস্থিতি তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে যে, স্মৃতির বাইরে কীভাবে এগিয়ে যাওয়া যায়।
আল কুকের চরিত্রটি এই সংকটের মুখে একটি র্যাডিক্যাল সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি পুরনো জিনিসপত্র ছেড়ে নতুন পথে পা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন, যা তার জীবনের পুনর্নির্মাণের সংকেত দেয়। ছবিটি এই পরিবর্তনের প্রক্রিয়াকে সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করে, যেখানে তার সঙ্গীতের ব্লুজ ধীরে ধীরে নতুন রূপে রূপান্তরিত হয়।
চলচ্চিত্রটি বিশ্বাসের দৃঢ়তা, পরিবর্তনের মুখে আপোষ না করা এবং স্মৃতির শক্তি নিয়ে একটি বার্তা দেয়। দর্শকরা আলের সংগ্রাম ও তার সঙ্গীতের মাধ্যমে মানবিক দিক থেকে আত্ম-অন্বেষণ এবং পুনর্জন্মের প্রক্রিয়া দেখতে পাবেন। এই থিমগুলো আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল সমাজে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।
বেরলিন উৎসবে এই চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ারটি অস্ট্রিয়ার সঙ্গীত ও সংস্কৃতির একটি নতুন দৃষ্টিকোণ বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপন করেছে। আল কুকের ব্লুজের সুর ও তার জীবনের গল্প একসাথে মিশে একটি অনন্য শিল্পকর্ম তৈরি করেছে, যা দর্শকদের হৃদয়কে স্পর্শ করবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ডকু-ফিকশন প্রকল্পগুলোকে সমর্থন করা এবং স্থানীয় শিল্পীদের সৃজনশীলতা বজায় রাখা আমাদের সকলের দায়িত্ব।



