ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান আইভার্স আইজাবস শনিবার ঢাকার একটি হোটেলে ত্রয়োদশ সংসদীয় নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য, দক্ষ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বলে মূল্যায়ন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের নির্বাচন গণতান্ত্রিক শাসন ও আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।
আইজাবসের মতে, নির্বাচনের আইনি কাঠামো আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন স্বতন্ত্র ও স্বচ্ছভাবে কাজ করে নির্বাচনের সততা রক্ষা করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মৌলিক অধিকারগুলো ব্যাপকভাবে সংরক্ষিত থাকায় এই নির্বাচন প্রকৃত অর্থে প্রতিযোগিতামূলক ছিল।
এই মূল্যায়নের পেছনে ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাঝামাঝি দেশে আসা ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদী ইইউ পর্যবেক্ষকের দল রয়েছে, যাদের পরে স্বল্পমেয়াদী পর্যবেক্ষকরা যোগ দিয়ে মোট পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ২২৩-এ পৌঁছেছে। পর্যবেক্ষকরা কানাডা, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ডসহ ইইউ সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিও ছিলেন, এবং তারা ৬৪টি জেলায় ভোটের পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেছেন।
পর্যবেক্ষক দল ভোটকেন্দ্রের খোলা, ভোটগ্রহণ, ভোটগণনা, ফলাফল তালিকাভুক্তি ইত্যাদি ধাপগুলো নিবিড়ভাবে অনুসরণ করেছে। তারা জানিয়েছে, ভোট গ্রহণ ও গণনার কাজ পোলিং কর্মকর্তারা দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন, এবং প্রতিটি স্তরে রাজনৈতিক দলের পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতি স্বচ্ছতা বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।
আইজাবস উল্লেখ করেন, নির্বাচনের দিনটি সুশৃঙ্খল, উৎসবমুখর এবং শান্তিপূর্ণ ছিল। তিনি নাগরিক পর্যবেক্ষক, ফ্যাক্ট-চেকার এবং বিশেষ করে তরুণ ও নারী কর্মীদের ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, তাদের অংশগ্রহণ ভোটারদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করেছে এবং জনআস্থার পুনর্গঠন ঘটিয়েছে।
ইইউ পর্যবেক্ষক দল নির্বাচনের ফলাফলকে স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতার দিক থেকে প্রশংসা করে, পাশাপাশি ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উন্নয়নের জন্য সুপারিশও উপস্থাপন করেছে। তারা উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের স্বতন্ত্রতা ও পেশাদারিত্ব দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এই মূল্যায়ন দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা যায়। প্রধান দলগুলোকে নির্বাচনের ফলাফলে স্বীকৃতি জানাতে এবং আইনসঙ্গত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে, পর্যবেক্ষকরা ভবিষ্যৎ নির্বাচনে নাগরিক অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা উন্নত করতে পরামর্শ দিয়েছেন।
সামগ্রিকভাবে, ত্রয়োদশ সংসদীয় নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ এবং প্রতিযোগিতামূলক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠা ও আন্তর্জাতিক সুনাম বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।



