26 C
Dhaka
Saturday, February 14, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজামাতের আমীর শফিকুর রহমান ফলাফলকে ভিত্তি বলে সমর্থকদের উৎসাহিত করলেন

জামাতের আমীর শফিকুর রহমান ফলাফলকে ভিত্তি বলে সমর্থকদের উৎসাহিত করলেন

বাংলাদেশের জামাত‑ই‑ইসলামি আমীর শফিকুর রহমান নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে সমর্থকদের হাল না হারাতে আহ্বান জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। তিনি পার্টির ৭৭টি আসনকে “ভিত্তি” হিসেবে উল্লেখ করে ফলাফলকে ব্যর্থতা নয়, বরং ভবিষ্যৎ গঠনের সূচনা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি নির্বাচনের পর ঘটতে থাকা সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর নিন্দা জানিয়ে রাজনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তোলেন।

বিবৃতি শফিকুরের স্বীকৃত ফেসবুক পেজে গত রাতের শেষ দিকে পোস্ট করা হয়। এতে তিনি স্বীকার করেন, অনেক সমর্থক ফলাফল নিয়ে দুঃখ ও হতাশা অনুভব করছেন, তবে তাদের প্রচেষ্টা বৃথা যায়নি। তিনি সক্রিয় কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তাদের অবদানের প্রশংসা করেন এবং ফলাফলের পর ধৈর্য ধরতে আহ্বান জানান।

শফিকুরের মতে, জামাতের পার্লামেন্টে আসনের সংখ্যা প্রায় চারগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৭৭টি হয়েছে, যা আধুনিক বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যে অন্যতম শক্তিশালী বিরোধী গোষ্ঠী হিসেবে তার অবস্থানকে দৃঢ় করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই বৃদ্ধি পার্টির দীর্ঘমেয়াদী কৌশল ও সমর্থকদের নিবেদন ফল।

বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, কিছু কর্মী তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ব্যবহার করার জন্য “হুমকি ও হয়রানির” শিকার হয়েছেন। এ ধরনের ঘটনা দেশের গণতন্ত্রকে দুর্বল করার বদলে, তার শক্তি বাড়িয়ে তুলেছে, তিনি যুক্তি দেন।

সমর্থকদের হতাশা স্বাভাবিক বলে শফিকুর বলেন, কারণ রাজনৈতিক কাজে হৃদয় ও সময় বিনিয়োগ করা মানুষ সহজে সন্তুষ্ট হয় না। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফলাফলকে ব্যর্থতা হিসেবে না দেখে, তা ভবিষ্যৎ গঠনের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।

শফিকুরের বিবৃতিতে তিনি পার্টির পার্লামেন্টে আসনের সংখ্যা চারগুণ বাড়িয়ে ৭৭টি হওয়াকে “ভিত্তি” বলে বর্ণনা করেন। তিনি এটিকে কোনো হ্রাস নয়, বরং শক্তিশালী বিরোধী ব্লক গঠনের সূচনা হিসেবে দেখেন।

রাজনৈতিক ভাগ্যের পরিবর্তনশীল প্রকৃতি তুলে ধরে তিনি বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী পার্টি (বিএনপি)-এর উদাহরণ দেন। ২০০৮ সালে ৩০টি আসনে হ্রাস পেয়ে ২০২৬ সালে ১৮ বছরের পর পুনরায় শাসন দখল করা পর্যন্ত তার যাত্রা, শফিকুরের মতে, দীর্ঘমেয়াদী ধৈর্য ও দৃঢ়তার ফল।

শফিকুরের মতে, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে পথ দীর্ঘ এবং ধৈর্যশীল হতে হবে। তিনি পার্টির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হিসেবে জনগণের বিশ্বাস অর্জন, শাসনকে জবাবদিহি করা এবং দায়িত্বশীলভাবে প্রস্তুতি নেওয়া উল্লেখ করেন।

বিবৃতিতে তিনি নেতৃত্বের প্রকৃত পরীক্ষা শুধুমাত্র প্রচার নয়, বরং জনগণের ভোটের পর কীভাবে সাড়া দেয় তাতেই নিহিত, তা জোর দিয়ে বলেন। তিনি পার্টির কর্মীদেরকে ভোটের ফলাফলের পরেও সক্রিয় থাকতে এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে উৎসাহিত করেন।

শফিকুরের মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি পোস্ট-ইলেকশন সহিংসতার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেন। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক কর্মী ও সমর্থকদের ওপর আক্রমণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষুন্ন করে এবং তা তীব্রভাবে নিন্দা করা উচিত।

এই বিবৃতি দেশের বিভিন্ন রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। যদিও তিনি সরাসরি কোনো বিরোধীর নাম উল্লেখ করেননি, তবে তার মন্তব্যে বর্তমান শাসনকর্তা ও বিরোধী পার্টির মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

শফিকুরের বক্তব্যের পর জামাতের স্থানীয় শাখাগুলোতে সমর্থকদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কর্মীরা সামাজিক মাধ্যমে পার্টির ভবিষ্যৎ গঠনে এই ভিত্তি ব্যবহার করার আহ্বানকে স্বাগত জানিয়েছেন।

অধিকন্তু, শফিকুরের মন্তব্যে তিনি পার্টির অভ্যন্তরীণ সংহতি ও সংগঠনের শক্তি তুলে ধরেছেন, যা আসন্ন সময়ে রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদী।

সামগ্রিকভাবে, শফিকুরের বিবৃতি জামাতের নির্বাচনী ফলাফলকে পুনর্গঠন করার প্রচেষ্টা এবং রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানকে প্রকাশ করে। তিনি সমর্থকদের ধৈর্য ধরতে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে আহ্বান জানিয়েছেন।

এই ঘটনাটি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দিক উন্মোচন করেছে, যেখানে জামাতের পার্লামেন্টে উপস্থিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার নীতি ও কৌশলগুলোও পুনর্বিবেচনা করা হবে। ভবিষ্যতে পার্টি কীভাবে এই ভিত্তি ব্যবহার করে দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করবে, তা সময়ই বলবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments