বিনোদন জগতের বিশিষ্ট অভিনেতা নাগারজুনা সম্প্রতি ছুটিতে থাকাকালীন একটি গুজবের জবাব দেন। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, তাকে ধুরন্ধর ছবিতে আকশয়ে খান্নার চরিত্রের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে এমন কোনো প্রস্তাব কখনো পাননি, যদিও তিনি সেই সুযোগ পেলে আনন্দিত হতেন।
নাগারজুনা বলেন, “আমি কখনো সেই ভূমিকা পেয়েছি না, তবু যদি পেতাম তবে খুবই ভালো হতো।” তার এই মন্তব্যে ছবির গুণগত মানের প্রশংসা ছড়িয়ে পড়ে। তিনি ধুরন্ধরকে “একটি চমৎকার চলচ্চিত্র” বলে উল্লেখ করেন এবং পরিচালক আদিত্য ধারের কাজকে প্রশংসা করেন।
চলচ্চিত্রের দিকনির্দেশনা ও গল্প বলার পদ্ধতি নিয়ে তিনি বিশেষ মন্তব্য করেন। আদিত্য ধারের পরিচালনা শৈলীকে “অত্যন্ত দক্ষ” বলে বর্ণনা করে, তিনি পূর্বে ধারের তৈরি “উরি” ছবিটিকেও প্রশংসা করেন। এই দুই ছবিই আধুনিক ভারতীয় সিনেমার মানদণ্ডকে নতুন করে নির্ধারণ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অ্যাকশয়ে খান্নার অভিনয়কে তিনি “অসাধারণ” বলে প্রশংসা করেন। অভিনেতার চরিত্রে ঢুকে যাওয়া, সংলাপের স্বাভাবিকতা এবং আবেগের প্রকাশকে তিনি প্রশংসা করে বলেন, “অ্যাকশয়ে সত্যিই চমৎকার কাজ করেছেন।” এই মন্তব্যগুলো দর্শকদের মধ্যে ছবির প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে তুলেছে।
ধুরন্ধরের সিক্যুয়েল সম্পর্কে নাগারজুনা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। তিনি ভবিষ্যৎ ধারাবাহিকের জন্য “অত্যন্ত উত্তেজিত” এবং “বড় সাফল্য” কামনা করেন। চলচ্চিত্রের সাফল্যকে ধারাবাহিকের ভিত্তি হিসেবে দেখিয়ে, তিনি পুরো টিমের জন্য শুভকামনা জানান।
এদিকে, নাগারজুনা নিজের ১০০তম চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে ব্যস্ত। এই মাইলফলকটি তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “এই ছবিটি আমাদের জন্য বিশেষ, তাই আমরা কোনো তাড়াহুড়ো না করে যথাযথ সময়ে কাজটি সম্পন্ন করতে চাই।” শুটিংয়ের গতি ও মান বজায় রাখতে তিনি সতর্কতা অবলম্বন করছেন।
শুটিং প্রক্রিয়ায় তিনি কোনো চাপের কথা উল্লেখ না করে, কাজের গুণগত মানকে অগ্রাধিকার দেন। “দ্রুত শেষ করার চেয়ে ছবিটিকে বিশেষ করে তোলা গুরুত্বপূর্ণ,” তিনি বলেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি তার দীর্ঘমেয়াদী ক্যারিয়ার পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ধুরন্ধরের পর দর্শকদের প্রত্যাশা আন্তর্জাতিক মানের গল্প বলার দিকে পরিবর্তিত হয়েছে, এ কথাটি নাগারজুনা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “ধুরন্ধর দেখিয়ে দিয়েছে যে দর্শকরা এখন উচ্চ মানের, বিশ্বজনীন গল্পের দাবি রাখে।” এই প্রবণতা ভবিষ্যৎ চলচ্চিত্র নির্মাণে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিনোদন শিল্পের বর্তমান পর্যায়ে, অভিনেতা ও নির্মাতারা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে চায়। নাগারজুনার মন্তব্যগুলো এই পরিবর্তনের একটি স্পষ্ট উদাহরণ। তিনি নিজের কাজের মাধ্যমে এই মানদণ্ডকে বজায় রাখতে চায়, পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের জন্য মডেল হতে চান।
সারসংক্ষেপে, নাগারজুনা ধুরন্ধরের ভূমিকা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পাশাপাশি ছবির গুণগত মান ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে, তার ১০০তম চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে তিনি মান ও সময়ের গুরুত্বকে জোর দিয়ে বলছেন, যা ভারতীয় সিনেমার নতুন দিগন্তের সূচনা নির্দেশ করে।



