মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, ১ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত চালু করা তদারকি অভিযানগুলোর ফলস্বরূপ ৬,২০০ অবৈধ অভিবাসী এবং ২৩০ নিয়োগকর্তা গ্রেফতার হয়েছে।
অভিবাসন ও পারমিট জালিয়াতি রোধে গৃহীত কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে, এই সময়ের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মোট ২৭,০০০ বিদেশি নাগরিকের তল্লাশি করা হয়েছে।
ইমিগ্রেশন বিভাগের উপমহাপরিচালক লোকমান আফেন্দি রামলি উল্লেখ করেন, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া দেশে অবস্থানকারী বা পারমিটের শর্ত লঙ্ঘনকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো রকম ছাড় দেওয়া হবে না।
১৪ ফেব্রুয়ারি রাতের দিকে সেলাঙ্গর অঙ্গরাজ্যের কাজাংয়ের সুংগাই লং এলাকায় ‘অপস সেলেরা’ নামের একটি বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে উপস্থিত ২২৫ বিদেশি এবং ২৩৮ স্থানীয় নাগরিকের পরিচয় যাচাই করা হয়।
পরীক্ষার শেষে ৫১ জন অবৈধ অভিবাসীকে তৎক্ষণাৎ গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারদের বয়স ২১ থেকে ৩৬ বছরের মধ্যে, যা কর্মসংস্থানের জন্য পারমিটধারী তরুণদের অধিকাংশকে অন্তর্ভুক্ত করে।
তদন্তে প্রকাশ পায়, কিছু গ্রেফতার ব্যক্তি যদিও প্ল্যান্টেশন বা বাগান কাজের জন্য পারমিট পেয়েছিলেন, তবুও তারা খাদ্য ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় কাজ করছিলেন। এই ধরনের পারমিটের অপব্যবহার সরাসরি মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইনের লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
রমজান মাসের আগমনকে লক্ষ্য করে ইমিগ্রেশন বিভাগ বাজার, বিশেষ করে রমজান বাজারে নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এই সময়ে অবৈধভাবে স্টল পরিচালনা বা অন্যের পারমিট ব্যবহার করে ব্যবসা চালানোর প্রচেষ্টা রোধে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হবে।
টাস্কফোর্সের সদস্যরা বাজারে উপস্থিত বিদেশি কর্মী ও তাদের নিয়োগকর্তাদের ওপর তদারকি করবে, এবং কোনো লঙ্ঘন ধরা পড়লে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইমিগ্রেশন বিভাগের স্পষ্ট বার্তা হল, অবৈধ অভিবাসন, পারমিট বাণিজ্য এবং আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। শুধুমাত্র অবৈধ কর্মী নয়, তাদের নিয়োগকর্তা ও সুবিধাভোগীরাও কঠোর আইনি জালে আটকে যাবে।
বৈধভাবে দেশে অবস্থান করতে হলে সকল নাগরিককে আইন মেনে চলতে হবে, এটাই বিভাগের শেষ মন্তব্য।



