ঢাকা শহরে বসন্তের প্রথম দিন, প্রথম ফালগুন, রঙিন পোশাক ও ফুলের গন্ধে ভরে উঠেছে। সকালবেলা নরম সূর্যালোক, পাতা ঝলক, এবং শিমুল‑পলাশের সুগন্ধি বাতাসে মিশে শহরের পরিবেশকে উষ্ণ করেছে। দেশের নানা প্রান্তে ফুলের ভাণ্ডার, কবিতা, সঙ্গীত ও নৃত্যের মাধ্যমে বসন্তের আগমন উদযাপন করা হচ্ছে, যা প্রকৃতির পুনর্জন্মের সঙ্গে সাংস্কৃতিক প্রকাশের মেলবন্ধন ঘটাচ্ছে।
ঢাকায় জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ “বসন্ত উৎসব ১৪৩২” শিরোনামে এক দিনের অনুষ্ঠান ঘোষণা করেছে। সকাল ৭:৩০ টায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়, যেখানে গানের সুরে ও নৃত্যের ছন্দে নতুন ঋতুর স্বাগত জানানো হয়। সাংস্কৃতিক সংস্থা, শিক্ষার্থী ও পরিবারগুলো তাড়াতাড়ি জড়ো হয়ে রঙিন পোশাক পরিধান করে উপস্থিত হয়।
বসন্তের রঙের ছোঁয়া দৈনন্দিন যাতায়াতেও ছড়িয়ে পড়ে। মেট্রোরেল যাত্রীদের মধ্যে ফুলের হেডব্যান্ড ও উজ্জ্বল পোষাকের দৃশ্য দেখা যায়, আর অফিস কর্মচারীরা আনুষ্ঠানিক পোশাকের বদলে রঙিন শাড়ি ও পাঞ্জাবি পরিধান করে উৎসবে অংশ নেয়। এক মেট্রো কোচে ওমর ফারুক পরিবারসহ টিএসসিতে যাচ্ছিলেন, সবাই হলুদ‑কমলা রঙে সজ্জিত। তিনি হাসি মুখে বললেন, “আজ শনিবার, ছুটির দিন, তাই পরিবারসহ উৎসব উপভোগ করছি।”
আগারগাঁও ও শাহবাগের রাস্তার পাশে মারিগোল্ড, গোলাপ ও মৌসুমী ফুলের স্টলগুলোতে ভিড় জমে। বিক্রেতারা জানান, সকালেই বিক্রয় দ্রুত হয়েছে, কারণ মানুষ বন্ধু ও প্রিয়জনের সঙ্গে ফুলের বিনিময় করে আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছে। এই রঙিন দৃশ্য বসন্তের কবিতায় “ঋতুর রাজা” হিসেবে বর্ণিত সৌন্দর্য, প্রাণশক্তি ও আশার প্রতীককে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। সূর্যের কোমল তাপ, পাখির কিচিরমিচির ও হালকা বাতাস শহরের পরিবেশকে উত্সবমুখর ও অন্তরঙ্গ করে তুলেছে।
অনেকের জন্য প্রথম ফালগুন কেবল একটি তারিখ নয়, বরং ইন্দ্রিয়ের এক অভিজ্ঞতা। শিমুল ও পলাশের গন্ধ, গানের সুর, এবং প্রথাগত রীতির সান্নিধ্য মানুষকে একত্রিত করে। ধানমন্ডি ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তরুণরা ফুলের গুচ্ছ বিনিময় করে, রঙিন পাঞ্জাবি ও শাড়ি পরিধান করে, এবং সঙ্গীতের সঙ্গে নাচে বসন্তের আনন্দ ভাগ করে।
বসন্তের এই উল্লাসময় উদযাপন শহরের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে রয়েছে; স্কুলের ছেলেমেয়েরা গাছের নিচে কবিতা পাঠ করে, ক্যাফে গুলোতে বসন্তের থিমে মেনু প্রকাশ পায়, আর শিল্পী ও সঙ্গীতশিল্পীরা রাস্তায় ছোট ছোট পারফরম্যান্স দিয়ে পরিবেশকে সমৃদ্ধ করে। এইসব কার্যক্রমের মাধ্যমে বসন্তের রঙ ও সুর শহরের প্রতিটি কোণায় প্রবেশ করেছে, যা মানুষকে প্রকৃতির পুনর্জন্মের সঙ্গে আত্মীয়তা অনুভব করায়।
বসন্তের প্রথম দিন, প্রথম ফালগুন, ঢাকার রাস্তায়, মেট্রোরেলে, এবং পার্কে একত্রিত হয়ে একটি রঙিন, সুরেলা ও উষ্ণ পরিবেশ তৈরি করেছে। এই উদযাপন শুধু ঋতুর পরিবর্তন নয়, বরং সমাজের সকল স্তরের মানুষের মধ্যে ঐক্য ও আনন্দের সেতু গড়ে তুলেছে।



