১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত প্রায় ৭ টায় গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুমার বাল্লামঝার এলাকায় একটি বাড়ির উঠোনে অচেনা গোষ্ঠীর আক্রমণে এক আইন সহকারী প্রাণ হারান। ঘটনাস্থলে উপস্থিত গৃহস্থ লোকের বর্ণনা অনুযায়ী, দুই-তিনজন অপরিচিত ব্যক্তি প্রধান গেট দিয়ে প্রবেশ করে শিকারের দিকে তীক্ষ্ণ টুকরায় আঘাত করেন। শিকারের নাম অমিতাভ চন্দ্র সুজন, বয়স চল্লিশ, যিনি গাইবান্ধা জেলা ও সেশন জাজ কোর্টে ‘মুহুরি’ পদে কাজ করতেন এবং আদালতের নথি সংরক্ষণ ও রেকর্ড রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন।
গাইবান্ধা সদর থানা অফিসার ইন-চার্জ আবদুল্লাহ আল মামুনের বিবরণে বলা হয়েছে, সুজন বাড়ির উঠোনে একা দাঁড়িয়ে থাকাকালীন আক্রমণকারীরা হঠাৎ করে প্রবেশ করে তাকে টুকরায় আঘাত করেন এবং দ্রুতই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। আক্রমণের সময় শিকারের কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি এবং বাড়ির আশেপাশে কোনো নিরাপত্তা ক্যামেরা স্থাপিত ছিল না। আহত অবস্থায় শিকারের পরিবার তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়, তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগে তার প্রাণ শেষ হয়।
পুলিশের মতে, আক্রমণে ব্যবহৃত টুকরাটি ঘটনাস্থল থেকে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে। টুকরাটি ধারালো এবং আকারে তলোয়ারের সমান, যা শিকারের মাথায় সরাসরি আঘাতের কারণ হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। মৃতের দেহে অটোপসি করা হবে যাতে আঘাতের প্রকৃতি, মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং কোনো অতিরিক্ত আঘাতের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়। অটোপসির ফলাফল পাওয়া মাত্রই পরিবারকে জানানো হবে।
শিকারের বড় ভাই সুধান চন্দ্র রায় জানান, গত তিন-চার বছর ধরে পার্শ্ববর্তী জমি নিয়ে প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধ চলছিল এবং পরিবার এই বিরোধকে আক্রমণের সম্ভাব্য প্রেরণা হিসেবে দেখছে। তবে অফিসার ইন-চার্জ উল্লেখ করেন, এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক সংযোগ পাওয়া যায়নি এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তি বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করছেন। তদন্ত দল সব সম্ভাব্য দিক বিশ্লেষণ করছে, যার মধ্যে রয়েছে জমি বিরোধের পটভূমি, পারিবারিক বিবাদ এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত সংঘাত।
গাইবান্ধা পুলিশের তদন্তে স্থানীয় তথ্য সংগ্রহ, সিসিটিভি রেকর্ড বিশ্লেষণ এবং সাক্ষী বিবৃতি সংগ্রহের পাশাপাশি টুকরার ফোরেনসিক রিপোর্টকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হবে। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি এবং সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করার জন্য অতিরিক্ত অনুসন্ধান চালু রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধীদের সনাক্ত না করা পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হবে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে গাইবান্ধা থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলার শোনানির তারিখ নির্ধারিত হবে এবং পরিবারকে আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে। এছাড়া, মৃতের দেহে অটোপসির ফলাফল আদালতে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।
স্থানীয় সমাজে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া গভীর শোকের সঙ্গে দেখা গেছে। প্রতিবেশীরা শিকারের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে। গাইবান্ধা জেলার আইনগত ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি একত্রে কাজ করে এই ধরনের হিংসাত্মক অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
গাইবান্ধা থানার অফিসার ইন-চার্জ ভবিষ্যতে ঘটনার সম্পূর্ণ তদন্তের জন্য সকল সম্ভাব্য সূত্র অনুসন্ধান চালিয়ে যাবে এবং সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করে আইনের শাসন নিশ্চিত করবে। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।



