ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় শনিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দফা‑দফা সংঘর্ষে বসতবাড়ি ধ্বংস, অগ্নিকাণ্ড এবং আহতের সংখ্যা বেড়ে যায়। ঘটনাগুলি যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া ও পার্শ্ববর্তী বোয়ালমারী, পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ময়েনদিয়া এলাকায় ঘটেছে, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছেন।
সকাল থেকে শুরু হওয়া এই হিংসাত্মক দাঙ্গা কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে চলেছে, যার ফলে গৃহবন্দি ও গৃহহীনতা বৃদ্ধি পায়। গৃহবসতিগুলি পুড়েছে, জানালার কাঁচ ভেঙে গেছে এবং কিছু পরিবার সম্পূর্ণভাবে ধ্বংসাবশেষের মধ্যে আটকে আছে। আহতদের সংখ্যা এখনও সুনির্দিষ্ট না হলেও, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী একাধিক ব্যক্তি চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ফরিদপুর-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ মিডিয়ায় উপস্থিত হয়ে কঠোর নীতি গ্রহণের ইঙ্গিত দেন। শামা ওবায়েদ বলেন, “প্রিয় সালথাবাসী, আপনারা শান্ত থাকুন। কোনো ধরনের সহিংসতা কাম্য নয়। যারা হামলা বা সহিংসতায় জড়াবে, তাদের বিরুদ্ধে আমি কঠোর অবস্থান নেব এবং বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ অবস্থান করছে, তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করুন এবং নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখুন।” তিনি আরও জোর দিয়ে বললেন যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা অপরিহার্য।
শামা ওবায়েদের মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তৎপর হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সেনাবাহিনী ও পুলিশ দফা‑দফা মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে হিংসা থামিয়ে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়। নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে, তবে এখনও অস্থিরতা বজায় রয়েছে।
স্থানীয় নেতারা এবং সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠীও শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। তারা উল্লেখ করেছে যে, হিংসা কোনো রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের উপায় হতে পারে না এবং এর ফলে সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন ব্যাহত হবে। এদিকে, বিরোধী দলগুলোর মধ্যে এই ঘটনাকে রাজনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত করে তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে, যেখানে কিছু বিশ্লেষকরা বলছেন যে, এই ধরনের সংঘর্ষ নির্বাচনী সময়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
শামা ওবায়েদের সতর্কতা ও নিরাপত্তা বাহিনীর পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে, ভবিষ্যতে কী ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব দেখা যাবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে। যদি হিংসা নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে এটি স্থানীয় ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে এবং পরবর্তী নির্বাচনে ভোটের প্রবণতায় পরিবর্তন আনতে পারে। অন্যদিকে, শামা ওবায়েদ ও বিএনপি যদি শান্তি রক্ষার জন্য সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করে, তবে তা তাদের রাজনৈতিক সুনাম বাড়াতে সহায়তা করবে।
অবশেষে, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে, স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং হিংসা বন্ধ করা এখনই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সকল পক্ষের সহযোগিতা এবং শামা ওবায়েদের কঠোর অবস্থান এই দিকের মূল চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়াবে।



