ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে শনিবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম নতুন সংসদ সদস্যদের শপথের সময়সূচি জানালেন। তিনি জানান, তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত ২৯৯টি আসনের অধিকাংশের শপথ সোমবার‑মঙ্গলবারের মধ্যেই সম্পন্ন হবে এবং দেরি হলে সর্বোচ্চ ১৬‑১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে।
শফিকুল আলমের মতে, শপথের প্রস্তুতি নির্বাচন শেষে থেকেই চালু হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, গেজেট ইতিমধ্যে প্রকাশিত এবং শপথের জন্য প্রয়োজনীয় সব কাজ গতকাল থেকে দ্রুতগতিতে অগ্রসর হচ্ছে। “শপথ দ্রুত সম্পন্ন হবে, আর দেরি হলে ১৬‑১৭ তারিখের পর যাবে না,” তিনি জোর দিয়ে বললেন।
শপথের নির্দিষ্ট পরিচালনা সম্পর্কে তিনি স্পিকারের অনুপস্থিতি উল্লেখ না করে, তবে সব প্রস্তুতি ক্যাবিনেটের তত্ত্বাবধানে চলছে বলে জানালেন। তিনি যোগ করেন, চিফ অ্যাডভাইজাররা ধারাবাহিকভাবে কাজ করছেন এবং পুরো টিম ট্রানজিশনকে মসৃণ করতে সমন্বয় সাধন করছে।
সংসদ সচিবালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বঙ্গভবন প্রস্তুতির তদারকি আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল করছেন, শফিকুল আলম জানান। পূর্বে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রিয়াজ গণভোট ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে ব্রিফিং দিয়েছিলেন।
গণভোট বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয় এবং দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে ভোট হয়েছে। ঘোষিত ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি জয়ী হয়েছে, যার মধ্যে বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান ঢাকা‑১৭ ও বগুড়া‑৬ আসনে জয়ী হয়েছেন। জামায়াত-এ-ইসলামি ৬৮টি আসন পেয়ে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে অবস্থান করছে।
নির্বাচন কমিশন শুক্রবার নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশ করেছে। ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে শিরীন শারমিন চৌধুরী স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নেবেন বলে জানানো হয়। তবে শিরীন শারমিন চৌধুরী বর্তমানে মামলার আসামি হয়ে আত্মগোপনে আছেন।
ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্বে ছিলেন শামসুল হক টুকু, যিনি বর্তমানে মামলার আসামি হয়ে কারাগারে রয়েছেন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের দুজনেরই জেল অবস্থার ফলে নতুন সংসদ সদস্যদের শপথের দায়িত্বে জটিলতা দেখা দিয়েছে।
এদিকে, নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ উল্লেখ করেন যে সংবিধানের ধারা ১৪৮‑এর ধারা ৩ অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার নবনির্বাচিতদের শপথ পাঠের অনুমোদন দিতে পারেন। তিনি বলেন, শপথের সময়সূচি সংবিধানিক বিধান মেনে নির্ধারিত হবে এবং প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হবে।
শপথের প্রস্তুতি চলাকালীন গেজেট প্রকাশ, ক্যাবিনেটের সমন্বয় এবং আইন উপদেষ্টার তদারকি একসঙ্গে কাজ করছে। শফিকুল আলমের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে শপথের শেষ তারিখের পরে কোনো বিলম্ব হবে না এবং সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ইতিমধ্যে গৃহীত হয়েছে।
সংসদ সদস্যদের শপথ সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের জেল অবস্থার কারণে শপথের পরিচালনা ও পরবর্তী রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে। নির্বাচনের ফলাফল এবং শপথের সময়সূচি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত-এ-ইসলামির পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে।
সংবিধানিক বিধান মেনে শপথের সময়সূচি নির্ধারিত হলে, নতুন সংসদ দ্রুত কাজ শুরু করবে এবং দেশের শাসনব্যবস্থার মসৃণ পরিবর্তন নিশ্চিত হবে।



