28 C
Dhaka
Saturday, February 14, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধক্যামিলা রাণীর চিঠিতে গিসেল পেলিকটের বীরত্ব ও অনুপ্রেরণা স্বীকৃতি

ক্যামিলা রাণীর চিঠিতে গিসেল পেলিকটের বীরত্ব ও অনুপ্রেরণা স্বীকৃতি

ক্যামিলা রাণী গিসেল পেলিকটকে একটি ব্যক্তিগত চিঠি পাঠিয়ে তার বীরত্বকে সম্মান জানিয়েছেন; ৭৩ বছর বয়সী রেপসারভাইভার এই চিঠি পেয়ে অভিভূত ও গর্বিত বোধ করেন। চিঠিতে রাণী তার সাহস, শালীনতা এবং মর্যাদা নিয়ে গভীর প্রশংসা প্রকাশ করেছেন।

চিঠির ভাষায় বলা হয়েছে, পেলিকটের কাজ বিশ্বব্যাপী নারীদের জন্য উদাহরণস্বরূপ এবং তার প্রচেষ্টা লজ্জার ধারণাকে চিরতরে বদলে দিতে সক্ষম একটি শক্তিশালী উত্তরাধিকার গড়ে তুলেছে। রাণী তার প্রতি সম্মানসূচক শুভেচ্ছা জানিয়ে ভবিষ্যতে শান্তি ও আরোগ্য কামনা করেছেন।

পেলিকটের কষ্টের ইতিহাস প্রায় দশ বছর ধরে চলা এক ধারাবাহিক নির্যাতনের সঙ্গে যুক্ত। তার পূর্ব স্বামী তাকে মাদক দিয়ে শোষণ করতেন এবং যৌন নির্যাতন করতেন; তাছাড়া তিনি অনলাইন থেকে পরিচিত পুরুষদেরও তার ওপর আক্রমণ করতে আমন্ত্রণ জানাতেন। এই দীর্ঘমেয়াদী নির্যাতন শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালে আদালতে প্রকাশ পায়।

বিচার প্রক্রিয়ায় পেলিকট স্বেচ্ছায় তার গোপনীয়তা ত্যাগ করে শিকার থেকে অপরাধীর দিকে দায়িত্বের ভার স্থানান্তর করেন। অ্যাভিগন শহরে ১৫ সপ্তাহের দীর্ঘ ট্রায়াল চলাকালে আদালতের বাইরে প্রতিদিন সমর্থকরা সাইনবোর্ড নিয়ে উপস্থিত ছিলেন, যেখানে তার সাহসের প্রশংসা এবং ন্যায়বিচারের আহ্বান জানানো হয়।

এই সময়ে পেলিকট আন্তর্জাতিক স্তরে নারীবাদ ও শক্তির প্রতীক হিসেবে স্বীকৃত হন। তার দৃঢ়তা এবং কণ্ঠস্বর বহু নারীকে তাদের অধিকার ও গর্ব পুনরুদ্ধারে অনুপ্রাণিত করেছে।

একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি প্রকাশ করেন, রাণীর চিঠি পাওয়া তার প্রত্যাশার বাইরে ছিল এবং তিনি এতে গভীরভাবে সম্মানিত বোধ করেন। তিনি বলেন, “এটি আমার জন্য একটি সম্মানের বিষয়, আমি কখনোই এ ধরনের চিঠি আশা করিনি।”

ক্যামিলা রাণী দীর্ঘদিন ধরে গৃহহিংসা ও যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন এবং বহু সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করে শিকারদের সহায়তা প্রদান করছেন। তার এই প্রচেষ্টা বহু বছর ধরে সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

রাণীর চিঠিতে তিনি পেলিকটকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আপনার কাজের জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আপনি আমার প্রার্থনা ও শুভেচ্ছার মধ্যে আছেন, এবং আশা করি আপনি এখন এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা থেকে বিশ্রাম ও আরোগ্য পেতে পারবেন।”

এই চিঠির বিষয়বস্তু প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হয়; রাণী ও পেলিকটের সম্মতিতে এটি সম্প্রচার সংস্থার সঙ্গে ভাগ করা হয়। প্রকাশের আগে চিঠিটি প্রকাশের অনুমতি নিয়ে শেয়ার করা হয়, যা পাঠকদের জন্য একটি নতুন দৃষ্টিকোণ উন্মোচন করে।

পেলিকট শীঘ্রই তার আত্মজীবনী “A Hymn To Life” প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যেখানে তিনি তার জীবনের কষ্ট, সংগ্রাম এবং পুনরুদ্ধারের গল্প তুলে ধরবেন। এই বইটি তার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে ইচ্ছুক সকলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হবে।

বর্তমানে পেলিকট তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন এবং পুনরুদ্ধারের পথে অগ্রসর হচ্ছেন। তিনি ভবিষ্যতে নারীদের অধিকার রক্ষায় এবং নির্যাতনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে ইচ্ছুক।

রাণীর এই ব্যক্তিগত স্বীকৃতি এবং পেলিকটের বীরত্বের স্বীকৃতি সমাজে শিকারদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি লজ্জা ও নীরবতা ভেঙে, বেঁচে থাকা নারীদের কণ্ঠকে শক্তিশালী করে তুলতে সহায়তা করবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments