ফ্রান্সের সর্ববৃহৎ ধর্ষণ মামলার কেন্দ্রীয় ব্যক্তি গিসেল পেলিকোত, ৭৩ বছর বয়সী, সম্প্রতি একটি টেলিভিশন প্রোগ্রামে জানিয়েছেন যে তিনি স্বামীর দীর্ঘমেয়াদী অপরাধের মুখোমুখি হয়ে “ভয়াবহ শোক” অনুভব করেছেন, ক্রোধ নয়।
তিনি জানান, স্বামী ডোমিনিক পেলিকোত বহু বছর ধরে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় মাদক দিয়ে, বহু পুরুষকে যৌন নির্যাতনের জন্য আমন্ত্রণ জানাতেন। এই সত্য জানার মুহূর্তে তিনি “একটি সুনামি”র মতো অভ্যন্তরীণ বিস্ফোরণ অনুভব করেন।
গিসেল তার তিন সন্তানকে ফোন করে স্বামীর অপরাধের খবর জানানোর কথা উল্লেখ করেছেন, যা তিনি জীবনের সবচেয়ে কঠিন কাজ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি নিজের গোপনীয়তা ত্যাগের সিদ্ধান্তের কোনো অনুতাপ প্রকাশ করেননি এবং জেলে থাকা স্বামীকে এখনও কিছু প্রশ্নের উত্তর চায়।
স্বামী বর্তমানে ২০ বছরের কারাদণ্ডে রয়েছে। গিসেল এই বিষয়টি নিয়ে লিখিত স্মৃতিকথা “একটি জীবনের গীত” প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যেখানে তিনি এই অভিজ্ঞতা ও তার মানসিক সংগ্রামকে বিশদভাবে তুলে ধরেছেন।
মামলাটি প্রথমবারের মতো ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের হোটেল দে ভিলের ঐতিহাসিক হলের তুলনায় গম্ভীর আদালত কক্ষের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। গিসেল উল্লেখ করেন, হোটেল দে ভিলের সজ্জা ও ছাদে চিত্রকর্মের বিপরীতে আদালতের গম্ভীর পরিবেশ তার জন্য এক ধরনের শোকের দৃশ্য তৈরি করেছিল।
তিনি “নরকের দিকে অবতরণ” শব্দটি ব্যবহার করে সেই মুহূর্তটি বর্ণনা করেন, যখন তিনি স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে মাজারের নিকটবর্তী একটি পুলিশ স্টেশনে গিয়েছিলেন। সেখানে স্বামীকে নারীদের স্কার্টের নিচে গোপনে ক্যামেরা বসানোর অভিযোগে ডাকা হয়েছিল।
পুলিশের একজন কর্মকর্তা গিসেলকে আলাদা করে প্রশ্ন করেন এবং স্বামীর চরিত্র সম্পর্কে ধারাবাহিকভাবে জিজ্ঞাসা করেন। গিসেল স্বামীর প্রশংসা করে “একজন চমৎকার মানুষ” বলে উত্তর দেন এবং যৌন স্বেচ্ছাসেবী কার্যকলাপের কোনো অংশগ্রহণের কথা অস্বীকার করেন।
অফিসার গিসেলকে দুটি ছবি দেখান, যেখানে এক মৃত নারী বিছানায় শুয়ে আছে। এই ছবিগুলি স্বামীর হাজার হাজার ছবি ও ভিডিওর মধ্যে একটি অংশ, যেগুলি তিনি স্বামীর দ্বারা তার অজ্ঞান অবস্থায় তোলা বলে জানেন।
গিসেল এই প্রমাণগুলো দেখার পর নিজের শোকের মাত্রা আরও বাড়তে দেখেন এবং স্বামীর অপরাধের পরিসর সম্পর্কে গভীরভাবে উপলব্ধি করেন। তিনি আদালতে তার গোপনীয়তা ত্যাগের সিদ্ধান্তের পরে কোনো অনুশোচনা না প্রকাশ করে, ভবিষ্যতে স্বামীকে জিজ্ঞাসা করার জন্য প্রশ্নের তালিকা তৈরি করেছেন।
ফরাসি বিচার বিভাগ বর্তমানে এই মামলাটি কঠোরভাবে অনুসন্ধান করছে এবং স্বামীকে ২০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছে। গিসেল তার স্মৃতিকথা প্রকাশের মাধ্যমে একই ধরনের শিকারদের জন্য সচেতনতা বাড়াতে এবং সমাজে যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
এই রিপোর্টে উল্লেখিত তথ্যগুলো প্রকাশ্য রেকর্ড, সরকারি বিবৃতি এবং আদালতের নথি থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় পাঠকদের জন্য সতর্কতা জানানো হচ্ছে, কারণ এতে যৌন নির্যাতনের বর্ণনা রয়েছে।



