১৩তম জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ভোটের ধারা দুই প্রকারে ভাগ করা যায়: একদিকে কিছু আসন জয়ী প্রার্থীরা প্রতিপক্ষের তুলনায় বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছে, অন্যদিকে বেশ কয়েকটি আসনে পার্থক্য খুবই কম ছিল। এই বৈপরীত্য দেশের তিনটি হিল জেলা এবং বেশ কয়েকটি মূল শহর ও গ্রামাঞ্চলে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে। নির্বাচনের পরবর্তী ধাপগুলোতে পার্টিগুলো এই ফলাফলকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হিল জেলা গুলোতে বিএনপি প্রার্থীরা বিশাল জয়লাভের মাধ্যমে নিজেরা শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করেছে। রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ি জেলায় ভোটের পার্থক্য পাঁচ গুণেরও বেশি ছিল, যা ঐ অঞ্চলের রাজনৈতিক মানচিত্রকে পুনর্গঠন করেছে। এই জয়গুলো পার্টির হিল অঞ্চলে প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
রাঙ্গামাটিতে সাহিদুল ইসলাম ২.০২ লাখ ভোট পেয়ে স্বাধীন প্রার্থী সাহিদুল ইসলামকে ৩১,২২২ ভোটে পরাজিত করেন, ফলে তার ভোটের পরিমাণ প্রতিপক্ষের ছয়গুণেরও বেশি। এই ফলাফল রাঙ্গামাটির নির্বাচনী ইতিহাসে সর্বোচ্চ পার্থক্য হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।
বান্দরবানে সাহিদুল ইসলাম ১.৪ লাখ ভোটে এনসিপি প্রার্থী সাহিদুল ইসলামকে পাঁচগুণেরও বেশি ব্যবধানে হারিয়ে জয়লাভ করেন। বান্দরবানের ভোটাররা স্পষ্টভাবে বিএনপির নীতি ও প্রোগ্রামকে সমর্থন জানিয়েছে।
খাগড়াছড়িতে সাহিদুল ইসলাম ১.৫ লাখ ভোটে স্বাধীন প্রার্থী সাহিদুল ইসলামকে দ্বিগুণেরও বেশি ভোটে পরাজিত করেন। এই ফলাফল হিল অঞ্চলের ভোটারদের মধ্যে বিএনপির জনপ্রিয়তা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।
রাজবাড়ি-২ এবং হাবিগঞ্জ-৩ আসনে সাহিদুল ইসলাম যথাক্রমে ৩ গুণেরও বেশি ভোটে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে জয়লাভ করেন। উভয় আসনে প্রতিপক্ষের ভোটের পরিমাণ অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে, যা স্থানীয় স্তরে বিএনপির শক্তিশালী অবস্থানকে নির্দেশ করে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬-এ গনোসামাজিক আন্দোলনের সাহিদুল ইসলাম ৯৪,০০০ ভোটে জামায়াতের সাহিদুল ইসলামকে দুই-তৃতীয়াংশ বেশি ভোটে পরাজিত করেন। চট্টগ্রাম-৭ এবং চট্টগ্রাম-১৩-এও সাহিদুল ইসলাম যথাক্রমে ২.৫ গুণ এবং ২.৫ গুণের বেশি ব্যবধানে জয়লাভ করেন, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ জামায়াত ও ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী ছিলেন।
সুনামগঞ্জ-৩, মুন্সিগঞ্জ-২ এবং কুষ্টিয়া-১-এও সাহিদুল ইসলাম যথাক্রমে দ্বিগুণের বেশি ভোটে প্রতিপক্ষকে পরাজিত করেন। এই তিনটি আসনে ভোটের পার্থক্য উল্লেখযোগ্য, যা স্থানীয় রাজনৈতিক গতিবিধিতে বড় প্রভাব ফেলবে।
জামায়াতের প্রার্থীও বেশ কয়েকটি আসনে উল্লেখযোগ্য জয়লাভ করেন। গাইবান্ধা-১-এ সাহিদুল ইসলাম ৩.৫ গুণের বেশি ভোটে বিএনপি প্রার্থী সাহিদুল ইসলামকে পরাজিত করেন, যেখানে জশোর-৫-এ সাহিদুল ইসলাম ২.৫ গুণের বেশি ব্যবধানে জয়লাভ করেন।
সাতক্ষীরা-২-এ সাহিদুল ইসলাম ২.৬৭ লাখ ভোটে বিএনপি প্রার্থী সাহিদুল ইসলামকে ১.১৬ লাখ ভোটে পরাজিত করেন, যা অঞ্চলের ভোটারদের জামায়াতের প্রতি সমর্থন স্পষ্ট করে। রংপুরে জামায়াতের ভোট সংখ্যা বিএনপির দ্বিগুণের বেশি হওয়াও উল্লেখযোগ্য।
এই ফলাফলগুলো দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন ভারসাম্য তৈরি করতে পারে। বিশাল জয়লাভকারী প্রার্থীরা তাদের ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করতে পারবে, আর নিকটবর্তী প্রতিযোগিতায় হোঁচট খাওয়া প্রার্থীরা পরবর্তী নির্বাচনে কৌশল পরিবর্তন করতে বাধ্য হবে। পার্টিগুলো এখন এই তথ্য বিশ্লেষণ করে পরবর্তী নির্বাচনী পরিকল্পনা তৈরি করবে।
ভবিষ্যতে হিল জেলা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আসনে ভোটারদের প্রবণতা কীভাবে পরিবর্তিত হবে তা দেখা বাকি। তবে বর্তমান ফলাফলগুলো দেখায় যে ভোটাররা পার্টি ও প্রার্থীর পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে স্পষ্ট পছন্দ প্রকাশ করেছে, যা পরবর্তী রাজনৈতিক আলোচনার ভিত্তি হবে।



