28 C
Dhaka
Saturday, February 14, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিরাউজান গ্রাম থেকে তিনজন বিএনপি প্রার্থী একসঙ্গে সংসদে নির্বাচিত

রাউজান গ্রাম থেকে তিনজন বিএনপি প্রার্থী একসঙ্গে সংসদে নির্বাচিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর চট্টগ্রাম বিভাগের রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রাম থেকে তিনজন বিএনপি প্রার্থী একই সময়ে সংসদ সদস্যের পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। গহিরা গ্রাম, যা সাধারণত একক সংসদ সদস্যের প্রার্থী উৎপাদন করে, এবার তিনটি আলাদা আসনে বিজয়ী হিসেবে ইতিহাস গড়ে তুলেছে। এই বিজয় গৃহীত হয়েছে ২০২৪ সালের ১৪ই নভেম্বরের নির্বাচনী ফলাফলের ভিত্তিতে, যেখানে ভোটের সংখ্যা ও প্রতিদ্বন্দ্বীর পার্থক্য স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

গহিরা গ্রামের প্রথম বিজয়ী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, যিনি চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপি ত্রাণের প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি ১,১২,২৩৭ ভোটের মাধ্যমে জয়লাভ করেন, আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের ইলিয়াছ নূরী ২৭,১৪৬ ভোট পেয়েছেন। জামায়াতে ইসলামের শাহাজাহান মঞ্জু ২২,১১৮ ভোটে শেষ হন। গিয়াসের এই জয় তার দীর্ঘদিনের স্থানীয় প্রভাবের ধারাবাহিকতা হিসেবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে গহিরা গ্রামের আরেকজন কাদের পরিবারভুক্ত হুম্মাম কাদের চৌধুরী জয়লাভ করেন। তিনি ১,২৪,২০০ ভোট পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী ডা. এটিএম রেজাউল করিম (জামায়াতে ইসলাম) ৩৯,৪৮৫ ভোটের তুলনায় বড় পার্থক্য তৈরি করেন। হুম্মাম গিয়াসের ভাতিজা এবং তার পিতা, যুদ্ধাপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে ধারাবাহিক রাখার জন্য এই ফলাফলকে গুরুত্বপূর্ণ বলে গণ্য করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, হালিশহর ও খুলশি) আসনে সাঈদ আল নোমান বিজয়ী হন। তিনি ১,২১,৩৭৪ ভোটের মাধ্যমে জয়ী হন, আর জামায়াতে ইসলামের শামসুজ্জামান হেলালী ৭৪,৪০৭ ভোট পেয়েছেন। সাঈদ আল নোমান হলেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমানের পুত্র, ফলে তার ভোটাভুটি পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে গহিরা গ্রামে উৎসবের ধারা শুরু হয়। বাড়ি বাড়ি মিষ্টি বিতরণ, রঙিন মিছিল, এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে গ্রামবাসীরা আনন্দের স্রোতে মত্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এক গ্রাম থেকে তিনজন সংসদ সদস্যের নির্বাচিত হওয়া তাদের জন্য গর্বের বিষয় এবং ভবিষ্যতে গ্রামটির উন্নয়ন ও রাজনৈতিক প্রভাব বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ও জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী প্রত্যেক আসনে উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছেন, তবে গহিরা গ্রামের তিনজনের সমন্বিত জয় তাদের ভোটভিত্তি ও সংগঠনের শক্তি প্রকাশ করে। বিশেষ করে রাঙ্গুনিয়া আসনে ডা. এটিএম রেজাউল করিমের ৩৯,৪৮৫ ভোটের পারফরম্যান্সকে কিছু বিশ্লেষকরা গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে জোরালো সমর্থন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এই ফলাফল চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিএনপি-র অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে। তিনটি আসনে একসাথে জয়ী হওয়া দলকে স্থানীয় সংগঠন পুনর্গঠন, ভোটার সংযোগ এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশলে আত্মবিশ্বাস প্রদান করবে। একই সঙ্গে, গহিরা গ্রামের রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নের জন্য নতুন চাহিদা উত্থাপিত হতে পারে।

অবশেষে, গহিরা গ্রাম থেকে তিনজন সংসদ সদস্যের একসাথে নির্বাচিত হওয়া দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল ঘটনা হিসেবে রেকর্ড হবে। এই বিজয় গ্রামবাসীর জন্য গর্বের মুহূর্ত, এবং দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যে নতুন গতিপথের সূচনা হতে পারে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments