মুম্বাইয়ের মহালাক্স্মি এলাকায় অবস্থিত একটি ডুপ্লেক্স অ্যাপার্টমেন্ট অমিতাভ বচ্চন ১৪.৫ কোটি টাকায় বিক্রি করেছেন। লেনদেনের রেজিস্ট্রেশন ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সম্পন্ন হয়। এই সম্পত্তি টাওয়ার ৪ (স্ট্রাটা)‑এর ৪০ ও ৪১ তলা, প্ল্যানেট গোধেজ রেসিডেন্সে অবস্থিত।
বিক্রিত ইউনিটের মোট কার্পেট এলাকা ২,২৪৯ বর্গফুট, যা শহরের প্রিমিয়াম রিয়েল এস্টেটের মধ্যে উচ্চমানের হিসেবে গণ্য হয়। প্রতি বর্গফুটে বিক্রয়মূল্য ছিল ৬৪,৪৭৩ টাকা, যা বর্তমান বাজারের শীর্ষ দামের কাছাকাছি।
এই ডিলের ক্রেতা হিসেবে রিশি ম্যান্ডাওয়াত, যিনি বেইন ক্যাপিটাল প্রাইভেট ইকুইটির পার্টনার, এবং স্মিতা মেহতা নামের একজন বিনিয়োগকারী চিহ্নিত। লেনদেনের জন্য স্ট্যাম্প ডিউটি হিসেবে ৮৯.৭৬ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে।
অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে ক্রেতারা তিনটি গাড়ি পার্কিং স্পেস পেয়েছেন, যা উচ্চমানের রেসিডেন্সে সাধারণত অন্তর্ভুক্ত থাকে। ডকুমেন্টে উল্লেখিত এই সুবিধাগুলি সম্পত্তির আকর্ষণ বাড়িয়ে তুলেছে।
মহালাক্স্মি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাই-এন্ড রেসিডেন্সিয়াল সেগমেন্টে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। শহরের কেন্দ্রীয় অবস্থান, উন্নত অবকাঠামো এবং শীর্ষস্থানীয় ডেভেলপারদের প্রকল্পের সমাহার এই এলাকাকে উচ্চমানের ক্রেতাদের জন্য আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
প্ল্যানেট গোধেজ, যা এই ডুপ্লেক্সের অংশ, আধুনিক ডিজাইন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিস্তৃত কমিউনিটি সুবিধা প্রদান করে। এমন প্রকল্পগুলোতে উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তিরা তাদের বিনিয়োগের জন্য প্রাধান্য দেন।
অমিতাভ বচ্চন এই রিয়েল এস্টেট লেনদেনের পাশাপাশি গুজরাটের গিফট সিটিতে একটি নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে রিয়েল এস্টেট ক্ষেত্রে পদার্পণ করেছেন। গিফট সিটি হল একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক ও আইটি হাব, যা আহমেদাবাদ ও গাঁধীনগরের মাঝখানে অবস্থিত।
এই গিফট সিটি প্রকল্পের জমি মূলত অমিতাভ বচ্চনের পিতার কাছ থেকে বহু বছর আগে ক্রয় করা হয়েছিল, এবং এখন অমিতাভ বচ্চন তার পুত্রের মাধ্যমে এই সম্পদকে ব্যবসায়িকভাবে ব্যবহার করছেন।
অমিতাভ বচ্চন এবং প্রযোজক-রিয়েল এস্টেট উদ্যোক্তা আনন্দ পাণ্ডিতের মধ্যে মুনাফা ভাগাভাগির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মাধ্যমে গিফট সিটিতে প্রথমবারের মতো আনন্দ পাণ্ডিতের ফার্মের প্রবেশ নিশ্চিত হয়েছে। এই সহযোগিতা উভয় পক্ষের জন্য নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করেছে।
ফিল্মের পাশাপাশি অমিতাভ বচ্চন জয়পুর পিঙ্ক প্যান্থার্সের সহ-মালিক, যা প্রো কাবাডি লীগে প্রতিযোগিতা করে। ক্রীড়া ও বিনোদন উভয় ক্ষেত্রেই তার উপস্থিতি তার বহুমুখী ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে।
অভিনেতা হিসেবে সর্বশেষ দেখা গিয়েছে “হাউসফুল ৫” ছবিতে, এবং জি5-এ “কালিধার লাপাতা” শিরোনামের ওটিটি রিলিজে। বর্তমানে তিনি কয়েকটি নতুন চলচ্চিত্রের প্রস্তুতিতে রয়েছেন, যার মধ্যে শাহরুখ খানের সঙ্গে কাজ করা “কিং” ছবিটিও অন্তর্ভুক্ত।
উচ্চমানের সম্পত্তি ক্রয় বা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হলে, মহালাক্স্মি ও গিফট সিটির মতো উত্থানশীল বাজারের প্রবণতা ও ডেভেলপারদের প্রকল্পের বিশদ বিশ্লেষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক তথ্য ও পেশাদার পরামর্শের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিলে দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক ফলাফল পাওয়া সম্ভব।



