১ ফেব্রুয়ারি লন্ডনে টটেনহ্যাম হোম গ্রাউন্ডে ম্যানচেস্টার সিটি এবং টটেনহ্যাম মুখোমুখি হয়। প্রথমার্ধে পেপ গার্দিওলার দল ২-০ লিড নিয়ে সহজ জয়ের আশা করলেও দ্বিতীয়ার্ধে টটেনহ্যাম সমতা বজায় রাখে এবং শেষ পর্যন্ত ২-২ ড্র হয়। ম্যাচের সমাপ্তি পর রদ্রি, ম্যানচেস্টার সিটি অধিনায়ক, রেফারি রবার্ট জোন্সের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
রদ্রি দাবি করেন, টটেনহ্যাম ফরোয়ার্ড ডমিনিক সোলাঙ্কে সিটির ডিফেন্ডার আব্দুকাদির খুশানোভ এবং মার্ক গেহির ওপর চাপ সৃষ্টি করার সময় সোলাঙ্কে পায়ে লাথি মেরে ফাউল করেছিলেন, তবু সোলাঙ্কের গোলটি বৈধ ধরা হয়। তিনি বলেন, “এটি স্পষ্ট ফাউল ছিল এবং গোলটি হওয়া উচিত নয়।” এই মন্তব্য রেফারির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার ইঙ্গিত দেয় এবং তৎক্ষণাৎ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি করে।
ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) রদ্রির মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। এফএ জানায়, রদ্রিকে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তার বিবৃতি জমা দিতে হবে এবং অভিযোগের ফলাফল জানাতে হবে। তবে এখনো নির্ধারিত হয়নি রদ্রি কতদিনের জন্য নিষিদ্ধ হতে পারেন। শাস্তি নির্ধারিত হলে ম্যানচেস্টার সিটির লিগে অবস্থানেও প্রভাব পড়তে পারে, কারণ দলটি বর্তমানে শীর্ষে থাকা আর্সেনাল থেকে মাত্র চার পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে।
ম্যাচের মূল মুহূর্তটি দ্বিতীয়ার্ধে ঘটেছিল। টটেনহ্যাম ফরোয়ার্ড ডমিনিক সোলাঙ্কে সিটির ডিফেন্ডার আব্দুকাদির খুশানোভ এবং মার্ক গেহির ওপর চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে গেহি আত্মঘাতী গোলের মাধ্যমে স্কোর সমান করে। রদ্রি এই গোলের পূর্বে সোলাঙ্কের ফাউল হওয়ার কথা উল্লেখ করে রেফারির সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক বলে সমালোচনা করেন। রদ্রি সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমরা হতাশ, কারণ এটি স্পষ্ট ফাউল ছিল—সে পায়ে লাথি মেরেছে।”
এফএ রদ্রির মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে উল্লেখ করেছে যে, কোচ বা খেলোয়াড়ের পক্ষ থেকে রেফারির প্রতি সমালোচনা প্রায়ই শাস্তির মুখে পড়ে। ২০২৩ সালের মে মাসে লিভারপুলের কোচ জর্গেন ক্লপ রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্য করে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন। রদ্রির ক্ষেত্রে শাস্তির সময়সীমা ও পরিমাণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে এফএয়ের নির্দেশনা অনুসারে তিনি দ্রুত উত্তর দেবে।
রদ্রির মন্তব্যের ফলে ম্যানচেস্টার সিটির অভ্যন্তরীণ পরিবেশেও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। দলটি বর্তমানে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে লড়াই করছে এবং কোনো শাস্তি দলকে শিরোপা প্রতিযোগিতা থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে। ক্লাবের ব্যবস্থাপনা রদ্রির বিবৃতি পর্যালোচনা করছে এবং শাস্তি নির্ধারিত হলে তা দলের কৌশলগত পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করবে।
প্রতিপক্ষ টটেনহ্যামও ম্যাচের পর রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে, যদিও তারা ড্র ফলাফলে সন্তুষ্ট। রদ্রির মন্তব্যের পর রেফারি রবার্ট জোন্সের কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে, তবে এফএয়ের তদন্তের ফলাফলই শেষ কথা হবে।
প্রিমিয়ার লিগের পরবর্তী রাউন্ডে ম্যানচেস্টার সিটি আবার শীর্ষের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, এবং রদ্রির সম্ভাব্য শাস্তি দলকে কৌশলগতভাবে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করতে পারে। এফএয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা চলতে থাকায়, ম্যানচেস্টার সিটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং রদ্রির ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।



