সান্তা বারবারা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মাইকেল বি. জর্ডানকে ‘বছরের অসাধারণ পারফরম্যান্স’ পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কার বিতরণে জর্ডানকে তার ‘সিনার্স’ ছবিতে দ্বৈত চরিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রশংসা করা হয় এবং তিনি ২০১৮ সালের ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ ছবিতে চ্যাডউইক বোসম্যানের সহ-অভিনেতা ছিলেন। অনুষ্ঠানটি ঐতিহাসিক ২,০১৮ সিটের আর্লিংটন থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হয়, যা সম্পূর্ণভাবে পূর্ণ ছিল।
উদযাপনের সময় উৎসবের নির্বাহী পরিচালক রজার ডার্লিং জর্ডানকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘সিনার্স’ ছবির শুটিংয়ের সময় বোসম্যানের উপস্থিতি কি অনুভব করেছেন কিনা। জর্ডান থেমে গিয়ে চোখে জল নিয়ে হ্যাঁ বলে উত্তর দেন, এবং বোসম্যানের স্মৃতি তার সঙ্গে কাজের সময় কিভাবে যুক্ত ছিল তা ব্যাখ্যা করেন।
জর্ডান জানান, শুটিংয়ের প্রথম দুই সপ্তাহে তিনি দুটো ভিন্ন চরিত্রের মধ্যে পরিবর্তন করার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। একদিন তিনি দুটো টুইন চরিত্রের মধ্যে স্যুইচ করার সময় হঠাৎ তার উচ্চারণ বদলে যায় এবং এক মুহূর্তে পুরোপুরি মাইকেল হিসেবে কথা বলতে শুরু করেন। এরপর আবার মূল চরিত্রে ফিরে আসতে কিছুটা সময় লেগে যায়, যা তিনি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় নিয়েছিল।
শুটিংয়ের মাঝখানে পরিচালক রায়ান কুগলার সঙ্গে একটি সংক্ষিপ্ত আলাপের সময় কুগলার জিজ্ঞেস করেন, ‘চ্যাড কি করতেন?’ জর্ডান এই প্রশ্নের সঙ্গে সঙ্গে বোসম্যানের মানসিকতা ও কাজের নীতি স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এই প্রশ্নটি তাকে তৎক্ষণাৎ চ্যাডের দৃষ্টিকোণ থেকে কাজ করার ইঙ্গিত দেয় এবং তার কর্মক্ষমতায় নতুন উদ্যম যোগ করে।
জর্ডান আরও উল্লেখ করেন, শুটিংয়ের সময় বোসম্যানের স্মৃতি তার সঙ্গে সবসময়ই ছিল এবং তিনি তা তার কাজের গাইডলাইন হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেন, বোসম্যানের উপস্থিতি তাকে আত্মবিশ্বাস ও শক্তি প্রদান করেছে, ফলে তিনি চরিত্রে আরও গভীরতা আনতে পেরেছেন।
এই পুরস্কার জিততে জর্ডানকে পূর্বে ২০১৪ সালে ‘ভার্চুয়োস’ পুরস্কার এবং ২০১৯ সালে ‘সিনেমা ভ্যাংগার্ড’ পুরস্কার দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছিল। উভয়বারই তিনি উৎসবে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং দর্শকদের কাছ থেকে উষ্ণ স্বাগত পেয়েছিলেন।
পুরস্কার গ্রহণের পর জর্ডানকে দীর্ঘ সময়ের জন্য উল্লাসের সঙ্গে সম্মানিত করা হয়। তিনি দর্শকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বোসম্যানের স্মৃতি ও তার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জর্ডান ভবিষ্যতে ‘ক্রিড ৪’ সহ আরও কিছু প্রকল্পে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি বোসম্যানের আত্মা তার সঙ্গে থাকবে বলে আশ্বাস দেন।
সান্তা বারবারা চলচ্চিত্র উৎসবের এই অনুষ্ঠানটি শিল্পী ও দর্শকদের জন্য একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে রইল, যেখানে পুরনো বন্ধুত্বের স্মৃতি ও নতুন সৃষ্টির আশা একসঙ্গে উদযাপিত হয়েছে। জর্ডান এবং বোসম্যানের বন্ধুত্বের গল্পটি চলচ্চিত্র জগতে অনুপ্রেরণার উদাহরণ হিসেবে আজও বেঁচে আছে।



