মিলান-কোর্টিনা শীতকালীন অলিম্পিকের পুরুষ ফিগার স্কেটিং চূড়ান্তে কাজাখস্তানের মিখাইল শাইদোরভ স্বর্ণপদক অর্জন করেন, যা দেশের ৩২ বছর পর প্রথম শীতকালীন অলিম্পিক মেডেল। শাইদোরভের নিখুঁত পারফরম্যান্সের ফলে তিনি ছয়জন চূড়ান্ত প্রতিযোগীর মধ্যে একমাত্র কোনো ভুল না করে স্কেটিং শেষ করেন। তার জয় কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং কাজাখস্তানের ইতিহাসে একটি মাইলফলক, কারণ শেষবারের মতো শীতকালীন অলিম্পিকে দেশটি ১৯৯৪ সালে কোনো মেডেল পায়নি।
ইলিয়া মালিনিন, যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ স্কেটার, এই ইভেন্টের সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রার্থী হিসেবে প্রত্যাশা করা হয়েছিল। তিনি পূর্বে দলীয় ইভেন্টে যুক্তরাষ্ট্রকে স্বর্ণপদক এনে দিয়েছিলেন এবং ‘কোয়াড গড’ উপাধি পেয়েছিলেন, কারণ তিনি একমাত্র স্কেটার যিনি সফলভাবে কোয়াড্রুপল অ্যাক্সেল ল্যান্ড করেছেন। তবে অলিম্পিকের ব্যক্তিগত ফ্রি স্কেটে তিনি দুইবার মাটিতে পড়ে গেছেন এবং শেষ পর্যন্ত অষ্টম স্থানে শেষ করেন।
মালিনিনের ফ্রি স্কেটের শুরুতে তিনি একক অ্যাক্সেল দিয়ে রুটিন শুরু করেন, যা দর্শকদের কাছ থেকে নীরব গুঞ্জন এনে দেয়। কোয়াড্রুপল লুটজের চেষ্টা করার সময় তিনি প্রথমবারের মতো মাটিতে পড়ে যান, যা পুরো হলকে নীরব করে দেয়। দু’সেকেন্ডের বিরতিতে তিনি আবার একটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান সম্পাদন করার চেষ্টা করেন, কিন্তু আবারও মাটিতে আঘাত পান। এই দু’টি পতনের ফলে তার স্কোরে বড় ধাক্কা লেগে যায় এবং তিনি শীর্ষস্থানীয় স্কেটারদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা চালিয়ে যেতে পারেননি।
মালিনিনের পারফরম্যান্সের সময় তিনি নিজের চুল টেনে ধরতে শুরু করেন এবং দু’হাতে হাঁটুতে হাত রাখেন, যা তার মানসিক চাপের দৃশ্যমান প্রকাশ ছিল। স্কেটিং শেষ করার পর তিনি বরফের উপর থেকে নেমে আসার সময় চোখে অশ্রু জমে থাকা অবস্থায় মাথা নাড়ে, যা ‘কোয়াড গড’ের মানবিক দিককে প্রকাশ করে। তার এই আবেগপ্রবণ মুহূর্তটি দর্শকদের মধ্যে গভীর সহানুভূতি জাগিয়ে তুলেছিল।
জাপানের ইউমা কাগিয়ামা শাইদোরভের পর সিলভার পেয়েছেন। কাগিয়ামা কোয়াড্রুপল ফ্লিপের সময় মাটিতে পড়ে যান, তবে তার বাকি রুটিন তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল, ফলে তিনি দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করতে পারেন। শিন সাটো, আরেকজন জাপানি স্কেটার, তৃতীয় স্থান অর্জন করে ব্রোঞ্জ প্যাডক অর্জন করেন। এই ফলাফল জাপানের স্কেটিং দলকে দু’টি মেডেল এনে দেয়, যদিও সোনার পদক শাইদোরভের হাতে শেষ হয়।
শাইদোরভের শর্ট প্রোগ্রামের সময় তিনি মালিনিনের থেকে ১৬ পয়েন্ট পিছিয়ে ছিলেন, তবে ফ্রি স্কেটে তার নিখুঁত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি বড় ফাঁক অতিক্রম করে শীর্ষে উঠে আসেন। মালিনিনের পতনের পর তার স্কোর উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, ফলে শাইদোরভের জয় নিশ্চিত হয়।
মালিনিনের দলীয় ইভেন্টে পারফরম্যান্সের পরেও তাকে সমালোচনার মুখে দাঁড়াতে হয়েছিল, যেখানে তিনি কাগিয়ামার তুলনায় কম স্কোর পেয়েছিলেন। তবে তার পূর্বের দলীয় স্বর্ণপদক জয় তাকে এখনও অলিম্পিকের অন্যতম আলোচ্য ব্যক্তিত্ব করে তুলেছে।
এই চূড়ান্তের পরের দিনগুলোতে স্কেটাররা তাদের শেষ পারফরম্যান্সের পর্যালোচনা এবং পরবর্তী আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি নেবে। অলিম্পিকের সমাপনী অনুষ্ঠান শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে সব ক্রীড়াবিদ তাদের অর্জিত সাফল্য উদযাপন করবেন।
মিলান-কোর্টিনার এই শীতকালীন গেমসের ফিগার স্কেটিং বিভাগে দেখা গিয়েছে যে, প্রত্যাশা ও বাস্তবতা কখনও কখনও একে অপরের সঙ্গে মিলে না, এবং এক মুহূর্তের ভুলই পুরো রেসল্টকে বদলে দিতে পারে। শাইদোরভের স্বর্ণপদক এবং মালিনিনের অষ্টম স্থান উভয়ই এই অপ্রত্যাশিত নাটকের অংশ, যা ক্রীড়া জগতের অপ্রতিরোধ্য উত্তেজনা এবং মানবিক দুর্বলতাকে একসাথে তুলে ধরে।



