ব্রিটিশ অভিনেতা রুপার্ট গ্রিন্ট, যিনি হ্যারি পটার সিরিজে রন উইজলির ভূমিকায় আন্তর্জাতিক পরিচিতি অর্জন করেন, নতুন ফিনিশ চলচ্চিত্র ‘নাইটবর্ন’‑এ প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন। ফিল্মটি হ্যানা বার্গহলমের পরিচালনায় তৈরি এবং জার্মানির বার্লিনে গুডফেলাসা এজেন্সি দ্বারা আন্তর্জাতিক বাজারে উপস্থাপিত হয়েছে। গ্রিন্টের চরিত্রের নাম জোন, যিনি ফিনিশ অভিনেত্রী সেইদি হার্লার চরিত্র সাগার সঙ্গে একান্ত দ্বীপে বসবাসের জন্য স্থানান্তরিত হন।
হ্যারি পটার সিরিজের পর গ্রিন্ট বেশ কিছু বছর গোপনীয়তা বজায় রেখেছেন, তবে শ্যামালান পরিবারের সঙ্গে টিভি সিরিজ ‘সার্ভ্যান্ট’ এবং ২০২৩ সালের ‘নক অ্যাট দ্য ক্যাবিন’‑এ সহযোগিতা করে হরর জঁরায় তার উপস্থিতি দৃঢ় করেছেন। তিনি স্বীকার করেন যে পটারের পর থেকে তার কাজের বেশিরভাগই হরর স্পেকট্রামের মধ্যে পড়ে, যা তাকে নতুন চ্যালেঞ্জের সন্ধান দেয়।
‘নাইটবর্ন’‑এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল পাপেটের ব্যবহার, যা গ্রিন্টের দৃষ্টিতে আধুনিক চলচ্চিত্রে বিরল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বার্গহলমের পূর্বের কাজ ‘হ্যাচিং’‑এ পাপেটের উপস্থিতি দেখে মুগ্ধ হন, যেখানে একটি ছোট মেয়ে একটি ডিম খুঁজে পায়। গ্রিন্ট বলেন, পাপেটের সঙ্গে কাজ করা তাকে সেটে আনন্দ দেয় এবং তিনি বলছেন, “আমি পটারের সময়ও কিছু পাপেটের সঙ্গে কাজ করেছি, তবে আজকাল অধিকাংশ নির্মাতা সিজিআই‑এর দিকে ঝুঁকেন, শারীরিক পাপেটের স্পর্শ কমে যায়।”
গ্রিন্টের মতে, পাপেটের ব্যবহার চলচ্চিত্রে বাস্তবিকতা এবং স্পর্শযোগ্যতা যোগ করে, যা দর্শকের অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করে। তিনি উল্লেখ করেন, “যখন ক্যামেরার সামনে শারীরিক কোনো বস্তু থাকে, তখন সেটের পরিবেশ আরও জীবন্ত হয়ে ওঠে।” এই দৃষ্টিভঙ্গি ‘নাইটবর্ন’‑এর কাহিনীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে পাপেটটি প্রধান প্রতিপক্ষের রূপে উপস্থিত হয় এবং গল্পের অন্ধকারময় পরিবেশকে আরও তীব্র করে।
ফিল্মের কাহিনী সাগা এবং তার ব্রিটিশ স্বামী জোনের একান্ত দ্বীপে স্থানান্তরের পর শুরু হয়। দুজনের সম্পর্কের জটিলতা এবং দ্বীপের বিচ্ছিন্নতা তাদেরকে অদ্ভুত ঘটনার মুখোমুখি করে, যেখানে পাপেটের মাধ্যমে প্রকাশিত অদ্ভুত সত্তা গল্পের মূল চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে। গ্রিন্টের চরিত্র জোন, তার স্বাভাবিক রসিকতা এবং দৃঢ়তা দিয়ে এই অদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবেলা করে, যা দর্শকদের জন্য নতুন ধরনের হরর অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
‘নাইটবর্ন’‑এর প্রচার গুডফেলাসা এজেন্সি বার্লিনে পরিচালনা করছে এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। গ্রিন্টের এই প্রকল্পে অংশগ্রহণ তার ক্যারিয়ারে একটি নতুন দিক উন্মোচন করে, যেখানে তিনি হরর এবং পাপেটের সমন্বয়কে নতুনভাবে উপস্থাপন করছেন। তার এই পছন্দ নতুন প্রজন্মের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্যও অনুপ্রেরণা হতে পারে, যারা সিজিআই‑এর পাশাপাশি শারীরিক উপাদানকে পুনরায় গুরুত্ব দিতে চান।
গ্রিন্টের পাপেটের প্রতি আকর্ষণ এবং ‘নাইটবর্ন’‑এর অনন্য কাহিনী চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য একটি সতেজ বাতাসের মতো। হরর জঁরায় তার ধারাবাহিকতা এবং শারীরিক পাপেটের ব্যবহারকে তিনি নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করছেন, যা ভবিষ্যতে আরও সৃজনশীল কাজের সম্ভাবনা তৈরি করবে।
চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহী পাঠকরা ‘নাইটবর্ন’‑এর ট্রেলার এবং প্রিভিউ দেখার মাধ্যমে পাপেটের নান্দনিকতা এবং হররের মিশ্রণ সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন। এছাড়া, গ্রিন্টের পূর্বের কাজগুলো পুনরায় দেখলে তার অভিনয় শৈলীর বিবর্তন স্পষ্ট হবে। নতুন হরর ফিল্মে পাপেটের ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করতে এবং নিজের মতামত শেয়ার করতে সামাজিক মিডিয়ায় হ্যাশট্যাগ #NightbornPuppets ব্যবহার করা যেতে পারে।
সর্বোপরি, রুপার্ট গ্রিন্টের ‘নাইটবর্ন’ প্রকল্প তার ক্যারিয়ারের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে, যেখানে হরর এবং পাপেটের সমন্বয় তাকে এবং দর্শকদের উভয়কে নতুন অভিজ্ঞতা প্রদান করবে। চলচ্চিত্রটি যদি আপনার পছন্দের তালিকায় না থাকে, তবে একবার দেখার জন্য সময় বের করুন; হয়তো পাপেটের জগতে ডুবে যাওয়া আপনার সিনেমা উপভোগের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেবে।



